Grahan 2023: গ্রহণের সঙ্গে ভূমিকম্প-বন্যার কি সম্পর্ক রয়েছে, কী বলছেন জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা
Grahan 2023: জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যগ্রহন ও চন্দ্রগ্রহণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যদিও কোনোও গ্রহণকে শুভ বলে মনে করা হয় না। প্রত্যেক বছর মোট চারটি গ্রহণ ঘটে, দুটি সূর্যগ্রহণ এবং দুটি চন্দ্রগ্রহণ।
চলতি বছর ১৫ দিনের ব্যবধানে পড়েছে দুই গ্রহণ। অর্থাৎ বছরের শেষ ও দ্বিতীয় সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। চলতি মাসেই ৩০ অক্টোবর রাহু ও কেতু তার স্থান পরিবর্তন করতে চলেছে। ১৪ অক্টোবর শনিবার সর্বপিতৃ অমাবস্যার দিন সূর্যগ্রহণ ঘটবে, অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ ঘটবে চন্দ্রগ্রহণ।

- জানুন সূর্যগ্রহণের সময়
১৪ অক্টোবর রাত ৮:৩৪ মিনিট থেকে শুরু হবে সূর্যগ্রহণ, যা শেষ হবে দুটো ২৫ মিনিটে।গ্রহণের সূতক কাল বিবেচিত হবে না, কন্যা রাশি ও চিত্রার নক্ষত্রে এই সূর্য গ্রহণ ঘটবে। শারদ পূর্ণিমায় ঘটতে চলেছে সূর্যগ্রহণ।
- ক্ষীর কি খোলা আকাশের নীচে রাখতে পারবেন
শারদ পূর্ণিমা উৎসব শুরু হতে চলেছে। ভারত থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। তাই এসময় সূতক কাল বৈধ হবে না। কিন্তু চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে, তাই এখানে সূতক সময় বৈধ হবে। শারদ পূর্ণিমা পালিত হবে ২৮ অক্টোবর। এবারও কিন্তু আপনি খোলা আকাশের নীচে ক্ষীর রাখতে পারবেন। তবে ক্ষীর রাখতে গেলে আপনাদের কুশ বা তুলসী পাতা দিয়ে রাখতে হবে।
- কেন এই বছর হল ভূমিকম্প বা বন্যা
গ্রহণের আগে বা পরে ভূমিকম্প হয়, কিন্তু কেন হয় জানেন? জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনও বছর ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি গ্রহণ ঘটে, সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণ তাহলে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বন্যার পরিস্থিতিও হয়। তাই জন্যই সিকিমে বন্যা হয়েছে। কারণ চলতি বছরই ১৫ দিনের ব্যবধানে সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। সূর্য এবং চন্দ্র এরা একে অপরের কাছাকাছি এলে ঝড়, ভূমিকম্প, ঝড়-বৃষ্টি বন্যা ভূমিকম্পের মতন বিপর্যয় ঘটে তবে এখানেই শেষ নয় ঘটতে পারে আরো বড় কোনও বিপর্যয়।
- কবে স্থান পরিবর্তন করবে রাহু ও কেতু
দেড় বছর পর রাহুকে তার স্থান পরিবর্তন করতে চলেছে। চন্দ্রগ্রহণের ঠিক দুদিন পর অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর রাহু মেষ রাশি থেকে বেরিয়ে মীন রাশিতে প্রবেশ করবে। সেই সঙ্গে কেতু গ্রহ তুলা থেকে বেরিয়ে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করবে। রাহু-কেতু দুজনেই বিপরীতমুখী অবস্থায় প্রবেশ করবে। ৩০ অক্টোবর রাহু-কেতুর কারণে বারো রাশির উপর বিশেষ প্রভাব পড়বে।
- সূর্যগ্রহণ কোথা থেকে দেখা যাবে
১৪ অক্টোবর বছরের শেষ এবং দ্বিতীয় সূর্য গ্রহন ঘটবে। তবে সূর্য গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না। উত্তর আমেরিকা, কানাডা, মেস্কিকো, আর্জেন্টিনা, কলোম্বিয়া, পেরু, উরুগুয়ে, জামাইকা, হাইতি, ব্রাজিল, উত্তর আমেরিকার কিছু অংশের থেকে দৃশ্যমান হবে এই গ্রহণ।
- কেন বন্ধ থাকে মন্দিরের দরজা
জ্যোতিষশাস্ত্রে, কোনও গ্রহণকেই শুভ বলে মনে করা হয় না। সূতক সময়ে সূর্য গ্রহনের ১২ ঘন্টা আগে থেকেই শুরু হবে। বলা হয়, সূতককালে কিন্তু পুজো করা যায় না। এসময় ঈশ্বরের মূর্তি একদমই স্পর্শ করা উচিত নয়। সমস্ত মন্দিরের দরজা তাই বন্ধ থাকে। যেহেতু চলতি বছর দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে বৈধ হবে না।
- চন্দ্রগ্রহণ কোথা থেকে দৃশ্যমান হবে
বছরের শেষ এবং দ্বিতীয় দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ ২৮ অক্টোবর মাঝরাতে। ২৯ অক্টোবর দুপুরে একটা পাঁচ মিনিট থেকে শুরু হবে গ্রহণ যা চলবে দুটো চব্বিশ মিনিট পর্যন্ত। সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে। তাই সূতক সময়ও কিন্তু এসময় বৈধ হবে। ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, উত্তর-পূর্ব দক্ষিণ আমেরিকা, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, আন্টার্টিকা থেকে দৃশ্যমান হবে চন্দ্রগ্রহণ। এই চন্দ্রগ্রহণ কন্যা এবং অশ্বিনী নক্ষত্রে।
- সূর্যগ্রহণের অশুভ প্রভাব কাদের ওপর পড়বে
জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যগ্রহণ দেখা না গেলেও সমস্ত রাশিকেই কিন্তু বিশেষভাবে প্রভাবিত করবে। এই গ্রহণ এই সময় কিছু রাশির খুব সতর্ক থাকা দরকার। যেমন- মেষ, কর্কট, তুলা, মকর তাদের আর্থিক দিকে ক্ষতি হবে। শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- চন্দ্রগ্রহণের অশুভ প্রভাব কাদের ওপর পড়বে
গ্রহণের বিশেষ প্রভাব এবং অশুভ প্রভাব পড়বে বৃষ, কন্যা, মকর এই রাশির ব্যক্তিদের উপর। তবে চন্দ্রগ্রহণের শুভ প্রভাব পড়বে মিথুন, কর্কট, কুম্ভ রাশির ব্যক্তিদের ওপর। এসময় তাদের আর্থিক দিকে খুব উন্নতি হবে। জীবনে লেগে থাকবে সফলতাও।
(এই সকল তথ্য জ্যোতিষ নির্ভর, সকলের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নাও হতে পারে)












Click it and Unblock the Notifications