গ্রহণ চলাকালীন কি প্রভাব জানেন পড়ছে আপনার শরীরে? জানলে আশ্চর্য হবেনই
গ্রহণ চলাকালীন জানেন কী প্রভাব পড়ছে আপনার শরীরে? জানলে আশ্চর্য হবেনই
এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলছে বিশ্ব! বছরের শেষ গ্রহণ দেখবে সাধারণ মানুষ। ৫৮০ বছর পর দীর্ঘ সময় ধরে চলবে এই গ্রহণ। যদিও ভারতের কিছু অংশে এই গ্রহণ আংশিক গ্রহন দেখা যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ শতকের মধ্যে এটা দীর্ঘতম গ্রহণ হতে চলেছে। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিট থেকে এই গ্রহন শুরু হয়ে গিয়েছে। শেষ হবে বিকেল ৪টে ১৭ মিনিটে। আর গ্রহণকে ঘিরে রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে একগুচ্ছ বিশ্বাস-ধারণা। যদিও বিজ্ঞান বলে সবটাই কুসংস্কার। তবুও মানুষের বিশ্বাস দিনের পর দিন চলে আসছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র বলছে, গ্রহণ চলাকালীন রাশিতে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। এমনকি মানুষের শরীর স্বাস্থ্যের উপর কিছু প্রভাব পড়ে বলেও মত জ্যোতিষ শাস্ত্রে। পড়লেও সেগুলি কি?

স্কিনের উপর প্রভাব!
গ্রহণ ঘিরে একগুচ্ছ বিশ্বাস রয়েছে। বিশ্বাস গ্রহণ চলাকালীন নাকি শরীরে একগুচ্ছ পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে স্কিনের উপর নাকি ব্যাপক প্রভাব পড়ে, প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলিতে এমনটাই বলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনেরে চর্ম রোগ বাড়তে পারে এই সময়। বিশ্বাস করা হয় গ্রহণ চলাকালীন, পেশির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয়। রোগ প্রতরোধ ক্ষমতায় তারতম্য দেখা দিতে পারে। আর এর ফলে শরীরে চর্মরোগ হতে পারে। এমনটাই বিশ্বাস চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

ক্ষতি হতে পারে চোখের
যদিও সূর্যগ্রহনের মতো এতটাও ক্ষতিকর নয় চন্দ্র গ্রহণ। তবুও গ্রহণ ঘিরে বেশ কিছু বিশ্বাস আছে। সেই বিশ্বাস বলছে গ্রহণের সময়ে বের হওয়া জ্যোতির কারণে চোখের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে গ্রহণ দেখার সময়ে অবশ্যই বিশেষ ধরনের চশমা পড়া উচিৎ।

হজমের সমস্যা হতে পারে
পুরানো ধারণা অনুযায়ী গ্রহণের সময়ে আগে থেকে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিৎ না। মনে করা হয়, এই সময়ে যে ক্ষতিকারক রশ্মি নির্গত হয় তা খাবারকে নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি পানীয় নষ্ট করে দিতে পারে। যার ফলে হজমে সমস্যা হতে পারে।

প্রভাব পড়তে পারে ঋতুচক্রে!
কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও মনে করা হয় চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে মহিলাদের ঋতুচক্রের সম্পর্ক রয়েছে। মহিলাদের ঋতুচক্র হয় ২৮ দিনে। আর চাঁদের হিসেব অনুযায়ী, ২৯.৫ দিনে। তাই এর সঙ্গে বিশেষ কোনও সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। তবে বিশেষ কোনও বৈজ্ঞানিক ধারণা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস চলে আসছে।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্যে বিশেষ সতর্কতা!
পৌরাণিক যুগ থেকেই গ্রহণ (চন্দ্র ও সূর্য উভয়) গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর এটা মেনে আসা হয়েছে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য যাতে ভালো থাকে তার জন্য গ্রহণের সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া হত। সবচেয়ে প্রচলিত বিশ্বাস হল গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলারা কোনওভাবেই যেন বাড়ির বাইরে না বের হন তাতে তাঁদের গর্ভে থাকা শিশুর ক্ষতি হতে পারে এমনকী সময়ের আগেই প্রসব হতে পারে। অনেকে এটাও বিশ্বাস করেন যে গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের ঘুমোতে ও খেতে বা কোনও পানীয় পান করতে নেই, এতে তাঁদের গর্ভে থাকা শিশুর ক্ষতি হতে পারে। এই প্রচলিত বিশ্বাস কি সত্যি? আসলে ভারতীয় সংস্কৃতির গভীর শিকড়ে এই প্রচলিত বিশ্বাসগুলি প্রবেশ করে ফেলেছে, কিন্তু এই দাবীর পেছনে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

সত্যিই কি স্বাস্থ্য প্রভাব ফেলে
লাখ টাকার প্রশ্ন এটাই যে চন্দ্রগ্রহণ কি সত্যিই শরীরের উপর কোনও প্রভাব ফেলে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত তাঁরা হাতে পাননি। তবে জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা রয়েছে। আর সেই বিশ্বাস দিনের পর দিন চলে আসছে। কার্যত মানুষের মধ্যে গেথে গিয়েছে। আর তা বের হচ্ছে না। এর পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক ধারণা নেই। সবটাই বিশ্বাস।












Click it and Unblock the Notifications