মকর সংক্রান্তির দিন কোন কোন কাজ করা উচিত এবং কী কী করা উচিত নয়, জেনে নিন
মকর সংক্রান্তির নির্দেশাবলী
রাত পোহালেই দেশ জুড়ে পালিত হবে মকর সংক্রান্তি। এইদিন সূর্য ধনু রাশি থেকে বিদায় নিয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করবেন। আগামী একমাস সূর্যের এই অবস্থান বহাল থাকবে। তবে, পঞ্চাঙ্গে সময়ের পার্থক্যের কারণে এ বছর মকর সংক্রান্তি ১৪ এবং ১৫ই জানুয়ারি, উভয় দিনেই পালিত হবে। এই সংক্রান্তির গুরুত্ব জ্যোতিষ ও শাস্ত্রমতে খুবই বেশি। কারণ এই দিন অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। মকর সংক্রান্তির দিন দেশের সর্বত্র ঘুড়ি উড়িয়ে আবার কোথাও আগুন জ্বালিয়ে পালন করা হয়। বাংলায় এই দিনে ঘরে ঘরে পিঠে পুলি বানানো হয়। বাস্তু দেবতাকে প্রথম সেই পিঠে নিবেদন করে সারা বছর ভালো থাকার প্রার্থনা করা হয়। এই দিনে বিশেষ কিছু কাজ করলে তা খুবই শুভ ফল দান করে। কিন্তু আবার অনেক কাজ করা এদিন উচিত নয়।

কেমন আহার করা উচিত
মকর সংক্রান্তির দিন ভুল করেও মাছ, মাংস, ডিম, রসুন, পেঁয়াজ অর্থাৎ আমিষ খাবার খাওয়া উচিত নয়। এই দিন মদ্যপান থেকেও বিরত থাকা উচিত। মকর সংক্রান্তির দিনটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়, এই দিনে মানুষ পবিত্র নদীতে স্নান করে পাপ নাশের জন্য প্রার্থনা করেন। তাই এই দিন আমিষ খেলে তা জীবনে দুঃখ এবং বাঁধার সৃষ্টি করে। এই দিন খিচুড়ি খাওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এছাড়াও এই দিন ফল খাওয়া ভালো। বাঙালীরা এইদিনে পিঠে খেয়ে থাকেন।

মকর সংক্রান্তিতে দানের মহিমা
মকর সংক্রান্তির দিন দান করা খুব শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে তিল,গুড়, খিচুড়ি দান করা খুব ভালো বলে মানা হয়ে থাকে। এই দিনে যদি বাড়ির দরজায় কোনও ভিক্ষুক আসেন তাহলে কখনোই তাঁকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে শনিদেব রুষ্ট হন। আর এর ফলে অর্থের ক্ষতি হয়। রাশিফল অনুযায়ী দান করলে সারা বছর শুভ ফল পাওয়া যায়। এই দিন কালো তিল ও গুড় দান করলে শনিদেব ও সূর্যদেবের আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

মকর সংক্রান্তিতে স্নানের গুরুত্ব
মকর সংক্রান্তির দিন স্নানের গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিন কুম্ভ স্নান শুরু হয়। প্রতিবছর এই দিন গঙ্গাসাগরে লাখ লাখ ভক্ত স্নান করেন। এছাড়াও পবিত্র নদী বা জলাশয়ে স্নান করা খুব শুভ। কারণ এই দিন কুরুক্ষত্র যুদ্ধে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পঞ্চ পাণ্ডবদের নিয়ে নদীতে স্নান করেছিলেন। এবং এই দিনেই মা গঙ্গা রাজা ভগীরথের সব পূর্ব পুরুষদের শাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন। তাই এই দিন স্নান করাকে খুব পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই দিন বিনা স্নান করে খাবার গ্রহণ করলে তা খুবই অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই যতই ঠাণ্ডা থাকুক না কেন, এই দিন সকলকে অবশ্যই স্নান করা উচিত।
(এই সকল তথ্য সম্পূর্ণ জ্যোতিষ তথ্যের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications