জেনে নিন ভাই ফোঁটা বা ভাইদুজ কেন পালন করা হয় এবং এর শুভ মুহূর্ত কবে
ভাই ফোঁটা বা ভাইদুজ কেন পালন করা হয়
'ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা’। এ বছর ভাইফোঁটা বা ভাই দুজ পালন করা হবে ৬ নভেম্বর, শনিবার। এই ভাই দুজ বা ভাইফোঁটাকে যম দ্বিতীয়াও বলা হয়ে থাকে। এদিন ভাই তাঁর বোনেদের বাড়ি যায় এবং বোনের থেকে মাথায় টিকা নিয়ে আসে। এর সঙ্গে ওইদিন বোনের হাতে তৈরি খাবারও খায় ভাইয়েরা। বলা হয় যে এতে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু হয়। কথিত রয়েছে যে বোন যমুনা বিয়ের পর তাঁর ভাই যমরাজের সঙ্গে ভাই দুজের দিনই দেখা করতে এসেছিলেন। এইদিন বোন যমুনা ভাই যমরাজের মাথায় টিকা দিয়েছিলেন এবং নিজের হাতে তৈরি খাবার যমরাজকে খাইয়ে ছিলেন যমুনা।

কবে পালন হয় ভাই ফোঁটা বা ভাইদুজ
দিওয়ালির পঞ্চম ও শেষ দিনে ভাইদুজ বা ভাই ফোঁটা উৎসব পালন করা হয়। এই দিনের মাধ্যমেই দিওয়ালির উৎসবও শেষ হয়ে যায়। এই দিনকে যম দ্বিতীয়াও বলা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভাই দুজ বা ভাইফোঁটা পালনের রীতি রয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় এই উৎসবকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয়। তবে নাম আলাদা হলেও রীতি-রেওয়াজ একেবারেই একই রকমের। আসুন জেনে নেওয়া যাক এ বছরের ভাইফোঁটা বা ভাইদুজের শুভ মুহূর্ত কখন এবং এই ভাইফোঁটার রেওয়াজ কবে থেকে শুরু হয়েছে।

ভাই ফোঁটার শুভ মুহূর্ত
এ বছর ভাই ফোঁটার উৎসব ৬ নভেম্বর শনিবার পালন করা হবে। এইদিন ভাইয়ের কপালে ফোঁটা বা তিলক দেওয়ার শুভ মুহূর্ত দুপুর ১.১০ থেকে ৩.২১ পর্যন্ত থাকবে। এ বছর ৫ নভেম্বর দ্বিতীয়া তিথি রাত ১১টা ১৪ মিনিট থেকে লাগবে এবং তা থাকবে ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।

কীভাবে শুরু হল ভাইদুজ বা ভাই ফোঁটার রেওয়াজ
পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, যম ও যমুনা ভগবান সূর্য ও তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যার সন্তান ছিলেন। বোন যমুনার বিয়ের পর ভাইদুজের দিন যমরাজ নিজের বোনের বাড়িতে যান। দাদা বাড়িতে আসায় বোন যমুনা তাঁর প্রচুর আদার-অ্যাপায়ন করেন এবং যমরাজের কপালে টিকা দিয়ে তাঁকে খাবার খাওয়ান। বোনের এই আচরণে খুশি হয়ে যমরাজ তাঁর বোনকে বর চাইতে বলেন। তখন যমুনা জানান যে তিনি এই বর চান যে এইদিন যে ভাই তাঁর বোনের বাড়ি গিয়ে টিকা লাগাবে ও বোনের হাতের খাবার খাবেন, তাঁর অকাল মৃত্যুর ভয় থাকবে না। যমরাজ বোনের এই কথা মানেন এবং খুশি হয়ে বোনকে আশীর্বাদ দেন। মানা হয় যে তারপর থেকেই ভাইদুজ বা ভাই ফোঁটা পালনের রীতি চলে আসছে।

ভাই ফোঁটা নিয়ে প্রচলিত আর একটি কাহিনী
এই উৎসব নিয়ে আরও একটি পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। তা হল, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাক্ষস নরকাসুরকে বধ করে দ্বারকায় ফিরে আসেন। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বোন সুভদ্রা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর কপালে তিলক লাগিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications