রাত পোহালেই মহালয়া, কেন এই দিনেই হয় তর্পণ জেনে নিন বিস্তারিত
রাত পোহালেই মহালয়া, কেন এই দিনেই হয় তর্পণ জেনে নিন বিস্তারিত
রাত পোহালেই মহালয়া। বাজবে আগমনীর সুর। কাকভোরে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ। আর গঙ্গার ঘাটে পিতৃ তর্পণ এই নিয়ে মহালয়া। শুরু হয়ে যাবে দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। কেন বেচে বেছে মহালয়ার দিনেই তর্পণ করা হয় তার একটা বিস্তারিত কারণ আছে। আবার তর্পণেরও কতগুলি সুনির্দিষ্ট উপকরণ রয়েছে। সেগুলি না হলে তর্পণ করা যায় না।

তর্পণ আসলে কী
মহালয়ার দিনেই তর্পণ করা হয়। তর্পণ অর্থাৎ পিতৃপুরুষকে জলদান করা। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করা। তর্পণ কথাটি এসেছে তৃপ শব্দ থেকে। যার অর্থ হল সন্তুষ্ট করা। মহালয়ার দিনেই তর্পণ করা হয় কারণ এই বিশেষ দিনটিতেই পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবী পক্ষের সূচনা হয়। সেকরাণেই এই দিনটিকে পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় জলদান করা হয়। মহালয়ার অমাবস্যায় অনেকেই তন্ত্রসাধনা করে থাকেন।

কি কি প্রয়োজন হয় তর্পণের জন্য
মহালয়ার দিন তর্পণ করতে কয়েকটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রয়োজন হয়। যেমন মন্ত্র পাঠের জন্য গঙ্গা জল, চন্দন,
কালো তিল এবং কুশ, তুলসীপাতা, হরিতকী, চাল, দূর্বা এই কয়েকটি জিনিসের অত্যন্ত প্রয়োজন হয়। অনেকেই পুরোহিতের সাহায্য নেন তর্পণ করার জন্য। আবার সেটা না করে অনেকে নিজেই পিতৃ তর্পণ করে থাকেন। নদী বা পুকুরের ধারে তর্পণ করা হয়। তবে নদী সবচেয়ে ভাল। সেকারণেই মহালয়ার দিন গঙ্গার ঘাটে বেশি ভিড় দেখা যায়।

কীভাবে করা হয় তর্পণ
যে ব্যক্তি পিতৃ তর্পণ করবেন তাঁকে ভোর বেলায় সূর্যোদয়ের সময়ে পূর্বদিকে মুখ করে নাভি পর্যন্ত জলে ডুবে দাঁড়াতে হয়। তারপর পৈতে বাম কাঁধে রেখে জল বা মাটি দিয়ে তিলক ধারন করতে হয়। তর্পণের শুরুতে আচমন ও বিষ্ণু মন্ত্র স্মরণ করতে হবে। হাতজোর করে তিনবার বিষ্ণুকে স্মরণ করতে হবে। সেটা মিটলে নিজের নিজের বেদ অনুসারে তিনবার করে মন্ত্র পড়তে হবে এবং তিনবার জল দান করতে হবে। পিতৃ তর্পণ করার সময় ৬টি কুশ একসঙ্গে করে ৩টি কুশ নিয়ে অনামিকাতে আংটির আকারে ধারন করতে হবে। তারপর তর্পণ করতে হবে। তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠের মধ্যভাগ উপবীতকে দক্ষিণ স্কন্ধে ঝুলিয়ে দিয়ে তিল সহ জল দান করতে হবে। প্রথমে দেব তর্পণ, তারপর মনুষ্য তর্পণ, ঋষি তর্পণ, দিব্য তর্পণ, যম তর্পণ এবং শেষে পিতৃ তর্পণ। স্বর্গের পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণের মাধ্যমে জলদান করেই পিতৃপুরুষের অবসান হয় এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। তর্পণের আগের দিনে তিনপুরুষের নামে পিন্ড দান করা হয়ে থাকে। পিতৃপুরুষকে তর্পণের সময় যেন বৃষ্টির জল তাতে না মেশে সেকথা মাথায় রাখতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications