পৌষ পূর্ণিমা ও সোমবারের যোগ, নদীতে স্নান সেরে অবশ্যই করুন এই কাজগুলি
পৌষ পূর্ণিমার সময় ও তারিখ
সোমবার, ১৭ জানুয়ারি পৌষ মাসের শেষ তিথির পূর্ণিমা। একে শাকম্ভরী পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। এদিন থেকে মাঘ মাসের স্নান শুরু হয়ে যাবে। সোমবার আর পূর্ণিমার এই যোগে শিব পুজো ও চাঁদের পুজো অবশ্যই করবেন। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমাকে বলা হয় পৌষ পূর্ণিমা। শাস্ত্রে, পৌষ পূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিন ভক্তরা পবিত্র নদীতে স্নান করলে পূর্ণিমা অর্জন করা সম্ভব, এমনই রীতি প্রচলিত।

এদিন পবিত্র নদীতে স্নান করেন ভক্তরা
জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, পৌষ মাসের পূর্ণিমা থেকে মাঘ মাসের স্নান শুরু হয়ে যাবে। এইদিন দেশের সমস্ত পবিত্র নদীর তীরে ভক্তরা স্নানের জন্য পৌঁছবেন। নদীতে স্নানের পর অভাবীদের মধ্যে টাকা ও শস্য দান করুন। বিশ্বাস করা হয় যে এই পূর্ণিমায় দান ও শুভ কাজ করলে অক্ষয় পুণ্য প্রাপ্তি হয়।

শিবের পুজো অবশ্যই করবেন
সোমবার পূর্ণিমা হওয়ার দরুণ এদিন শিবের বিশেষ পুজো অবশ্যই করুন। শিবলঙ্গে তামার ঘটিতে জল নিয়ে নিবেদন করুন। জল খুব পাতলা ধারায় শিবের ওপর ঢালুন এবং ওম নমঃ শিবায় নমঃ মন্ত্রের জপ করুন। রূপোর ঘটিতে দুধ নিয়ে শিবলিঙ্গে চড়ান। পঞ্চমৃত অর্পণ করুন এবং এরপর পবিত্র জল নিবেদন করুন। চন্দনের তিলক পরান। ফুলের মালা দিয়ে শিবলিঙ্গকে সাজিয়ে তুলুন। পুজোর সব সামগ্রী অর্পন করুন। মিষ্টির ভোগ নিবেদন করুন। ধুপ-প্রদীপ জ্বালান। আরতি করুন। পুজোর সময় না জেনে করে ফেলা ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন। পুজোর সময় অন্য ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করুন ও নিজেও সেই প্রসাদ খান।

চাঁদের পুজো করুন
পূর্ণিমার সময় ভগবান সত্যনারায়ণের কথা পড়া ও শোনা খুব পুরনো প্রচলিত প্রথা। পূর্ণিমার সময় চন্দ্রদেবের পুজো করুন। সূর্যাস্তের পর চাঁদ উঠলে রূপোর ঘটিতে করে চাঁদকে অর্ঘ্য অর্পণ করুন আর সো সোমায় নমঃ মন্ত্রের জপ করুন। কোনও অভাবী মানুষকে কম্বল ও শস্য দান করবেন। কোনও গোয়ালঘরে অর্থ ও সবুজ ঘাস দান করুন।

পৌষ পূর্ণিমার সময়
শাস্ত্র মতে, এবছর পৌষ পূর্ণিমা ব্রত পালিত হবে ১৭ জানুয়ারি। পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ১৭ জানুয়ারি ভোর ৩.১৮ মিনিটে। আর শেষ হচ্ছে ১৮ জানুয়ারি ৫.১৭ মিনিটে। পূর্ণিমার শুভ তিথিতে পূণ্য অর্জনের জন্য যে কোনও পবিত্র নদীতে স্নান করে ব্রত পালন করেন অনেকে।

পৌষ পূর্ণিমার তাৎপর্য
পৌষ পূর্ণিমার পর মাঘ মাস শুরু হয়। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বৃহত্তর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। উত্তর প্রদেশের কাশী, ত্রিবণী সঙ্গম এবং হরিদ্বারা ভক্তদের পূণ্য স্নান করতে দেখা যায়। এদিন হাজার হাজার ভক্তরা গঙ্গা ও যমুনা নদীতে স্নান করেন। পুরাণ অনুসারে, পৌষ পূর্ণিমার দেবী শাকম্ভরী পুজিত হন। ইনি দেবী দুর্গার অবতার। তিনিই খরা দূর করেছিলেন। তিনি উদ্ভিদের দেবী হিসেবেও পুজিত হন। এই পৌষ পূর্ণিমার তিথি উৎসর্গ করা হয় দেবী শাকম্ভরীকে। এদিন দেবীর উপাসনা করলে সকল মনষ্কামনা পূরণ হয়। দূর হয় জীবনের সকল প্রতিবন্ধকতা। তাই নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে এদিন ব্রত পালন করুন। এতে সকল কাজে সফল হবেন।












Click it and Unblock the Notifications