হোলির পাঁচদিন পর পালিত হয় রঙ পঞ্চমী, কবে এই উৎসব, কী এর মাহাত্ম্য জেনে নিন এক ঝলকে
হোলির পাঁচদিন পর পালিত হয় রঙ পঞ্চমী, কবে এই উৎসব, কী এর মাহাত্ম্য জেনে নিন এক ঝলকে
হিন্দুদের উৎসব পালনের অজুহাত চাই। তাই প্রত্যেক মাসেই উৎসব মুখরিত হয়ে ওঠে এই দেশ। সবেমাত্র শেষ হয়েছে দেশজুড়ে হোলি ও দোলের উৎসব, যা চৈত্র মাসের প্রতিপদ তিথিতে পালন করা হয় এবং হোলির পাঁচদিন পর রঙ পঞ্চমী পর্ব ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়। চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশ সহ অনেক রাজ্যে এই উৎসব পালিত হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের রঙ পঞ্চমী দেশজুড়ে খুবই প্রসিদ্ধ।

মধ্যপ্রদেশে রঙ পঞ্চমী
রঙ পঞ্চমীর দিনে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। আর আকাশে ওড়ানো হয় প্রচুর আবির। আবির ও রঙ ওড়ানোর এ দৃশ্য দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। এ বছর ২২ মার্চ মঙ্গলবার পালিত হবে রঙ পঞ্চমী। চলুন জেনে নিই রঙ পঞ্চমীর গুরুত্ব এবং এই দিনটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ কিছু বিষয়।

রঙ পঞ্চমীর মাহাত্ম্য
হোলির মাত্র পাঁচ দিন পরেই পালিত হয় রঙ পঞ্চমীর উৎসব। এদিন আকাশে ওড়ানো হয় আবির ও গুলাল। তাই এটি রঙ পঞ্চমী নামে পরিচিত। ওই দিন দেবতাদের উদ্দেশ্যে আবীর নিবেদন করা হয়। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে দেবতারা রঙিন আবীরের সৌন্দর্য দেখে প্রসন্ন হন এবং পরিবেশকে ইতিবাচক করে তোলেন। আকাশে নিক্ষিপ্ত আবীর যদি মানুষের উপর আবার পড়ে তাহলে তা ব্যক্তির প্রতিহিংসাপরায়ণ ও রাজসিক গুণ নষ্ট করে। বলা হয় তার মধ্যে নেতিবাচকতা বিনষ্ট হয় এবং সাত্ত্বিক গুণাবলী বৃদ্ধি পায়।

এইদিন রাধা–কৃষ্ণের পুজো করা হয়
রাধা-কৃষ্ণের পুজো করা হয় রঙ পঞ্চমীর দিনে। তাকে আবির ও রঙ নিবেদন করা হয়। এমনটাও বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে ব্যক্তির কুণ্ডলী থেকে বড় বড় দোষও দূর হয়ে যায়। আর ভালোবাসা থাকে জীবনে। শুধু তাই নয়, এই দিনে দেবী লক্ষ্মী ও শ্রী হরিকে পুজো করার বিধান রয়েছে। তাই অনেক জায়গায় এটি শ্রী পঞ্চমী নামেও পরিচিত।

রঙ পঞ্চমীর পুজো বিধি
রঙ পঞ্চমীর দিন পুজো করতে হলে উত্তর দিশায় চৌকিতে রাধা কৃষ্ণ বা লক্ষ্মী নারায়ণের ছবি রাখুন। একটি তামার ঘটে জল ভরে রাখুন এবং তারপর রোলি, চন্দন, চাল, গোলাপ ফুল, ক্ষীর, পঞ্চামৃত, গুড়, ছোলা ইত্যাদি নিবেদন করুন। এর পর প্রভুকে আবির অর্পণ করুন। স্ফটিকের মালা বা পদ্মের মালা দিয়ে আসনে বসে 'ওম শ্রী শ্রীয়ে নমঃ' মন্ত্র জপ করা শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর পরে, আরতি করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন, দুঃখ এবং ঝামেলা দূর করুন। ঘটে রাখা জল ঘরে ছিটিয়ে দিন। বিশেষ করে ঘরের লকার বা টাকার জায়গায় ছড়িয়ে দিন, এতে অর্থাভাব দূর হয়।












Click it and Unblock the Notifications