মৃত্যুর সময় কেমন অনুভব হয়, কোথায় যায় মৃত ব্যক্তির আত্মা, মৃত্যুর গোপন রহস্য এবার জানুন
মৃত্যুর গোপন রহস্য এবার জানুন
সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় তারকা সিদ্ধার্থ শুক্লার ৪০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সকলকেই হতবাক করেছে। কিন্তু মৃত্যুর চেয়ে চরম সত্য আর কিছুই নেই। একে গোটা ব্রহ্মাণ্ড অস্বীকার করতে পারেন না। মৃত্যুর চেয়ে চরম সত্যি আর কিছুই নেই। মানুষ এই মৃত্যুকে যত ভয় পায় ততই এর সম্পর্কে জানার আগ্রহ তাঁদের বেড়ে যায়। হিন্দু ধর্মের পুরাণের মধ্যে গৌড় পুরাণকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই পুরাণে জীবনের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু এবং মৃত্যুর পরের সফর সম্পর্কে বলা হয়েছে। গৌড় পুরাণে এও বলা হয়েছে যে মৃত্যুর সময় মানুষ কেমন অনুভব করেন এবং মৃত্যুর পর মানুষের আত্মার সঙ্গে কি হয়।

মৃত্যুর সময় এরকম অনুভব হয়
গৌড় পুরাণে বলা হয়েছে যে মৃত্যুর সময় ব্যক্তির সব ইন্দ্রিয়গুলি শিথিল হতে শুরু করে দেয় কিন্তু স্মৃতিশক্তি তাঁকে বহু বছরের কথাও সেই সময় মনে করিয়ে দেয়। মৃত্যু পথযাত্রী তাঁর জীবনের সব ভালো-মন্দ কাজ একবারে সিনেমার রিলের মতো দেখতে থাকেন। তিনি সারা জীবনে যা যা করেছেন তা সব চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ব্যক্তি এই সময় কথা বলতে অক্ষম হয়ে পড়েন।

যমদূতকে দেখতে পান
মৃত্যুর পথে থাকা ব্যক্তি ২টি যমদূতকে দেখতে পান, যাঁরা ওই ব্যক্তিকে নিতে আসেন। যদি ওই ব্যক্তি জীবনে ভালো কর্ম করে থাকেন তবে তাঁর প্রাণ সহজে বেরিয়ে যায়, নয়ত ব্যক্তির আত্মা তাঁর শরীর ছাড়তে খুব মুশকিল হয়। সেই জন্য মারা যাওয়ার আগে গোদান করার পরম্পরা রয়েছে। যাতে গরু দান করার পূণ্য তাঁকে শান্তিপূর্ণ মৃত্যু দিতে পারে। এরপর যমলোকে গিয়ে মৃত ব্যক্তির কর্মের হিসেব-নিকেশ হয় এবং তারপর তাঁকে আবার এই নশ্বর পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় একটি নতুন দেহ খুঁজতে।

১৩দিন পর্যন্ত ঘরের কাছেই থাকে আত্মা
আত্মা আবার ১৩দিন পর্যন্ত নিজের ঘরের কাছেই থাকেন এবং অনেক সময় আত্মা তার প্রিয়জনদের ভালোবাসার মোহে পড়ে তাঁর পুরনো দেহে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। যদিও যমদূতের বন্ধন তাঁকে এমন করতে দেয় না। ১০ দিন পর সন্তানের হাতে পাওয়া পিণ্ডদান মৃত ব্যক্তির আত্মাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়ার শক্তি দেয়। এরপর ওই আত্মা নতুন শরীর খুঁজতে শুরু করে দেয়। গরুড় পুরাণ মতে নতুন শরীর পেতে পেতে আত্মার ৪৭দিন সময় লাগে, অন্যদিকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার কারণে অসময়ে মৃত্যু হওয়ায় সেই আত্মাদের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দেহের জন্য ঘুরে বেড়াতে হয়।

গঙ্গাজল ও গীতাপাঠ
গৌড় পুরান অনুযায়ী, মৃত্যুপথযাত্রীর মুখে গঙ্গাজল দেওয়া হিন্দুধর্মে অবশ্য কর্তব্য। গঙ্গাজলের স্পর্শ পেলে সারাজীবনের পাপ ধুয়েমুছে যায় বলে বলে প্রচলিত বিশ্বাস। তাই তখন আত্মা শরীর থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গে আরোহণ করতে পারেন। এছাড়াও মৃত্যু পথযাত্রীর সামনে গীতা পাঠ করাও খুব শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে ওই আত্মা দৈহিক জগতের যাবতীয় বন্ধন থেকে সহজে মুক্ত হয়ে স্বর্গের প্রতি গমন করতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications