তৃণমূল কি কংগ্রেসকে দুর্বল করতেই বিজেপি-শাসিত রাজ্যে পা রাখছে, কী ব্যাখ্যা অভিষেকের
তৃণমূল কি কংগ্রেসকে দুর্বল করতেই বিজেপি-শাসিত রাজ্যে পা রাখছে, কী ব্যাখ্যা অভিষেকের
বিজেপি-শাসিত রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসকে দুর্বল করছে তৃণমূল। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই নতুন এ খেলা শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কিন্তু তৃণমূল তা মানতে নারাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় গিয়ে সেই ব্যাখ্যাই দিলেন। জানিয়ে দিলেন বিজেপি বিরোধিতাই তাঁদের এক ও একমাত্র লক্ষ্য।

কংগ্রেসে ভাঙন ধরানোর প্রসঙ্গে অভিষেক
সম্প্রতি ত্রিপুরা সফরে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যথারীতি বিজেপির বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি বিপ্লব দেবের প্রশাসন। এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন অভিষেক। স্বভাবতই উঠেছে কংগ্রেসে ভাঙন ধরানোর প্রসঙ্গ, তা তিনি নিজস্ব স্টাইলেই উড়িয়ে দিলেন।

কংগ্রেস ভেঙেই বেড়ে উঠেছে তৃণমূল
বাংলায় একুশের নির্বাচনের জেতার পর ভিনরাজ্য সংগঠন গড়ে তুলতে চাইছে। সেই লক্ষ্য নিয়েই ত্রিপুরা ও গোয়ায় পা রেখেছে তৃণমূল। ত্রিপুরায় তাঁরা মূলত কংগ্রেস ভেঙেই বেড়ে উঠেছে। এখনও বিজেপিকে সেভাবে ভাঙতে পারেনি তৃণমূল। আর গোয়াতেও সেই একই ছবি দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি মেঘালয়ে কংগ্রেসের ১২ বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিয়ে বিরোধী দল হয়ে বসেছে তৃণমূল।

কংগ্রেসকে দুর্বল করা লক্ষ্য নয় তৃণমূলের
এই অবস্থায় অভিষেককে মুখোমুখি হতে হয় সেই প্রশ্নের। বিজেপি বিরোধিতার নামে আদতে কংগ্রেসের সংগঠন ভাঙছে তৃণমূল। রাজ্যে রাজ্যে সেই ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিন্তু অভিষেক বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসকে দুর্বল করা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা তা করছিও না।

শুধু বিজেপিশাসিস রাজ্যেই যাচ্ছে তৃণমূল
অভিষেকের কথায়, তৃণমূল যে রাজ্যে যাচ্ছে, সেখানে বিজেপির সরকার। কংগ্রেসশাসিত রাজ্যে আমরা যাচ্ছি না। আমরা যদি কংগ্রেসকে দুর্বল করতে চাইতাম তবে আমরা পাঞ্জাবে যেতাম, ছত্তিশগড়ে যেতাম, রাজস্থানে যেতাম, মহারাষ্ট্র যেতাম। কিন্তু আমরা সেইসব রাজ্যে যাইনি। আমরা এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় পা রেখেছি, গোয়ায় গিয়েছি। দুই রাজ্যেই বিজেপির সরকার চলছে।

কংগ্রেসকে পরামর্শ দিলেন অভিষেক
অভিষেক এরপর বলেন, কংগ্রেসের অনেক নেতা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। আমরা যদি কংগ্রেসকে দুর্বল করতে চাইতাম, তাহলে হিসেবটাই উল্টে যেত। আমরা যেমন পাঞ্জাবে যাইনি, আমরা উত্তরপ্রদেশেও যাব না। কিন্তু কংগ্রেসকে শীত ঘুম ভেঙে বেরোতে হবে। কংগ্রেসকে রাস্তায় নেমে বিজেপির বিরোধিতা করতে হবে।

বিজেপিকে আটকাতে কী করণীয়
কংগ্রেস ব্যর্থ বলেই তৃণমূলকে বিনরাজ্যে পার রাখতে হয়েছে বিজেপি বিরোধিতায়। কংগ্রেস শুধু দিল্লিতে বসে টুইট আর প্রেস কনফারেন্স করেই বিরোধিতা সারছে। কিন্তু বিজেপিকে এভাবে আটকানো যাবে না। বিজেপিকে আটকাতে গেলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে। যেটা করে তৃণমূল। কংগ্রেস তা পারেনা বলেই তৃণমূল আসরে নেমেছে।

বিজেপিকে হারানোর পণ তৃণমূলের
অভিষেক বলেন, আমরা কম বাধার সম্মুখীন হইনি। প্রতিদিন হাজারো আইনি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। তবু আমরা পিছু হটিনি। কেননা আমরা বিজেপিকে হারানোর পণ করেছি। আমরা জানি যে মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে আমরা সফল হবই। আমরা মানুষের পাশে থেকে মানুষকে নিয়েই এই লড়াই জিতব।

দলে আনতে কাউকে জোর নয়
তিনি এদিন বলেন, আমরা জোর করে দলে আসিনি। আমাদের দলে আনতে কাউকে জোর করাও হবে না। যাঁরা মনে করছেন বিজেপিককে হারাতে গেলে তৃণমূলের মঞ্চে যাওয়া দরকার, তাঁরা আসছেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই বহু কংগ্রেস বিধায়ক, ক্রীড়া-সংস্কৃতি ও অন্যান্য জগতের মানুষজন আমাদের সঙ্গে আসছেন। আমাদের পাশে থাকছেন বিজেপিকে হারানোর এই লড়াইয়ে।

‘এক নম্বর হয়েই থামব আমরা’
অভিষেক বলেন, আমরা জানি, আমাদের সামনে কঠিন লড়াই। সামনেই গোয়ার নির্বাচন। ত্রিপুরায় আগামী এক বছর আমাদের কণ্টকময় পথে চলতে হবে। জানি এ রাস্তা মসৃণ নয়। তবু প্রত্যয় নিয়ে আমরা ময়দানে রয়েছি, ময়দানে থাকব। এখানে সিপিএম ১৬ জন বিধায়ক নিয়েও গঠনমূলক বিরোধিতা করতে পারেনি। কিন্তু আমরা কোনও আসন না নিয়েই বিজেপির বিরোধিতা চালিয়ে যাব। আমরা শূন্য থেকে শুরু করেছি, তা বলে শূন্য পেয়ে শেষ করব না। আমরা এক নম্বর হয়েই থামব।

নতুন রাজ্য কমিটি গড়ার অপেক্ষা
অভিষেক বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০১৩-র তৃণমূল আর ২০২২-এর তৃণমূল কিন্তু এক নয়। মনে রাখবেন ২০২২-এ তৃণমূল ঘরগুছিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে। এবার তাদের পায়ের তলায় মাটি রয়েছে। এত সহজে আমরা পিছু হটব না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ত্রিপুরায় নতুন পার্টি অফিস হবে। রাজ্য কমিটি গঠন হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা যোগ দিতে চাইছেন তৃণমূলে। তাঁরা যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূল নতুন রাজ্য কমিটি গড়ে ঝাঁপাবে ত্রিপুরার জন্য।












Click it and Unblock the Notifications