শ্মশানে চিতার ওপর তৈরি মা কালীর মন্দির, সদ্য বিবাহিতরা আসেন এখানে, কেন জানেন?
শ্মশানে চিতার ওপর তৈরি মা কালীর মন্দির, সদ্য বিবাহিতরা আসেন এখানে, কেন জানেন?
ভারত এক রহস্যময় দেশ। এই দেশের কোণায় কোণায় লুকিয়ে রয়েছে বহু অজানা তথ্য। যা জানার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি। সেরকমই এই দেশে বহু রহস্যময় মন্দির রয়েছে। রহস্যগুলিও এমনই যা বহু শতাব্দী ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এছাড়াও, অনেক মন্দির তাদের সঙ্গে জড়িত অদ্ভুত বিশ্বাস, ভৌগলিক অবস্থা ইত্যাদির কারণেও বিখ্যাত। এর মধ্যে একটি হল বিহারের দারভাঙায় একটি চিতার উপর নির্মিত মা কালীর মন্দির।

কালী মন্দিরের নাম কি
শ্যামা মাই নামে পরিচিত এই কালী মন্দিরটি শ্মশানে অবস্থিত। শুধু তাই নয়, এই মন্দিরটি চিতার উপরে তৈরি। বিশ্বাস করা হয় যে এই মন্দিরে মা শ্যামা কালীর শুধু দর্শনেই সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়।

কার চিতার ওপর এই মন্দির তৈরি হয়েছে
শ্যামা মায়ের এই মন্দিরটি মহারাজা রামেশ্বর সিং-এর চিতার উপর নির্মিত। এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে একজন ব্যক্তির চিতার উপর একটি মন্দির তৈরি করা হয়েছে। তবে এর পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। মহারাজা রামেশ্বর সিং ছিলেন দারভাঙা রাজপরিবারের একজন সাধক রাজা। দেবীর প্রতি তাঁর সাধনা প্রসিদ্ধ ছিল। এখনও এই মন্দিরটি রামেশ্বরী শ্যামা মাই নামে পরিচিত। এই মন্দিরটি ১৯৩৩ সালে মহারাজা রামেশ্বর সিংয়ের বংশধর দারভাঙার মহারাজা কামেশ্বর সিং তৈরি করেছিলেন।

ভক্তরা আরতিতে অংশ নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন
এই মন্দিরে, মা কালীর গলায় মুণ্ডমালা রয়েছে এবং এতে মাথার সংখ্যা হিন্দি বর্ণমালার সংখ্যা যত ঠিক ৫২টি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে হিন্দি বর্ণমালা সৃষ্টির প্রতীক। এই মন্দিরের আর একটি বিশেষ জিনিস হল এখানকার আরতি। এই মন্দিরের আরতি এতটাই বিখ্যাত যে ভক্তরা এখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকেন। বিশেষ করে নবরাত্রিতে এখানে প্রচুর ভিড় হয়। এছাড়া কালীপুজোর দিনও বিশেষ পুজো হয় এখানে।

তন্ত্র–মন্ত্র উভয়ভাবেই পুজো হয়
এই মন্দিরে বৈদিক ও তান্ত্রিক উভয় পদ্ধতিতেই মা কালীর পুজো করা হয়। যদিও হিন্দুধর্মে বিয়ের এক বছর পর্যন্ত নতুন বর-বউকে শ্মশানে যেতে বারণ করা হয়, তবে নবদম্পতিরা দূর-দূরান্ত থেকে এই মন্দির দেখতে আসেন। মায়ের দর্শনে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications