মোদকের ভোগ কেন ভগবান গণেশের এত প্রিয় জানেন কি? কেমন করে বানাবেন এই মিষ্টি তাও জেনে নিন
মোদকের ভোগ কেন ভগবান গণেশের এত প্রিয় জানেন কি
যে কোনও কাজ শুরু করার আগে প্রথম পুজো করতে হয় বিঘ্নহর্তা গণেশের আরাধনা করার মধ্য দিয়ে। ভগবান গণেশ তাঁর বুদ্ধিমত্তার জন্য পরিচিত। প্রত্যেক বছর গণেশ চতুর্থী এই দেশে মহা ধুমধাম করে পালন করা হয়। বিঘ্নহর্তাকে তাঁর পছন্দের ভোগ দিয়ে পুজো করা হয়। ও বছর গোটা দেশে ১০ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী পালন করা হবে। ভগবান গণেশের প্রিয় ও পছন্দের খাবার হল মোদক। আর এর জন্য গণেশকে সবসময় অন্যান্য ভোগের পাশাপাশি এই মোদক দিয়ে অবশ্যই পুজো করা হয়। বাপ্পার কেন মোদকই সবচেযে প্রিয় খাবার তার পিছনে পুরাণে একটি মজাদার কাহিনী রয়েছে।

পুরাণ অনুযায়ী
ভগবান গণেশের প্রিয় খাবার যে মোদক একথা সকলেই জানেন। কিন্তু অন্য মিষ্টির চেয়ে গণেশের কেন এই মোদক সবচেয়ে প্রিয় তা নিয়ে পুরাণে আকর্ষণীয় গল্প বলা হয়েছে। পুরাণে বলা হয়েছে, একবার গণেশ ও পরশুরামের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধের সময় পরশুরামের অস্ত্রের আঘাতে গণেশের একটি দাঁত ভেঙে যায়। দাঁত ভেঙে যাওয়ার ফলে গণেশের খুব যন্ত্রণা হয়। এইজন্য তিনি কিছু খেতে পারছিলেন না। সেজন্য এমন কিছু খাবার বানানোর জন্য বলা হয়েছিল যা গণেশ জি না চিবিয়ে সহজে খেতে পারেন। গণেশ ভগবানকে সন্তুষ্ট করতে মোদক বানানো হয় যা খাওয়ার পর তিনি তাঁর যন্ত্রণা ভুলে যান। মোদক খাওয়ার সময় খুব নরম ও তুলতুলে ছিল, যা খাওয়ার পর গণেশের দাঁতের ব্যাথা সেরে যায় এবং এরপর থেকেই গণেশের খুব প্রিয় খাবার হয়ে যায় এই মোদক। আর এই কারণেই গণেশের ভক্তরা তাঁকে মোদক ছাড়া অন্য কোনও ভোগ দেন না।

পদ্ম পুরাণ মতে
এই কাহিনী ছাড়াও পদ্ম পুরাণে মোদক নিয়ে আরও একটি গল্প বলা হয়েছে। এতে বলা হয় যে শিব-পার্বতী একবার দেবলোকে আসেন। তাঁরা একটি বিশেষ মোদক তৈরি করেছিলেন। যে এই মোদক খাবে সেই বিজ্ঞান, কলা ও লেখনিতে নিপুণ হয়ে যাবে। কার্তিক ও গণেশ এই মোদক ভাগ করে খেতে চাইছিলেন না। এরপর উভয়েই সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন। যেখানে কার্তিক ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে পারদর্শীতা লাভ করার জন্য যাত্রা শুরু করে দেন। অন্যদিকে গণেশ তাঁর মা-বাবার চারদিকে প্রদক্ষিণ শুরু করেন। এরকম করার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে গণেশ জানান যে মা-বাবার ভক্তির সমান আর এর চেয়ে বড় কিছুই হয় না। এই উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে শিব-পার্বতী খুশিমনে ভগবান গণেশকে মোদকটি দিয়ে দেন খেতে।

জ্ঞানের প্রতীক মোদক
পুরাণেও মোদকের বর্ণনা পাওয়া যায়। মোদকের অর্থ আনন্দ বলা হয়েছে। লম্বোদরকে সবসময় সুখী মনে করা হয়। আর এই বিশ্বাস থেকেই গণেশ জিকে মোদক ভোগ দেওয়া হয়। শ্রী গণেশকে জ্ঞানের দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং মোদকও জ্ঞানের প্রতীক। এই কারণেও মোদক দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়।

সহজে বানিয়ে ফেলুন মোদক
খুব সহজেই বাড়িতে গণেশ জির প্রিয় মিষ্টি মোদক তৈরি করে নেওয়া যায়। তার জন্য লাগবে চালের গুঁড়ো, নারকেল কোরানো, এলাচ, নুন, গুড় ও সাদা তেল। প্রথমে কোরানো নারকেল একটি প্যানে নেড়েচেড়ে ভেজে নিন। অন্য একটি পাত্রে এক কাপ জল ঢেলে ফুটিয়ে নিন। ফোটানো জলে গুড় ঢেলে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে, তাতে ভাজা নারকেল মিশিয়ে ঢেলে মিশিয়ে নিন ভাল করে। এবারে এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষণ পরে আঁচ বন্ধ করে দিন। একটি পাত্রে গরম জলের সঙ্গে চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। তেল ও নুন যোগ করুন এর সঙ্গে। চালের মিশ্রণটি ছোট ছোট বলের মতো করে হাতের তালুতে কাপের মতো বানিয়ে নিন। তার মধ্যে নারকেলের মিশ্রণ দিয়ে কাপের মুখটি আটকে দিন। এবার ভাল করে ভাপিয়ে নিতে হবে নারকেল ভর্তি কাপগুলো। তৈরি হয়ে গেল মোদক। অনেকে মোদক না ভাপিয়ে ভেজেও নেন।












Click it and Unblock the Notifications