Durga Puja 2021: মা দুর্গার দশ হাত কীসের প্রতীক! দশভূজার পূজা মাহাত্ম্য একনজরে
Durga Puja 2021: মা দুর্গার দশ হাত কীসের প্রতীক! দশভূজার পূজা মাহাত্ম্য একনজরে
আশ্বিনের শারদ প্রাতের অপেক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলার বুকে। যে আশ্বিনে রোদ ঝলমলে সকালে ঘাসের ডগায় থাকবে শিউলির ঘ্রাণ। ঘাসের উপরে পড়ে থাকা শিউলি কোঁচরে ভরে দৌড়ে পালাবে কোনও ছোট্ট মেয়ে। পুজো পুজো গন্ধ লেগে থাকবে আশপাশের সমস্তটায়। যে গন্ধ অবশ্যই বাঙালিই একমাত্র সহজে পেয়ে থাকে!
আর চারিদিকের হাওয়ায় হেলেদুলে ওঠা কাশ জনান দেবে ঢাকের বাদ্যির অপেক্ষা শুরু। মা আসছেন....। বাঙালির ক্যালেন্ডারে সবচেয়ে বড় উৎসবের কাউন্টডাউন করোনার প্রবল চোখ রাঙানির সঙ্গেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই করোনাসুর দমন ছাড়াও একাধিক প্রার্থনা নিয়ে বাঙালি তাকিয়ে উমার ঘরের ফেরার অপেক্ষায়।

প্রাণের উৎসব ও পৌরাণিক কাহিনি
বাংলার প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো ঘিরে রয়েছে বহু পৌরানিক কাহিনি। তারমধ্যে রয়েছে দেবীর দশভূজা হয়ে ওঠার কাহিনিও। একনজরে দেখা যাক মা দুর্গার দশ হাত কীসের প্রতীক?

২০২১ দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট
২০২১ সালে মহালয়া পড়েছে ৬ অক্টোবর। পঞ্চমা পড়েছে ১০ অক্টোবর। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন মায়ের বোধন। সেদিনই কার্যত খাতায় কলমে উমাকে নিজের মতো করে বরণ করে নেবে বাংলা। এরপর সপ্তমী পড়েছে ১২ অক্টোবর মঙ্গলবার । ১৩ অক্টোবর বুধবার সকালেই শুরু হবে অষ্টমীর পুজো। নবমী পড়েছে ১৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। ১৫ অক্টোবর দশমীতে মাকে বিদায় জানাবে বাংলা।

নবদুর্গার পুজো
ভারতের পূর্ব প্রান্ত আশ্বিনে যেমন মেতে থাকে দুর্গা পুজোয়, তেমনই পশ্চিম প্রান্তে গুজরাতে এই সময় ধুমধাম সহকারে পালিত হয় নবদুর্গা পুজোর নবরাত্রি উৎসব। সেখানে মা দুর্গার রূপে ১০ হাতের প্রচলন নেই। নয়টি দিনে পর পর নয় ধরনের বিভিন্ন সাজে ধরা দেন মা দুর্গা। নবদপর্গার এই নয়টি রূপ হল , শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী,কালরাত্রি, মহাগৌরী, সিদ্ধদাত্রী। পুরাণ অনুযায়ী দেবীর এই নয় রূপের পুজো হয়। তবে নবদুর্গা পুজোতে কখনওই মায়ের দশ হাত দেখা যায় না।

দেবতাদের 'তেজ' থেকে কীভাবে সৃষ্টি হলেন দেবী দুর্গা?
মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুযায়ী, অসুরের তাণ্ডবে যখন ধরাধাম ত্রস্ত, তখন তাঁকে দমনে কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না দেবতারা। কারণ মহিষাসুরের কাছে ছিল এক বিশেষ রক্ষা কবচ। যা খণ্ডন করতে পারতেন একমাত্র কোনও নারী, যিনি মনুষ্যশরীর থেকে তৈরি না হয়ে দেবতার তেজ থেকে জন্ম নিয়েছেন। সেই মতো প্রজাপতি ব্রহ্মার পরামর্শ মেনে বিভিন্ন দেবতার তেজ থেকে জন্ম নিল এক নারীমূর্তি। তাঁর মুখমণ্ডলে এল মহাদেবের তেজ, বাহুতে এল বিষ্ণুর তেজ, ব্রহ্মাহর তেজ এল পদযুগলে, রবির তেজ পায়ের আঙুলে, অগ্নির তেজ ত্রিনয়নে, বায়ুর তেজ এল কানে।

দেবীর কোন দিকের হাতে কোন অস্ত্র ?
দেবী দুর্গার বাম দিকের হাতে পাঁচটি অস্ত্র রয়েছে। এগুলি হল ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, বাণ, ধনুক। এই ধনুকে শক্তি অস্ত্র হিসাবে ধরা হয়। আর ডান দিকের পাঁচ হাতে থাকে, শঙ্খ, ঢাল, ঘণ্টা, অঙ্কুশ, নাগ পাশ। এই দশ হাতের দশ অস্ত্র দিয়ে অসুর দমনে একাই মহিয়সী হয়ে ওঠে দেবী। কিন্তু যে দশ হাত এই দশ অস্ত্র ধারণ করে তা কীসের প্রতীক তা নিয়ে রয়েছে বহু জল্পনা। দেখা যাক শাস্ত্রজ্ঞরা কী বলছেন?

দেবী দুর্গার দশ হাত কেন?
'দশপ্রহরণধারিনী' দেবীর দশ হাতের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক প্রতীক। বলা হয়, একজন মহিলা যেমন বিবিধ শক্তির অধিকারী, তেমনই সেই আঙ্গিক মাথায় রেখেই দেবীর দশ হাত। শাস্ত্র মতে, দশ দিক সমানভাবে সামলানোর প্রতীক মা দুর্গা। আর সেই থেকেই দশ হাতের উদ্ভাবন। এই দশ দিক হল,উত্তর , দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, ঈশান , বায়ু, অগ্নি, নৈঋত, উর্ধ্বঃ, অধঃ। একজন মহিলা যেমন দশ দিক সামলাতে পুরুষেক চেয়ে পটু, তেমনই সেই মহিলা রূপকে মাথায় রেখেই দুর্গার রূপ কল্পিত বলে মত বহু শাস্ত্রজ্ঞের। মহিলারা যেমন একাধারে কন্যা, একদিকে স্ত্রী আবার একদিকে প্রেয়সী আর অন্যদিকে জননী। এই রুপের সঙ্গেই সংসারে সংহার মূর্তি ধারণ করে দুষ্টের দমনও করে মহিলারা। সেই জায়গা থেকে দুর্গার দশ হাত দশদিকের প্রতীক।












Click it and Unblock the Notifications