আগামী মাসে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে জীবনে
আগামী মাসে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে জীবনে
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী সূর্য হোক বা চন্দ্র, উভয় গ্রহণই সকল জীব জগতের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। জ্যোতিষ মতে এই গ্রহণের গুরুত্ব অনেক। আর সেই কারণেই এটি সংগঠিত হলে নানা দিকে খেয়াল রাখার কথা বলা হয়ে থাকে জ্যোতিষ শাস্ত্রে। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে, মোট ৪টি গ্রহণ সংগঠিত হতে চলেছে যার মধ্যে ২টি সূর্যগ্রহণ এবং ২টি চন্দ্রগ্রহণ হবে। এই ৪টি গ্রহণের মধ্যে ২টি গ্রহণ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটতে চলেছে, যা সবার জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন জ্যোতিষবীদরা। দেখে নেওয়া যাক এই বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ কবে, এবং এটি মানব জীবনে কেমন প্রভাব ফেলতে চলেছে।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি হতে চলেছে এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের মাত্র ১৫দিন পরেই। এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হবে চলতি মাস অর্থাৎ এপ্রিলেরই আগামী ৩০ তারিখ। তার ঠিক ১৫ দিনের মাথায় সংগঠিত হবে চন্দ্রগ্রহণ। আগামী মে মাসের ১৬ তারিখ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ হবে। এটি একটি সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। কিন্তু এই চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে না, তাই এর সূতক সময়কাল বৈধ হবে না। এই চন্দ্রগ্রহণ ১৬ মে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিট থেকে শুরু হবে এবং এটি দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।

কোথায় দৃশ্যমান হবে গ্রহণ?
বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা না গেলেও বিশ্বের বেশকিছু দেশ থেকে এটি দেখা যাবে। এই গ্রহণ দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপ, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা মহাদেশের বেশ কিছু এলাকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল, আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল, অ্যান্টার্কটিকা, ভারত মহাসাগরর উপকূলবর্তী বেশকিছু জায়গায় দৃশ্যমান হবে। বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই গ্রহণ সংগঠিত হতে চলেছে। প্রসঙ্গত, পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ ৮ নভেম্বর ২০২২ তারিখ সংগঠিত হতে চলেছে। এটি ভারতে দেখা যাবে।

গ্রহণকালের সাবধানতা
সূর্যগ্রহণ হোক বা চন্দ্রগ্রহণ, সনাতন ধর্মমত এবং জ্যোতিষশাস্ত্রে উভয় গ্রহণকেই একদম শুভ বলে মনে করা হয় না। তাই এই সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের কুফল এড়ানো সম্ভব হয়।
যে কোনও গ্রহণকালে কিছু খাবার খাওয়া বা পান করা উচিত নয়। পাশাপাশি গ্রহণের সময় আমাদের চারপাশের পরিবেশে নেতিবাচক শক্তি বেশি পরিমানে বৃদ্ধি পায়, যা ব্যক্তির মনেও প্রভাব ফেলে। তাই এই সময়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উচিত, কারণ তা শুভ ফল দেবে না। বিপরীত ব্যক্তির সঙ্গে এই সময় তর্ক এড়িয়ে চলা ভালো। গ্রহণের সময় ভ্রমণ করা উচিত নয়, এতে দুর্ঘটনার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়।

গ্রহণকালের নিয়মাবলী
গ্রহণের সময় এর কুফল যথা সম্ভব এড়ানোর জন্য কিছু নিয়মাবলীর কথা বলা হয়েছে জ্যোতিষ শাস্ত্রে। চন্দ্রগ্রহণের সময় খাবারে তুলসী পাতা দিয়ে রাখলে এর অশুভ প্রভাব নাশ হয়। গ্রহণের সময় যতটা সম্ভব ঈশ্বরের উপাসনা করা উচিত। গ্রহণের সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা উচিত। চন্দ্রগ্রহণের পর স্নান করে শুদ্ধ হয়ে দুঃস্থ মানুষকে কিছু দান করলে গ্রহণের অশুভ ফল কমে যায়। গর্ভবতী মহিলাদের গ্রহণের সময় খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। গ্রহণ চলা কালীন তাঁদের বাড়ি থেকে বাইরে কোথাও বেরনো একদমই উচিত নয়।
(এই সকল তথ্য সম্পূর্ণ জ্যোতিষ তথ্যের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications