সহস্রধারা স্নানের পর ১৫ দিন বন্ধ থাকে জগন্নাথের গর্ভগৃহ, কিন্তু কেন
আষাঢ় মাস মানেই রথযাত্রা। জগন্নাথের স্নান যাত্রার পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয় রথ যাত্রার। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লাপক্ষে সময় আয়োজিত হয় রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রার ১১ দিন পর উল্টো রথের মাধ্যমে এই যাত্রা শেষ হয়। চলতি বছর ২০ জুন রথযাত্রা উৎসব পালিত হবে।
প্রতি বছর আচার অনুষ্ঠান মেনেই জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রকে স্নান করানো হয়। বলা হয় এই তিথিতেই মর্ত্যে আবিভাব হয়েছিল জগন্নাথ দেবের। জৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভু যজ্ঞের প্রভাবে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব হয়েছিল। এই তিথিকে জগন্নাথ দেবের জন্মদিন হিসেবেও পালন করাও হয়।

জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার দিন ১০৮ ঘড়া জল, দেড় মণ দুধ দিয়ে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে স্নান করানোর প্রথা আছে। তারপর ১৫ দিন বন্ধ থাকে মন্দিরের গর্ভগৃহ। এই স্নান সহস্রধারাস্নান নামে পরিচিত। স্নান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা। তাই এই সময়ে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়। বাইরে থেকে মন্দিরের দরজা খোলা হয় না। এসময় কোনও দর্শনার্থী দেবতাকে দর্শন করতে পারেন না।
কথিত আছে, এই সময় মন্দিরের ঘন্টা বাজানো, উলুধ্বনি পর্যন্ত দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয় রীতি অনুযায়ী স্নানের পর মহাপ্রভুর জ্বর আসে। বিভিন্ন জায়গার বৈদ্যরা এসে প্রভুর চিকিৎসা করা করেন এবং পাচন সেবন করান। তারপরেই নাকি তিনি সুস্থ হন। জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরাম সুস্থ হবার পর পালিত হয় রথযাত্রা। অসুস্থ অবস্থায় যখন দেবতারা থাকে তখন তাদের আয়ুর্বেদি পাচনের মাধ্যমে সুস্থ করা হয়। যখন তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান, তখনই তাদের দেবতাকে আবারও দর্শন করতে পারেন ভক্তরা এবং বিশাল রথযাত্রারও আয়োজন করা হয়।

দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ এই রথযাত্রায় আসেন। উড়িষ্যার পুরীর জগন্নাথ মন্দির ভারতের চারটি পবিত্র মন্দিরের মধ্যে একটি। এখানে জগন্নাথ দেবকে শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথ নামে পূজা করা হয়। তার বড় ভাই বলরাম এবং সুভদ্রাও একই সঙ্গে পুজিত হন। এই মন্দিরের দেব দেবীদের মূর্তি কিন্তু কাঠের তৈরি। পুরীতে ১২ বছর অন্তর দেবতার বিগ্রহ তৈরি হয়। সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নানা রকম পদ রান্না করে নিবেদন করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications