বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার হবে তৃণমূলের কংগ্রেস বিরোধিতায়! ২০২৪-এ জোট-অঙ্কে জটিলতা
বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার হবে তৃণমূলের কংগ্রেস বিরোধিতায়! ২০২৪-এ জোট-অঙ্কে জটিলতা
একুশের ভোট-পর্ব থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলায় জোর দিয়েছিল তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে দুই কংগ্রেস একসঙ্গে চলতে দিল্লিতে গিয়ে রাহুল-সোনিয়ার সঙ্গে যুক্তিও করে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই গাঁটছড়া খসে পড়ল অল্প দিনেই। কোনও এক আশ্চর্য কারণে কংগ্রেস বিরোধিতা শুরু করে দিল তৃণমূল। তার ফলে জোট-অঙ্ক জটিল হতে শুরু করে দিল আবার।

মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরই বিরোধিতা
একুশের নির্বাচনের পর থেকেই কংগ্রেস বাম-সংসর্গ ত্যাগ করে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছিল। ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী প্রবল তৃণমূল বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। পরে হাইকম্যান্ডও তাঁর কথার সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মমতার দলের প্রচার বিরোধী ঐক্যকে দ্বিধাবিভক্ত করে দিচ্ছে
কিন্তু ভবানীপুরের উপনির্বাচনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল প্রবল কংগ্রেস বিরোধিতা শুরু করে। মোদী বিরোধী মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধী ব্যর্থ, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে লড়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এহেন প্রচার বিরোধী ঐক্যকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

অভিষেকের ইডি-তলবের পর থেকেই বদলে গিয়েছে তৃণমূলের কথা
অধীর চৌধুরী মনে করেন, তৃণমূলের এই রাহুল-বিরোধিতা বা কংগ্রেস-বিরোধিতা বিজেপির পথ মসৃণ করে দেবে ২০২৪-এর জন্য। বিরোধী ঐক্যের সুরও কেটে যাবে। প্রকারান্তরে বিজেপির সমর্থনের গলা ফাটাচ্ছে তৃণমূল। তিনি মনে করেন, নেপথ্যে অন্য কোনও খেলা আছে। তাই তৃণমূল পাল্টি খেয়ে এখন কংগ্রেস বিরোধিতায় নেমেছে। অভিষেকের ইডি-তলবের পর থেকেই বদলে গিয়েছে তৃণমূলের কথা। তৃণমূলের কংগ্রেস বিরোধিতা বিজেপিকেই শক্তি জোগাচ্ছে।

ভবানীপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কথায়, ভবানীপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না। কারণ কংগ্রেস কখনও সৌজন্য দেখাতে কার্পণ্য করে না। আমরা প্রার্থী দিইনি কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সম্প্রতি বিপুল জন সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই জয়কে সম্মান দিতেই আমরা প্রার্থী দিইনি তাঁর বিরুদ্ধে।

বিজেপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে চলছে তৃণমূল, অভিযোগ অধীরের
অধীরের কথায়, কংগ্রেস যখন সৌজন্য দেখাচ্ছে, তখন তৃণমূল যেভাবে হাইকম্যান্ডকে নিশানা করছে, তা শীর্ষনেতৃত্ব ভালোভাবে নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে চলছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই এত কংগ্রেস বিরোধিতা। তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধী কথা বার্তা বা মোদী-বিরোধিতা মেকি।

কংগ্রেসের ক্ষতিসাধন করলেই একমাত্র বিজেপির ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত
অধীর বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মুখে বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে। এদিকে বিজেপি বিরোধী প্রধান শক্তি কংগ্রেসকে ভেঙে চলেছে। কংগ্রেসের ক্ষতিসাধন করলেই একমাত্র বিজেপির ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত হবে। সেই কাজটাই অতি সন্তর্পণে করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মতো দলগুলিকে দিয়ে সেই কাজটাই করে চলেছে।

তৃণমূল-আপকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা বিজেপির
২০১৪-য় ক্ষমতায় আশার পর বিজেপি বলেছিল, তাঁদের স্বপ্ন কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়া। সেই চেষ্টা তারা করেছিল সর্বতোভাবে। কিন্তু তাঁরা নিজেরা তা পারেনি এখন পর্যন্ত। এখন তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টিকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই কারণেই কিছু কিছু রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের নামে কংগ্রেসকে ভাঙছে তৃণমূল। আপও একই কাজ করে চলেছে বিভিন্ন রাজ্যে।

তৃণমূল-আপের কংগ্রেস বিরোধিতা দেখে বিজেপি মুচকি হাসছে
কংগ্রেস মনে করছে, তৃণমূল ও আম আদমি পার্টি যে কাজ করছে, তার ফলে বিজেপিরই লাভ হবে। তৃণমূল-আপের এই কাজে বিরোধী ঐক্যও গড়ে উঠবে না। বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার হবে ২০২৪-এর নির্বাচন জয়ের জন্য। সেটাই চায় বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস আর আপের এই কংগ্রেস বিরোধিতা দেখে বিজেপি এখন মুচকি হাসছে।

কংগ্রেস ভেঙেই চলেছে তৃণমূল, বিজেপির পথ মসৃণ হচ্ছে
সম্প্রতি কংগ্রেস ভেঙে সুস্মিতা দেব যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ত্রিপুরাতেও কংগ্রেসে ভাহন ধরিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। একইভাবে গোয়াতেও প্রাক্তন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীকে দলে নিয়েছে তৃণমূল। তারা কংগ্রেসকে ভেঙে চলেছে ধারাবাহিকভাবে। আবার মেঘালয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছে তৃণমূল। তবে এ যাত্রায় মেঘালয়ের ভাঙন রোখা সম্ভব হয়েছে কংগ্রেসের পক্ষে।

বিজেপির বিরুদ্ধে জোট পলকা হবে, লড়াইও সঙ্ঘবদ্ধ হবে না
রাজ্যে রাজ্যে যদি কংগ্রেসে থাবা বসায় তাদের মিত্র-শক্তি বলে পরিচিত দলগুলি, তাহলে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট যেমন পলকা হবে, লড়াইও সঙ্ঘবদ্ধ হবে না। কংগ্রেস তাই তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বিজেপির হয়েই কাজ করছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগও এনেছেন অধীর চৌধুরী।












Click it and Unblock the Notifications