জন্মছকে চন্দ্রের অবস্থান বদলে দিতে পারে ভাগ্যের চাকা, কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সকল প্রকার গ্রহ এবং নক্ষত্রের প্রভাব সরাসরি পড়ে যে কোনও রাশির জাতক জাতিকাদের জীবনের উপর। আর সেক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির মনের স্থান বিচার করা হয় জন্মছকে চন্দ্রের অবস্থান দ্বারা। এই ক্ষেত্রে যে সকল জাতকের চন্দ্রপক্ষ মজবুত হয় তাঁরা অগাধ আত্মবিশ্বাসের অধিকারী হয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে চন্দ্রের অবস্থান বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিবাহের দিকও বিচার করা হয়। তাই এই গ্রহের গুরুত্ব মানব জীবনে খুবই উল্লেখযোগ্য।

জন্মছকে চন্দ্রের অবস্থান
জ্যোতিষশাস্ত্রে, প্রতিটি গ্রহের একজন ব্যক্তির জীবনে প্রভাব রয়েছে। যখন কোনও জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে কোনও গ্রহ দুর্বল থাকে, তখন তার বিরূপ প্রভাব সেই জাতক জাতিকার জীবনে দেখা যায়। চন্দ্র গ্রহ সরাসরি প্রতিটি মানুষের মনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণে কোনও ব্যক্তির কুণ্ডলী অর্থাৎ জন্মছকে চন্দ্র দুর্বল অবস্থানে থাকলে তাঁর মনে নানা রকমের খারাপ ভাবনা অনুভূত হয় এবং সেই ব্যক্তি মানসিক রোগের শিকার হন। আবার কুণ্ডলী বা জন্মছকে চন্দ্রপক্ষ মজবুত হলে জাতক জাতিকার মনে কখনও খারাপ ভাবনা থাকেনা, এবং সেই ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী হন। সেইসঙ্গে সুখের হয় তাঁর বিবাহিত জীবনও।

দুর্বল চন্দ্রের লক্ষণ
কোনও জাতক জাতিকার জন্মকুণ্ডলীতে দুর্বল অবস্থায় থাকা চন্দ্র সেই জাতক বা জাতিকার স্বভাবকে দুর্বল করে দেয়। চন্দ্র দুর্বল হলে ছোটখাটো বিষয়ে মন খারাপ হতে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দ্রুত আবেগপ্রবণ হয়ে যান। ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়াও দুর্বল অবস্থানে থাকা চন্দ্রের লক্ষণ। কারও চন্দ্রপক্ষ দুর্বল হলে সেই ব্যক্তি সর্দি, কাশি এবং ঠান্ডা প্রবণ রোগে ভোগেন। সেইসঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে জন্মছকে দুর্বল স্থানে অবস্থিত চন্দ্রের জন্য কিছু প্রতিকার দেওয়া হয়েছে। যা করলে মানুষের মন ও মস্তিষ্ক শক্তিশালী হয়।

চন্দ্রপক্ষ মজবুত করার উপায়
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী চন্দ্রকে মজবুত করার কিছু নিয়ম বলা হয়েছে, যা করলে জন্মছকের দুর্বল চন্দ্র শক্তশালী হয়। নিয়মিত বটগাছের গোরায় জল দিয়ে পুজো করা উচিৎ। কোনও জ্যোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী মুক্তো ধারণ করা যেতে পারে।
চাঁদকে শক্তিশালী করার জন্য রূপার ব্রেসলেট, আংটি, রূপার চেইন বা রূপার বালাও পরতে পারেন। যাঁদের কুণ্ডলীতে চন্দ্র দুর্বল তাদের গভীর রাত জাগা উচিত নয়। পূর্ণিমার দিনে ভগবান শিবকে রাবড়ি নিবেদন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

দুর্বল চন্দ্র ঠিক করার উপায়
বাড়ি তৈরির সময় মাটির মধ্যে সামান্য রূপার টুকরো রাখলে চন্দ্রপক্ষ মজবুত হয়। বিশ্বাস করা হয় যে খাটের চার পায়ে বা যে বিছানায় ঘুমানো হয় তার উপর রূপার পেরেক লাগালেও উপকার পাওয়া যায়। মায়ের পক্ষ থেকে অর্থাৎ মা, মামার কিনে দেওয়া রূপার পাত্র এক্ষেত্রে খুব উপকারী। সাদা বর্ণের জিনিস যেমন জল, দুধ, ভাত দান করা শুভ। সোমবার কুমারী মেয়েদের ক্ষীর খাওয়ানো খুব শুভ। এতে জন্মছকে চন্দ্রের শক্তি বৃদ্ধি পায়।












Click it and Unblock the Notifications