কেন প্রতিবছর রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়, জানুন ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে
প্রতিবছর আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয় রথযাত্রা উৎসব। রথ বলতেই আমাদের সবার প্রথমে যে জায়গার কথা মনে আসে তা হল পুরী। পুরী ছাড়াও মাহেশ, ইসকন মন্দির ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় পালিত হয় রথযাত্রা।
এই রথযাত্রা উৎসবে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার বিশেষ পুজোর আয়োজন করেন ভক্তরা। তবে কবে থেকে শুরু হয়েছিল রথযাত্রা উৎসব, জানেন।

- তারিখ
প্রতিবছর শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে পালিত হয় রথযাত্রা উৎসব। চলতি বছর ৭ জুলাই হবে রথযাত্রা উৎসব। উল্টো রথ পরেছে ১৬ জুলাই। রথের এক সপ্তাহ পরেই কিন্তু পালিত হয় উল্টো রথ।
- তাৎপর্য
বলা হয়, রথযাত্রার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। রথযাত্রার দিন শ্রী জগন্নাথের নাম, জপ করে গুন্ডিচা মন্দিরে যান। তিনি সকল কাজেই এগিয়ে যেতে পারেন। শুধু তাই নয়, রথের দড়ি ধরে যিনি টান দেন তার মনে সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়। ভগবানের বিশেষ কৃপা তিনি লাভ করেন। রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করলে শিশুদের যাবতীয় সমস্যা দূর হবে।
- ইতিহাস
কথিত আছে, একবার বোন সুভদ্রার শহর দেখার ইচ্ছে হয়েছিল। সেসময় বলরাম, জগন্নাথ দেব তাকে রথে চড়ে শহর ভ্রমন করতে নিয়ে যান। ভগবান জগন্নাথ বিষ্ণুরই একটি রূপ বলে মনে করা হয়। বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারে, জগন্নাথের আক্ষরিক অর্থ হল বিশ্বের অর্থাৎ মহাবিশ্বের প্রভু, মহাপ্রভু তিনি। তারপর গণ্ডিচা মন্দিরে (মাসির বাড়ি নামেই পরিচিত) পৌঁছেছিলেন এবং সাত দিন সেখানে ছিলেন। সেই সময় তিনি সেই সময় থেকেই নাকি রথযাত্রার বিশেষ প্রচলন হয়ে আসছে। জগন্নাথ মন্দিরে পবিত্র চার ধামের মধ্যে অন্যতম একটি তীর্থস্থান। হিন্দুধর্মে চারধামের যাত্রা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তারপর থেকেই রথযাত্রা বের হয়।
ভগবান জগন্নাথ তার মাসির গিয়ে পোড়া পিঠে খান ও গণ্ডিচা মন্দিরে সাতদিন থাকেন। তারপর উল্টো রথের দিন আবারও তারা মন্দিরে চলে আসেন। এই ফিরতি যাত্রাকেই বলা হয় উল্টো রথ। পুরীধামের ১২টি প্রধান উৎসবের মধ্যে একটি এই রথযাত্রা। এই দিনের জন্য সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন ভক্তরা।












Click it and Unblock the Notifications