গণেশের মাথায় কেন বসেছিল হাতির মুখ, কেনই বা ইঁদুর হল বাহন! পৌরাণিক কাহিনি একনজরে
গণেশের মাথায় কেন বসেছিল হাতির মুখ, কেনই বা ইঁদুর হল বাহন! পৌরাণিক কাহিনি একনজরে
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে সারা দেশে ধুমধাম সহকারে পালিত হতে চলেছে গণেশ চতুর্থী। গোটা দেশে এই সিদ্ধিদাতার পুজো নিয়ে বহু ধরনের উন্মাদনা উৎসাহ প্রতিবারই দেখা যায়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে তা খানিকটা উধাও। একদন্ত থেকে লম্বউদর এমন বহু নামে গণেশ পরিচিত রয়েছেন। তবে এই নামগুলি মূলত গণেশের চেহেরাকে কেন্দ্র করে এসেছে। দেবতা গণেশের মুখ হাতির মুখের সামিল। কেন এমনটা হয়েছিল? পৌরাণিক মতে গণেশের মুখের গড়ন এমন হওয়ার নেপথ্যের কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক।

পার্বতীর হাতে নির্মিত মূর্তি ও গণেশ
পার্বতী একবার হলুদ গুঁড়ো দিয়ে একটি মূর্তি তৈরি করেছিলেন স্বর্গলোকে। নেদর মনের মতো করে সেটিকে সাজিয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট বালকের রূপের এই মূর্তি তৈরি করে হতবাত পার্বতী নিজেই এঅই মূর্তির রূপে মুগ্ধ হন। এরপর তিনি মূর্তিকে জাগ্রত করতে তাতে প্রাণের সঞ্চার করেন দৈববলে। এরপর মনের মতো এক সন্তান লাভের আশায় থাকা পার্বতী সেই ছোট্ট বালককে আপন সন্তান হিসাবে প্রতিপালন করতে থাকেন। নাম দেন গণেশ। তবে এই সন্তানের বিষয়ে জানতেন না শিব। এরপর শিব গৃহে ঢোকার সময় এমন বালককে দেখে অবাক হন। জিজ্ঞাসা করতেই বালক জবাব দেয় তাঁর মা পার্বতীর আদেশ ছাড়া এই বাড়িতে কেই প্রবেশ করতে পরবে না। এমন আদেশ রয়েছে পার্বতীর। শুনেই শিব প্রবল রেগে যান। এদিকে,ততক্ষণে স্নানে মগ্ন পার্বতী গণেশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যতক্ষণ স্নান করবেন ,ততক্ষণ যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে ঘরে। অন্যদিকে শিব এই কথা শুনেই ক্ষিপ্ত হন।

শিবের হাতে মুণ্ডচ্ছেদ!
এরপর ছোট্ট শিশুর তেজ দেখে হতবাক শিব, রেগে যান প্রবল। তখনই গণেশের মুণ্ড তিনি ছেদ করে দেন। কথিত রয়েছে, এরপর পার্বতী কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্তানকে ফিরে পেতে তিনি বদ্ধপরিকর হন। পার্বতীর এই রূপ দেথে হতবাক শিব তখনই ছুটে যান জঙ্গলে। শোনা যায়, সেই সময় জঙ্গলে যে জন্তুকে প্রথমে দেখা যাবে,সেই জন্তুর মুণ্ডচ্ছেদ করে তার মাথা গণেশের মাথায় বসানো হবে বলে স্থির হয়। আর সেই মতো জঙ্গলে প্রথমে হাতিকে দেখতে পেয়ে শিব তারই মাথা বসিয়ে দেন গণেশের মাথায়। তারপর থেকেই হাতির মাথা পান গণেশ।

কেন ইঁদুরই বাহন?
কোনও কাজে বাধা এলেই ভক্ত গণেশের স্মরণাপন্ন হন। এর নেপথ্যে রয়েছে তাঁর বাহন ইঁদুরের কাহিনি। বলা হয়, কৃষকদের তৈরি ফসল , শস্য বারবার পোকায় খেয়ে নিতেই সমস্যা আরও বাড়ে। মর্ত্যে চাষিদের এই কষ্ট দেখে, তখন গণেশ ইঁদুরকে বাহন করে এই শস্য খাওয়া পোকাদের ধ্বংস করতে উদ্যত হন। ফলে মিটে যায় কৃষকদের জীবনের দর্গতি, বাধা, বিঘ্ন। এরপর থেকেই নাম হয় বিঘ্নহর্তা। আর ইঁদুর হয় বাহন।

ইঁদুর বাহন হওয়া নিয়ে আরও একটি মত
আরও একটি মত অনুযায়ী, বিশ্বের সমস্ত কোণে গিয়ে দুষ্টের দমনে পারদর্শী এই দেবতা। তাঁর সংহার রূপে বহু দুষ্টই ত্রস্ত বলে ধরা হয় । আর সেই কারণেই বিশ্বর সমস্ত কোণে যাতে গণেশ দেব পৌঁছে যেতে পারেন, তার জন্যই ইঁদুরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সংহার রূপ ধরেন। আর সেই থেকেই গণেশের বাহন ইঁদুর।












Click it and Unblock the Notifications