দুর্গাপুজোয় ষষ্ঠী থেকে দশমীতে কোন আচার-রীতি মেনে সম্পন্ন হয় দেবীর আরাধনা, জানুন
দুর্গাপুজোয় ষষ্ঠী থেকে দশমীতে কোন আচার-রীতি মেনে সম্পন্ন হয় দেবীর আরাধনা, জানুন
বছরের প্রথমে ক্যালেন্ডার বাড়িতে আসলেই যে দিনগুলির দিকে বাঙালি আগে তাকিয়ে নেয়, তার মধ্য একটি দুর্গাপুজোর ৫ টি দিন। খাতায় কলমে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত ৪ দিনের পুজো পদ্ধতি থাকলেও পঞ্চমীকে সঙ্গে নিয়েই সম্পন্ন হয় বাঙালির উৎসবের মেজাজ। কুমোরপাড়া থেকে পাড়ার প্যান্ডেলে ঠাকুর আসা, সেখানে পঞ্চমীর রাতে দেবী দুর্গার মূর্তি সহ গোটা প্যান্ডেলে 'ফাইনাল টাচ' দেওয়ার চেনা ছবিতে বাঙালি অভ্যস্ত। করোনার প্রকোপে সেই বিভিন্ন রীতি আর আনন্দে কিছুটা ভাঁটা পড়লেও মহামায়ার আরাধনায় 'আশ্বিনের শারদ প্রাত' এ বাঙালির উৎসাহ একইভাবে চড়তে থাকে। এদিকে, করোনাকালেও পুজোর নানান রীতি মেনে পালিত হয়েছে গতবারে দুর্গাপুজো। এই বছরও তেমনই উদ্যোগের তরফে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলার বহুদিক। একনজরে দেখা যাক ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বাঙালির প্রাণের পুজো দুর্গাপুজোর পুজো পদ্ধতি।

মহাষষ্ঠী
দেবীর বোধনের হাত ধরে সম্পন্ন হয় ষষ্ঠীর পুজো। শাস্ত্র মতে ধরে নেওয়া হয়, এই দিন দেবী দুর্গা পদার্পণ করেন মর্ত্যে । তাঁর বাহন অনুযায়ী সেদিন উমার ঘরে ফেরার পালা। সন্তান কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী , লক্ষ্মীকে সঙ্গে নিয়ে দেবীর আগমন হয় ষষ্ঠীতে। এই দিন পঞ্জিকা মেনে ষষ্ঠীর কল্পারম্ভ হয়। থাকে আমন্ত্রণ, অধিবাসের পর্ব। অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় মূল পুজো। অনেক জায়গায় দেবীর অকাল বোধনেই পালিত হয় দুর্গাপুজোর বোধন।

মহাসপ্তমী
দুর্গাপুজোর সপ্তমী মানেই আনন্দ প্রায় মধ্যগগনে! পুজোর ঢাকে ততদিনে কাঠি পড়ে গিয়েছে, পাড়ায় পাড়ায় কাসর, শাঁখ , মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গেই বাজতে থাকে ঢাক। এইদিন বিশেষ আকর্ষের কেন্দ্রে থাকে নবপত্রিকা স্নান। সেদিন লালপাড় সাদা শাড়িতে গণেশের স্ত্রী হিসাবে কলাবউকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তার আগে চলে কলাবউয়ের গঙ্গাস্নান। এই দিন নবদুর্গার পুজোও সম্পন্ন হয়। দেবীর নয়টি রূপকেই এই নবপত্রিকা (কলাগাছ) এর মধ্যে ধরে নেওয়া হয়। নয়চটি রূপ বলে নবপত্রিকা হিসাহে পূজিতা হন এইদিন দেবী। এদিন , ব্রহ্মাণী হিসাবে কলা, কালিকা হিসাবে কচু, দুর্গা হিসাবে হলুদ, কার্ত্তিকী হিসাবে জয়ন্তী, শিব (কৎবেল), রক্তদন্তিকা হিসাবে বেদানা, শোকরহিতা (অশোক), চামুণ্ডা (ঘটকচু), লক্ষ্মী (ধান) পত্রিকাকে একযোগে পুজো করা হয়। গণেশের ঠিক ডান দিকে বসানো হয় কলাবউকে। ঠিক যেন আর চারপাঁচটা একান্নবর্তী পরিবারের মতো দেখতে লাগে দুর্গার এই সংসার। আর তাকেই আরাধনা শুরু করা হয় সপ্তমী থেকে।

মহাষ্টমী
মহাঅষ্টমীতে দুর্গপুজোর অঞ্জলিই প্রথম আকর্ষণ হিসাবে থাকে। অষ্টমীর দিনের অঞ্জলী বিশেষ গুরুত্ব পেলেও, পুজোর বাকি দিনেও থাকে। ফুলপাতা সহকারে দেবীর পুষ্পাঞ্জলির পরই এই দিনে বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে কুমারী পুজোর প্রথা প্রচলিত। এইপ্রথা অনুযায়ী কুমারী মেয়েদের দেবী রূপে পুজো করা হয়। শাস্ত্র মতে বলা হয়, কোলাসুরকে বধ করতে দেবী কালিকার দ্বারস্থ হন দেবকূল। তখনই দেবী কুমারী রূপ ধরাণ করে অসুর বধ করেন। সেই রূপ ধরেই আয়োজিত হয় কুমারী পুজো।

সন্ধিপুজো
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়োজন করতে হয় সন্ধিপুজো। ঘড়ি ধরে টানা ৪৮ মিনিট ধরে এই পুজো আয়োজিত হয়। এই সনধি পুজোর সময় যাতে সেখানে কেউ কথা না বলেন, তার জন্য আবেদন করা হয়। একমাত্র মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এই পুজো সম্পন্ন করে মাঝে বলিদান প্রথা সম্পন্ন করার রীতি বর্ণিত রয়েছে শাস্ত্রে। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর শুরুর প্রথম ২৪ মিনিট ধরে এই পুজো সম্পন্ন হয়। এই সময় শুম্ভ নিশুম্ভকে দেবী বধ করেন বলে বর্ণিত রয়েছে। আর সেই কারণেই এই বিশেষ ক্ষণে সন্ধিপুজো সম্পন্ন হয়।

বিজয়া দশমী
আশ্বিন মাসের শুক্লাপক্ষের দশমীতে দেবীর শিবের কাছে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার সময়। সিঁদুর খেলা, বরণের মাধ্যমে আকাশে বাতাসে বিষাদের সুর ধরেই এদিন দেবীকে বিদায় জানান মর্ত্যবাসী। যেন ঘরের মেয়েকে শ্বশুরকূলে পাঠানো হচ্ছে। বিজয়ার দিন দুষ্টের উপর শিষ্টের পালনের উৎসবে মিষ্টিমুখ করানোর রীতি প্রচলিত।












Click it and Unblock the Notifications