অত্যন্ত শুভ ফল দেয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন করা এইসব মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, জেনে নিন কারণ ও মহত্ব
অত্যন্ত শুভ ফল দেয় অক্ষয় তৃতীয়ার দিন করা এইসব মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, জেনে নিন কারণ ও মহত্ব
সনাতন ধর্মে বেদ, পুরাণ ও উপনিষদে বিভিন্ন দিনের নানা রকম গুরুত্ব ও মহত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। একদিকে যেখানে বছরের বেশকিছু দিনকে অশুভ বলে মনে করা হয়, আবার ঠিক তেমনই কিছু দিনকে অত্যন্ত পবিত্র দিন বলেও বিবেচনা করা হয়েছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, যে সকল দিন অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ বলে ধার্য করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। মনে করা হয় এই বিশেষ দিনের কোনও আলাদা শুভ লগ্ন বা কালবেলা হয় না। কারণ এই গোটা দিনটিই অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

অক্ষয় তৃতীয়ার নির্ঘণ্ট
পঞ্জিকা অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয়ে থাকে। এই বিশেষ দিনটি উদযাপনের পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। এই বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হতে চলেছে আগামী ৩মে। এই দিনের মহত্ব অপরিসীম। বলা হয়ে থাকে এই দিনটি এতটাই শুভ যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন পণ্ডিতের পরামর্শ ছাড়াই যে কোনও শুভ কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে। জেনে নেওয়া যাক অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ সময় ও গুরুত্ব।

অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ সময়
পঞ্জিকা অনুসারে চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে অক্ষয় তৃতীয়া অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৩মে। এই দিন অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র তিথি শুরু হবে মঙ্গলবার ৩মে ভোর ৫টা বেজে ১৯ মিনিটে এবং তৃতীয়া তিথি ছাড়বে পরের দিন অর্থাৎ ৪ মে সকাল ৭টা বেজে ৩৩ মিনিটে। এই দিন রোহিণী নক্ষত্রের অবস্থান হবে ৩ মে বেলা ১২টা বেজে ৩৩ মিনিট থেকে ৪ মে ভোর ৩টে বেজে ১৯ মিনিট পর্যন্ত।

অক্ষয় তৃতীয়ায় শুভ কাজ
অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ দিনটি যে কোনও শুভ ও মাঙ্গলিক কাজের জন্য বছরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, এই দিনে নতুন জামাকাপড়, গয়না, নতুন বাড়িতে গৃহপ্রবেশ বা গাড়ি ইত্যাদি কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়। মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের মতো অনেক রাজ্যে আবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে সোনা ও রূপা কেনার প্রথা রয়েছে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে সোনা ও রূপা কিনলে ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে দানকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই বিশেষ দিনে দান করলে জীবনে কখনও সুখ ও সমৃদ্ধির অভাব হয়না।

অক্ষয় তৃতীয়ার মহত্ব
অক্ষয় তৃতীয়াকে শুভ অক্ষয় দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পৌরাণিক মান্যতা অনুযায়ী, এই দিনেই মহর্ষি বেদব্যাস মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন, যা লিপিবদ্ধ করেন স্বয়ং শ্রী গণেশ। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ভগবান শ্রী গণেশের পুজো করা হয় অপার সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য। এই দিনে মহাদেবের আশীর্বাদে কুবের দেবতাদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়ে অপার সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, তাই এই দিন মা ভাগ্যলক্ষ্মীর পুজোও করা হয়ে থাকে। এই দিনেই শ্রী জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রার জন্য রথ তৈরি করা শুরু হয়। শীতকালে ৬মাস বন্ধ থাকার পর অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কেদার, বদ্রী, গঙ্গোত্রী ও যমুনেত্রী অর্থাৎ চারধাম মন্দিরের দরজা খোলা হয়। এছাড়াও দেশ জুড়ে বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্নরকম ভাবে এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে।
(এই সকল তথ্য সম্পূর্ণ জ্যোতিষ তথ্যের উপর নির্ভরশীল)












Click it and Unblock the Notifications