তৃণমুলের ‘দাদাগিরি’ মানতে নারাজ ভাই কেজরিও! জোট প্রস্তাব খারিজে বিপাকে মমতা
তৃণমুলের ‘দাদাগিরি’ মানতে নারাজ ভাই কেজরিও! জোট প্রস্তাব খারিজে বিপাকে মমতা
কংগ্রেসের দাদাগিরি মানতে পারবেন না বলে বিরোধী মহাজোট গড়তে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী মহাজোট গড়তে তৎপর। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের দাদাগিরিও অনেকে মানতে নারাজ। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির বিরুদ্ধে মহাজোক এখনও বিশ বাঁও জলে।

বিরোধী জোটের সলতে পাকাতে কেজরিকে প্রস্তাব মমতার
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিরোধী সমস্ত দলকে এক ছাতার তলায় আনতে বিরোধী সমস্ত দলতে আহ্বান জানান। তিনি বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এক করতে। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনর আগে বিরোধী জোটের সলতে পাকানোর কাজটা শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তিনি এবার দিল্লি গিয়ে কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করে এই জোট-বার্তাও দেন।

মমতার জোট প্রস্তাবে গররাজি আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া জোট প্রস্তাবে গররাজি আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে। তাঁর সমর্থনে তিনি কতজনকে পাবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আগেই শিবসেনা বা এনসিপি এবং ডিএমকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে গররাজি না হলেও, তাঁরা চান কংগ্রেসকে অগ্রভাগে রেখেই হোক মহাজোট। কংগ্রেস ছাড়া মহাজোট সম্পূর্ণ হবে না। এই বার্তা ইতিমধ্যে একাধিকবার দিয়েছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরও।

মমতার প্রস্তাব খারিজ করে জোটে ভঙ্গ দিলেন কেজরিওয়াল!
সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব খোলাখুলি তাঁর সমর্থন বার্তা জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসি রাও-ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি আশা করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও তাঁর জোট-বার্তা মেনে নেবেন। এবং একইসঙ্গে শুরু হবে মহাজোটের সলতে পাকানো। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে জোটে ভঙ্গ দিলেন কেজরিওয়াল।

কেন কোনও একটি দলকে হারাতে জোট তৈরি করতে হবে
দিল্লির এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খোলাখুলিই অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়ে দেন বহুদলীয় রাজনীতিতে বা বহুদলীয় জোটে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তিনি বলেন, আমি জানি না কী করে এই বহুদলীয় রাজনীতি করতে হয়। এটাও জানি না কেন কোনও একটি দলকে হারাতে ১০ বা তার বেশি দলের জোট তৈরি করতে হবে।

মমতার জোট প্রস্তাব খারিজে জাতীয় ক্ষেত্রে চর্চা চলছে বিস্তর
অরবিন্দ কেজরিওয়াল সাফ জানিয়ে দেন, আমি কাউকে হারাতে চাই না। আমি দেশ জিতুক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯-এ এই কেজরিওয়ালও প্রথম জনসভা করে বিজেপি বিরোধী জোটের হাওয়া তুলেছিলেন। এবার তাঁর কথায় স্পষ্ট তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু কী কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, মমতার জোট প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন, তা নিয়ে চর্চা চলছে বিস্তর।

কংগ্রেস-বিজেপির পর একদলীয় শাসন-কাঠামো বিস্তার করতে
আম আদমি পার্টি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাঁরা আঞ্চলিক দল হয়েও দুটি রাজ্য ক্ষমতায় রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক রাজ্যে তারা নিজেদের ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে সফলভাবে। তাদের লক্ষ্য, দেশজুড়ে বিস্তারলাভ করা। কোনও হাঁকডাক না করেই সন্তর্পণে তাঁরা এই কাজ করে চলেছেন। বিজেপি ও কংগ্রেসের পর তাঁরাই চেষ্টা করছেন বিভিন্ন রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে একদলীয় শাসন পরিকাঠামো বিস্তার করতে।

অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ছড়ি ঘোরানো মানতে নারাজ
আম আদমি পার্টির মতো অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ছড়ি ঘোরানো মানতে নারাজ। ফলে জোট সর্বসম্মত পথে এগোচ্ছে না। প্রথমত কংগ্রেসের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েই রয়েছে তৃণমূলের। তারপর একাধিক আঞ্চলিক দল তৃণমূলের দিক থেকে সরে আসছে। ক্রমেই সেই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এদিকে বিজেপির পোয়াবারো বিরোধীরা ছন্নছাড়া।












Click it and Unblock the Notifications