ত্রিশূল দিয়েই কেন মহিষাসুর বধ করেছিলেন দুর্গা? জানেন কি দশভুজার ১০ অস্ত্রের কাহিনি?
ত্রিশূল দিয়েই কেন মহিষাসুর বধ করেছিলেন দুর্গা? জানেন কী দশভুজার ১০ অস্ত্রের কাহিনী?
দেখতে দেখতে চলে এল দুর্গাপুজো। করোনা আবহেই এবারও দুর্গাপুজো উৎসব। গতবােরর বিধিনিেধষ এবারও থাকবে কিনা এই নিয়ে দোটানায় রয়েছেন সকলে। তবে বাঙালির মন সেই পুজোর টানে আনন্দে মশগুল। নতুন জামার গন্ধ। শিউলি ফুল, মূর্তি গড়ার তোরজোড় সবই চলছে নিজের গতিতে। মায়ের আগমনের সূচনা প্রায় হয়ে গেল বলে। কুমোর পাড়ায় গেলেই দেখা যায় সেই ব্যস্ততার ছবি। তাঁদের সুদক্ষ শিল্পের টানে গড়ে উঠছে মাতৃপ্রতিমা। দশভুজার দশ হাতে দশ অস্ত্র। মর্তে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন মা। আগমনীর রেশ ধরে একাধিক পৌরানিক কাহিনী বাংলার ঘরে ঘরে শোনা যায়। বাংলার ঘরের মেয়ে উমার দশভুজা হয়ে ওঠার কাহিনী। তাঁর ১০ হাতের ১০ অস্ত্রের মাহাত্ম্য। কী সেই কাহিনী। কেন দেবতারা বাছাই করা অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন উমার হােত তার বিস্তারিত জেনে নিন।

ত্রিশূল
এই ত্রিশূ দিয়েই মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন দুর্গা। হাতে তো অন্য অস্ত্রও ছিল সেগুলি কেন ব্যবহার করেননি তিনি। পূরাণে এই নিয়েও কাহিনী রয়েছে। দেবী দুর্গাকে এই ত্রিশূল দিয়েছিল মহাদেব। সেকারণেও এই অস্ত্রের মাহাত্ম্য আলাদা। ত্রিশূলের তিনটি ফলার তিন অর্থ রয়েছে। মানুষ তিনটি গুণ, তমঃ, রজঃ ও সত্যকে ব্যাখ্যা করে এই তিন ফলা

গদা
মহামায়ার হাতে দেখা যায় গদাও। এই গদা তাঁকে দিয়েছিলেন যমরাজ । গদাকে অস্ত্র হিসেবেই আমরা প্রাথমিক ভাবে মনে করি। কিন্তু গদার আরও একটি অর্থ রযেছে। যাকে বলা হয় কাল দণ্ড। যা আনুগত্য, ভালবাসা এবং ভক্তির প্রতীক।

খড়্গ
দেবী দুর্গার হাতে খড়্গও দেখা যায়। এই খড়গ বুদ্ধির প্রতীক। যা দিয়ে সমাজের সব বৈষম্য এবং অন্ধকারকে দূর করা যায়। বুদ্ধির সেই প্রবস শক্তিকেই এখানে খড়্গের প্রতিকে দশভুজার হােত দেখা গিয়েছে।

চক্র
দেবী দুর্গার হাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র চক্র। এই সুদর্শন চক্রটি দিয়েছিলেন বিষ্ণু। যার একটি অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে। চক্র হল সব সৃষ্টির কেন্দ্র। তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয় গোটা বিশ্ব। মহামায়া রয়েছেন সৃষ্টির কেন্দ্রে। তাঁর হাতের চক্র সেই অর্থই বহন করে।

শঙ্খ
মহামায়াকে শঙ্খ দিয়েছিলেন বরুন দেব। শঙ্খ হল সৃষ্টির প্রতীক। আর মহামায়া থেকে সৃষ্টি গয়েছে পৃথিবী। সেকারণেউ দুর্গার হাতে শঙ্খ দেখা যায়।

পদ্ম
দেবীর হাতে ব্রহ্মা তুলে দেন পদ্ম৷ পাঁকে জন্মায় পদ্ম। কিন্তু তবু সে কত সুন্দর। তেমনই মায়ের আশীর্বাদে যেন অন্ধকারের মধ্যেও আলোর আবির্ভাব হয় সেই বার্তাই দেয় পদ্ম ফুল।

বজ্র
দেবরাজ ইন্দ্র দিয়েছিলেন বজ্র। সংহতি আর দৃঢ়তার প্রতিক বজ্র। দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধে সেই দৃঢ়তা এবং সংহতি যাতে পান তার জন্য এই বজ্র দেওয়া হয়েছিল তাঁেক। মানুষের জীবনে এই দুটি জিনিস থাকলেই তার জীবনে উন্নতি আসে।

সাপ
সর্প বা সাপ। দেবী দুর্গার হাতে দেখা যায় এটি। শেষ নাগ দিয়েছিলেন নাগহার৷ চেতনার উত্থানের প্রতিক এই নাগ হার। বিশুদ্ধ চেতনার প্রতীক হল এই সাপ। চেতনার নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরে প্রবেশ এবং বিশুদ্ধ চেতনার চিহ্ন এই সাপ।

তির ও ধনুক
পবনদেব দিয়েছিলেন তির-ধনুক৷ ইতিবাচক শক্তির প্রতিক এই অস্ত্র৷ অন্তর্নিহিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে ধনুর টঙ্কারে। মানব দেহে সেই শক্তির সঞ্চার করতেই মা দুর্গা নিজের হাতে তীর-ধনুক নিয়ে থাকেন।

অগ্নি
অগ্নিদেব দিয়েছিলেন এই অস্ত্র ৷ দেবীর এক হাতে থাকে অগ্নি। এই অগ্নি জ্ঞান এবং বিদ্যার প্রতীক।












Click it and Unblock the Notifications