বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ কোথা থেকে দেখা যাবে, ‘আগুনের বলয়’ কী
প্রতিবছর মোট চারটি গ্রহণ হয়। দুটি সূর্যগ্রহণ, দুটি চন্দ্রগ্রহণ। প্রত্যেকটি গ্রহণেরই বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে। চলতি বছর হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ যাকে নিঙ্গালু সূর্যগ্রহণও বলা হয়। নিঙ্গালুর গ্রহণকে একটি হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ বলা হয়, সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একটি সরল রেখায় সারিবদ্ধ হবে এবং চাঁদ পৃথিবী থেকে আসা প্রতিফলিত সূর্যালোককে বাধা দেবে। বৃত্তাকার সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয় না, একটি ছোট অন্ধকার বলয় হিসেবে প্রদর্শিত হবে যা আগুনের বলয় নামে পরিচিত।

কোথা থেকে দেখা যাবে এই গ্রহণ
চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে কিন্তু দৃশ্যমান হবে না অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলের এক্সমাউথ শহর থেকে দেখা যাবে। এই গ্রহণটি সবথেকে বেশি ভালো দেখা যাবে। নিঙ্গালু শব্দটি এসেছে অস্ট্রেলিয়ার নিঙ্গালু উপকূল থেকে। বৃত্তাকার গ্রহনের সময় চাঁদ সম্পূর্ণ রূপে সূর্যকে ঢেকে দেবে, সেই সঙ্গে সূর্যের উপর একটি ছোট অন্ধকার বলয়ের সৃষ্টি হবে, এটিকে আগুনের রিং বলা হয়।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া সরকারের মতে, সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া পশ্চিম উপকূলের একটি শহরে থেকে দৃশ্যমান হবে। তবে আংশিক সূর্যগ্রহণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ইস্ট ইন্ডিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতন জায়গা থেকে দৃশ্যমান হবে, এটি জানিয়েছেন নাসার প্রাক্তন জ্যোতির্পদার্থবিদ এবং গ্রহন বিশেষজ্ঞ ফ্রেড এসপেনাক বলেছেন । তিমুর, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশ থেকে মানুষেরা বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখতে সক্ষম হবেন।

হাইব্রিড গ্রহণ কী
একটি হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে, যার ফলে এটি আকাশে সূর্যের তুলনায় ছোট দেখায়। একটি হাইব্রিড সূর্যগ্রহণসময় এক সরলরেখায় থাকায় সূর্য আর পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে চাঁদ থাকে, তখন চাঁদের আকার গোটা সূর্যকে ঢেকে রাখার জন্য যথেষ্ট। এটি চাঁদের অন্ধকার অংশের চারপাশে একটি নিখুঁত বৃত্তাকার বা বলয়ের মতো আকৃতি তৈরি করে। তখন একটি বৃত্তাকার গ্রহণ তৈরি করে, একেই হাইব্রিড গ্রহণ বলে।

মোট ও বৃত্তাকার গ্রহনের পার্থক্য কী?
সূর্য গ্রহণ যখন হয় তখন চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, সূর্যকে আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়, যখন সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যায় তখন থেকে পূর্ণ গ্রহণ বলা হয়, গ্রহণের সময় পুরো সময়কালে আকাশ সম্পূর্ণভাবে অন্ধকার থাকে, দেখে মনে হবে যেন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

আগুনের বলয় কী
সম্পূর্ণ সূর্যগ্রহণ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে, যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে তাহলে উজ্জ্বল তারাও স্পষ্ট দেখা যাবে।পূর্ণ গ্রহণের সময় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। তখন পৃথিবী থেকে অনেক দূরেও চলে যায়। চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল আলোর ওপর একটি অন্ধকার বলায়ের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় আগুনের বলয়।

কবে হবে চন্দ্রগ্রহণ
গ্রহণ সাধারণত দুটি করে হয়। দুটি সূর্য গ্রহণ এবং দুটি চন্দ্রগ্রহণ। ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হবে। ৫ মে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ হবে।সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী চাঁদের উপর তার ছায়া ফেলে, উপগ্রহ ও সূর্য এটি তার মাঝে চলে আসে, শুধুমাত্র পৃথিবীর ছায়ায় অংশের মধ্য দিয়ে প্রদক্ষিণ করে।

লালচে চাঁদ কখন দেখা যাবে
৫ই চন্দ্রগ্রহণ চাঁদের স্বাভাবিক পর্ব থেকে একটু আলাদা হতে পারে। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ কিছুটা লালচে চাঁদকে দেখা যাবে, ২০ এপ্রিল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পরে ৫ মে একটি পেনামব্রাল চন্দ্রগ্রহণ হবে। তবে এটি একটি পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণ হবে, যার অর্থ সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ অসম্পূর্ণভাবে সারিবদ্ধ।
একটি পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণের সময়, চাঁদ শুধুমাত্র পৃথিবীর ছায়ার ক্ষীণ বাইরের অংশের মধ্য দিয়ে চলে। এই কারণে, একটি পেনাম্ব্রাল চন্দ্রগ্রহণকে চাঁদের স্বাভাবিক পর্ব থেকে আলাদা করা একটু কঠিন।












Click it and Unblock the Notifications