১৪ শাক ও ১৪ বাতি জ্বালিয়ে পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী, জানেন কী তার ব্যাখ্যা

১৪ শাক ও ১৪ বাতি জ্বালিয়ে পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী, জানেন কী তার ব্যাখ্যা

কালীপুজো হয় দীপান্বিতা অমাবস্যায়। আর তার আগের দিনই হল ভূত চতুর্দশী। হিন্দু মতে চতুর্দশী তিথিতে নানা আচার পালন করার রীতি রয়েছে। ১৪ শাক ও ১৪ বাতি জ্বালিয়ে পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী। কিন্তু কেন এই নিয়ম? আবার শুধু কি বাংলায় বা ভারতে এই প্রথা রয়েছে, পশ্চিমা দুনিয়াতেও একইরকমভাবে পালিত হয় হ্যালোউইন উৎসব।

১৪ শাক ও ১৪ বাতি

১৪ শাক ও ১৪ বাতি

হিন্দু মতে বিশ্বাস, কালীপুজোর আগের রাতে ভূত চতুর্দশী তিথিতে মৃত পূর্ব পুরুষরা নেমে আসেন মর্ত্যে। তাঁদের খুশি করতে, অতৃপ্ত আত্মাদের অভিশাপ থেকে বাঁচতে এদিন নানা আচার পালন করা হয়। চোদ্দ পুরুষের আত্মার শান্তির জন্য চোদ্দ শাক খাওয়া হয় এদিন। আবার সন্ধ্যায় চোদ্দ বাতি জ্বালার রেওয়াজও রয়েছে।

পুরাণেও একটি গল্পও রয়েছে

পুরাণেও একটি গল্পও রয়েছে

এ তো গেল আচার-অনুষ্ঠানের কথা। কিন্তু এই ভূত চতুর্দশী নিয়ে পুরাণেও একটি গল্পও রয়েছে। সেই গল্প দানবরাজ বলিরাজের। দানবরাজ বলি তখন স্বর্গ, মর্ত্য ও পালাত দখল করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছেন। তাঁর আক্রোশ থেকে নিস্তার নেই দেবতাদেরও। দেবতারা সবাই বিষ্ণুর স্মরণ নিয়েছেন। কিন্তু ভক্ত বলিরাজকে দমন করেন কীভাবে বিষ্ণু নারায়ণ! দেবগুরু বৃহস্পতি তখন উপায় বাতলে দিলেন ভগবান বিষ্ণুকে।

দানবরাজের পাতাল প্রবেশ

দানবরাজের পাতাল প্রবেশ

সেইমতো বিষ্ণু বামন অবতারের রূপে এলেন দানবরাজ বলির সকাশে। বলি ছিলেন অতিদানী। তাঁর কাছে মাত্র তিন পা সমান জমি ভিক্ষা চাইলেন বিষ্ণু। বলি রাজিও হলেন তা দিতে। সেইমতো বিষ্ণু তাঁর দুই পা দিয়ে স্বর্গ ও মর্ত্য দখল করে নিলেন। আর নাভিপদ্ম থেকে বেরিয়ে আসা তৃতীয় পা তিনি রাখলেন রাজা বলির মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে পাতালে নেমে গেলেন দানবরাজ। সেই থেকে পাতালই হল তাঁর আবাস।

ভূত-প্রেত নিয়ে আসেন বলিরাজা

ভূত-প্রেত নিয়ে আসেন বলিরাজা

বলি চিরকাল ছিলেন বিষ্ণুর অনুগত। সেইজন্য তাঁর প্রতি অনুকম্পাও দেখান ভগবান। তিনি বলেন, পাতালে নিবাস হলেও প্রতি বছর মর্ত্যে তাঁর পুজো হবে। সেইমতো কালীপুজোর আগের রাতে বলি রাজা পাতাল থেকে উঠে আসেন পুজো নিতে। সহচর হিসেবে তাঁর সঙ্গে আসে শত সহস্র ভূত, প্রেতাত্মা ও অশরীরী।

মৃত্যুর পর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন

মৃত্যুর পর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন

তেঁনাদের তুষ্ট করতেই চতুর্দশী তিথিতে ১৪ শাক ভক্ষণ ও ১৪ বাতি জ্বালানোর প্রথা চলে আসছে। হিন্দুদের বিশ্বাস মৃত্যুর পর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। আকাশ, মাটি, জল, হাওয়া, অগ্নি- প্রকৃতির এই পাঁচ উপাদানের মধ্যেই মিশে থাকেন পূর্বপুরুষরা। প্রকৃতি থেকে তুলে আনা ১৪ প্রকার শাক খেয়ে ১৪ পুরুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয় দিনটি।

১৪ শাক ধোওয়া জল ছিটিয়ে

১৪ শাক ধোওয়া জল ছিটিয়ে

ভূত চতুর্দশীতে যে ১৪টি শাক খাওয়ার প্রথা রয়েছে, তা হল- ওল, পুঁই, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাটপাতা ও শুষনি। শুধু তাই নয়, ১৪ শাক ধোওয়া জল ছিটিয়ে দেওয়া বাড়ির অন্ধকার কোণে। তারপর দুপুরে ১৪ শাক ভাজা খেয়ে সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে দরজায় ১৪ ফোঁটা দেওয়ার রেওয়াজও আছে।

প্রচলিত বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে

প্রচলিত বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে

ভূত চতুর্দশীতে এই ১৪ শাক খাওয়া ও ১৪ বাতি প্রজ্বলন ও অন্যান্য আচার পালনের রেওয়াজ হিন্দুদের হলেও এটা মূলত প্রচলিত বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের হিন্দুদের মধ্যে এই আচার পালনের রেওয়াজ নেই। তাই বাঙালি হিন্দু প্রথা মেনে এই আচার পালন করে আসছে ধারাবাহিকভাবে।

রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও

রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও

১৪ প্রদীপ জ্বালানো ও ১৪ শাক খাওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। হেমন্তের শুরুতে পোকার উপদ্রব দূর রতে বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হয়। তা পোকারা উপদ্রব দূর করে। আবার ঋতুর পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে নানা অসুখ-বিসুখ হয়। এই ১৪ শাক খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।


খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+