এই ব্রত করলে সব পাপ নাশ হবে, ভক্তের মোক্ষ লাভ হবে
উৎপন্না ব্রতের বিষয়ে জানুন সব তথ্য
হিন্দু ধর্মে কিছু ব্রত ও উৎসবকে খুব বেশি মাহাত্ম্য দেওয়া হয়েছে। এই ব্রত কেবলমাত্র ব্যক্তির জীবনকে উন্নত করে তা নয়, ব্যক্তির মৃত্যুর পরও কাজে আসে। এই ব্রত তাঁর পাপকে নাশ করে এবং নরকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। উৎপন্ন একাদশীও এমন একটি ব্রত। ভগবান বিষ্ণুকে সমর্পিত করা একাদশীরর মধ্যে উৎপন্ন একাদশীকে খুব গুরুত্ব বলে মানা হয়েছে। উৎপন্না একাদশী মার্গশীর্ষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী নামে পরিচিত। এই বছর উৎপন্ন একাদশী ৩০ নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবারে পালন করা হবে। প্রতি বছর কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের এগারোতম দিনে পালিত হয় এই উৎসব।

বিষ্ণুর শরীর থেকে আবির্ভুত হন দেবী একাদশী
প্রতিবছর মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের ১১তম দিনে পড়ে উৎপন্না একাদশী তিথি। প্রচলিত আছে, এই দিন বিষ্ণুর শরীর থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী একাদশী। এই একাদশীর ঠিক ১৫ দিন পরে পালিত হয় উৎপন্না একাদশী। এ বছর উৎপন্না একাদশী পালিত হবে ৩০ নভেম্বর। এদিন শ্রী বিষ্ণুর ভক্তরা একাদশীর ব্রত পালন করে থাকেন। এদিন উপবাস করে ভক্তরা শ্রী বিষ্ণুর পুজো করেন

বৈকুন্ঠে স্থান মিলবে
বিশ্বাস করা হয় যে উৎপন্না একাদশীর ব্রত রাখলে যিনি ব্রত রাখেন তাঁর মৃত্যুর পর বৈকুন্ঠে স্থান হয়। এই ব্রত করলে তাঁর সব পাপ নষ্ট হয়ে যায়। এই ব্রত যিনি রাখেন সেই ভক্তের ওপর ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ কৃপা হয়। এছাড়াও ভক্তের সব মনোবাঞ্ছাও পূরণ হয়। কথিত আছে, উৎপন্ন একাদশীর উপবাস করলে এক হাজার বাজপেয় ও অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও, এই ব্রত সমস্ত তীর্থযাত্রা করার মতো একই ফল দেয়। উৎপন্ন একাদশীর দিনে দান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে দান করলে এক লক্ষ গুণ বেশি ফল পাওয়া যায়।

উৎপন্না একাদশী ব্রতের পুজো বিধি
দশমীর সূর্যাস্তের একদিন আগে উৎপন্ন একাদশীর উপবাস শুরু হয়। ব্রত যাঁরা করছেন তাঁদের সূর্যাস্তের পর কিছু খাওয়া বা পান করা উচিত নয়। এই ব্রত করা উত্তম। একাদশীতে নির্জল থাকার পর দ্বাদশীতে উপবাস ভঙ্গ হয়। উৎপন্ন একাদশীর দিন সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করুন। এর পরে, ভগবান বিষ্ণুকে প্রণাম করে উপবাসের ব্রত নিন। সূর্যকে জল নিবেদন করুন। অন্যদিকে বিষ্ণুর পুজোয় হলুদ ফুল, হলুদ ফল, ধূপ, প্রদীপ, তুলসি, ডাল অর্পণ করুন। সন্ধ্যায় আরতি করবেন।

পুজোর সময়
দক্ষিণ ভারত মূলত তামিলনাড়ু, কেরলের মতো জায়গায় উৎপন্না একাদশী পালনের রীতি আছে। তামিল ক্যালেন্ডার অনুসারে কার্তিক মাসে পালিত হয় উৎপন্না একাদশী। তেমনই, মালায়লাম ক্যালেন্ডার অনুসারে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পালিত হয় উৎপন্না একাদশী। এ বছর উৎপন্না একাদশী পালিত হবে ৩০ নভেম্বর। ৩০ নভেম্বর ভোর ৪.১৩ মিনিটে পড়ছে। আর শেষ হবে ১ ডিসেম্বর সকাল ২.১৩ মিনিটে। সংসারের সুখ, শান্তি বজায় রাখতে, দাসত্ব মুক্তি, বন্ধন মুক্তির আশায় ও স্বাধীনতা লাভের আশায় পালিত হয় এই পুজো।












Click it and Unblock the Notifications