মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ধূমকেতু, একবার গেলে আর ফিরবে না

চিনা রকেটের টুকরোগুলি উল্কাপাতের মতো আকাশে আলোক বিচ্ছুরণ করেছে। ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষ সেই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে।

চিনা রকেটের টুকরোগুলি উল্কাপাতের মতো আকাশে আলোক বিচ্ছুরণ করেছে। ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষ সেই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। এরপর আগামী মাসে একটি ধূমকেতু ধেয়ে আসছে আকাশকে আলোকিত করতে। সি/২০২১ ০৩ নামের ওই ধূমকেতু সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ গ্রহগুলির কাছে আসছে এবং এই বছরের মে মাসের মধ্যে পৃথিবীর আকাশ অতিক্রম করবে ওই ধূমকেতু।

মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ধূমকেতু

২০২১ সালের জুলাইয়ে আবিষ্কৃত ধূমকেতুটি বর্তমানে সূর্যের পিছনে রয়েছে। আমাদের সৌরজগতের সবথেকে দূরবর্তী অঞ্চল উর্ট ক্লাউড থেকে দেখা যায় ধূমকেতুটি। উর্ট ক্লাউড সৌরজগতের বাকি অংশকে ঘিরে থাকা একটি বিশাল গোলাকার শেল বলে মনে করা হয়। এটি মহাকাশের বরফের টুকরো দিয়ে তৈরি একটি বড় ও পুরু-প্রাচীরের বুদবুদের মতো, যা পাহাড়ের আকারের এবং কখনও কখনও বড়ও হয়।

ধূমকেতুগুলি হিমায়িত গ্যাস, শিলা এবং ধূলিকণার মহাজাগতিক স্নোবল, যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। আর সৌরজগতের হিমায়িত অবশিষ্টাংশ নিয়ে গঠিত হয়। নাসার মতে, তারা দশ মাইল পর্যন্ত প্রশস্ত হয়। এগুলি উত্তপ্ত হয় এবং উজ্জ্বলও হয়, যা একটি গ্রহের থেকেও বড় হতে পারে। সেইসঙ্গে ধূমকেতু একটি লেজ গঠন করে, যা লক্ষ লক্ষ মাইল প্রসারিত হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধূমকেতু সি/২০২১ ০৩-এর গতিবিধি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় অনুমান করেন, এটি সূর্যের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে এটি বাষ্প হয়ে যেতে পারে। তারপর যদি এই ধূমকেতুর অস্তিত্ব থাকে বা বেঁচে থাকে, তবে তখন এটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসার সম্ভাবনা থাকবে। ধূমকেতুটি সূর্য থেকে ০.২৯ জ্যোতির্বিদ্যা ইউনিট দূরে রয়েছে। ২১ এপ্রিল সূর্যকে অতিক্রম করে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্থস্কাই অনুসারে, ধূমকেতুটি 8 মে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে। পৃথিবী থেকে প্রায় ০.৬০ জ্যোতির্বিদ্যা ইউনিট বা ৮২ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করবে। প্যানোরামিক সার্ভে টেলিস্কোপ এবং র্যা্পিড রেসপন্স সিস্টেম বা 'প্যান-স্টারস' টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধূমকেতুটি প্রথম দেখেছিলেন।

আবিষ্কারের সময় ধূমকেতুটি সূর্য থেকে ৪৮ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে ছিল। এটিকে বৃহস্পতির কক্ষপথের বাইরে রেখেছিল। এটি চোখের কাছে দৃশ্যমান অস্পষ্ট নক্ষত্রের থেকে প্রায় চার লক্ষ গুণ ম্লান ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, এই প্রথমবার ধূমকেতুটি সৌরজগতে পরিভ্রমণ করছে এবং অভ্যন্তরীণ গ্রহগুলিক পাশ দিয়ে ভ্রমণ করে চলেছে।

যদি এই ধূমকেতুটি সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে যায়. তবে এটি কখনই ফিরে আসবে না। ধূমকেতুটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে ভাসতে থাকবে। এটি আমাদের গ্রহের কাছাকাছি যাওয়ার সময়ও খালি চোখে দৃশ্যমান হবে না বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এটিকে দেখা যেতে পারে দূরবীন ব্যবহার করে। ধূমকেতুর উজ্জ্বলতা এই মাসের শেষের দিকে সূর্যের সাথে এর মিথস্ক্রিয়ার ভিত্তিতে বাড়তে বা কমতে পারে।

এই ধূমকেতুটির আগে পৃথিবীর আকাশে ফিরে এসেছে ধূমকেতু লিওনার্ড। ২০২১ সালে পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাওয়া সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু ছিল ওটি। সূর্যের কাছাকাছি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পরে ফের উদয় হয়। পৃথিবী অতিক্রম করার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সূর্যের উপর আঘাত হানে ধূমকেতুটি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+