ছট পুজো কবে! জানুন তারিখ, তিথি, পুজোবিধি
ছট পুজো কবে! জানুন তারিখ, তিথি, পুজোবিধি
দিওয়ালির পর্ব শেষ হলেও, উৎসবের মরশুম শেষ হয়নি। দুর্গাপুজো থেকে যে উৎসবের মরশুম শুরু হয়েছিলে, তা শরৎ শেষের হেমন্তেও জারি রয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজো থেকে শুরু করে ছট পুজো পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন উৎসবের রশ ধরে আনন্দের প্রহর অব্যাহত। এদিকে, সামনেই রয়েছে ছট পুজো । কথিত রয়েছে এই সময় সূর্যদেবকে প্রসন্ন করতে পারলে মনের মতো চাহিদা মিটতে পারে। বহু আকাঙ্খা পূর্ণ হয়ে যায় এই ছট পুজো উপলক্ষ্য়ে। ৮ নভম্বর থেকে ছট পুজোর 'নাহায় খায়' বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। এর পরবর্তীকালে কবে থেকে ছট পুজোর মূল পর্ব শুরু হবে, তা দেখে নেওয়া যাক।

কবে ছট পুজো?
১১ নভেম্বরে শুরু হবে ছটের মহাপর্ব। শাস্ত্র মতে, অনুযায়ী ৮ নভেম্বর স্নান খাওয়া ধর্মী রীতি পালিত হবে। এমন দিন গোটা বাড়ি পরিষ্কার করা হয় এবং স্নানের পর উপবাস শুরু হয়, একই সঙ্গে শুরু হয়ে যায় ব্রত নেওয়ার পালা। এই দিনে ছোলার ডাল, কুমড়ার তরকারি ও চাল অর্পণ করা হয়। পরের দিন শুরু হয় আরও একটি উপবাস । এরপর রয়েছে ৯ নভেম্বরের বিশেষ পর্ব। সম্পত্তি, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য এমন দিনে সূর্য দেবের বিশেষ পুজো পালিত হয়।

নির্জলা উপবাস ৩৬ ঘণ্টা
ছট পুজোর বিধির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন দিক হল ৩৬ ঘণ্টার উপবাস। কার্তিক মাসে বিভিন্ন রীতি পালনের মাঝে নির্জলা এই উপবাস ভঙ্গ করেই সূর্যদেবকে প্রথম জল অর্পণ করে শুরু হয়ে ছটের মহাপর্ব। সাধরাণ বিবাহিত মহিলারা দাম্পত্য ও ,সন্তানের সমৃদ্ধির জন্য এই ছটের বিধি পালন করেন। তবে, অনেক সময় পুরুষদেরও এই বিধি পালন করতে দেখা যায়। পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, নেপাল ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় এমন ছট পুজোর আসর দেখা গিয়েছে বহুবার।

ছট পুজোর বিধি
পুজোর বিধি নিয়ে একাধিক নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। প্রথমে পূণ্যস্নান প্রয়োজন ছট পুজোর পূণ্য রীতি শুরু করার জন্য। এরপর পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে প্রসাদ দেবতকে অর্পণ করতে হবে। এরপর, প্রসাদ সকলের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। ছট পুজোর প্রথম দিনে ছোলার ডাল ও খাদ্দু ভাট প্রসাদ হিসাবে অর্পণ করা হয়। ছট পুজোর দ্বিতীয় দিনকে খারানা বলা হয়। এই দিনে ক্ষীরের মিষ্টি তৈরি করা হয়। এমন দিনে গুড় ও চালের মিষ্টি তৈরি হয়।

উপবাস এরপর কেমনভাবে হয়?
এরপরবর্তীকালে প্রসদা খেয়ে শুরু হয়ে যায় তৃতীয় দিনের উপবাস। ৩৬ ঘণ্টা ধরে জল না পান করে এম উপবাস শুরু হয়। ভক্তরা সাত্ত্বিক খাবার অর্থাৎ পেঁয়াজ ও রসুন ছাড়া খেতে শুরু করেন। উপবাস ৩৬ ঘন্টা পালন করা হয়, যা ৪ দিন স্থায়ী হয় এবং পরের দিনের সূর্যোদয় পর্যন্ত সারা রাত ধরে উপবাস চলতে থাকে।
গুড়, ঘি এবং ময়দা সহ থেকুয়ার প্রসাদ ভক্তরা প্রস্তুত করে এবং সূর্যাস্তের সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে সন্ধ্যা অর্ঘ্য বা পেহেলি অর্ঘ্য নামে পরিচিত জলাশয়ে ভগবান সূর্যকে অর্ঘ্য নিবেদন করে। সূর্যকে প্রার্থনা করে ঋগ্বেদ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। প্রসাদে লবণ ছোঁয়া হয় না। এরপর আসে
পরান দিন, যেখানে ভক্তরা প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উপবাস শেষ করার জন্য হ্রদ, নদী বা সমুদ্রের মতো জলাশয়ে পা ডুবিয়ে সূর্যকে উষা অর্ঘ্য বা দুসরি অর্ঘ্য প্রদান করে।












Click it and Unblock the Notifications