একেবারেই এবার ভিড় হল না দার্জিলিং,কার্শিয়াংয়ে, দলে দলে পর্যটকরা ছুটছেন...বড় দাবি বাংলার ব্যবসায়ীদের
প্রয়াগরাজে চলছে মহাকুম্ভের শাহি স্নান! গোটা দেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটানের বাসিন্দারাও পাড়ি দিচ্ছেন প্রয়াগরাজে। ফলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায় এর বড় প্রভাব পড়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার। শীতের মরশুম মাত্র পাঁচদিনেই সীমাবদ্ধ। ধর্মপ্রাণ মানুষদের টানতে পচিমবঙ্গ তথা উত্তরপূর্ব ভারতের ধর্মীয় স্থানগুলি নিয়েও কেন্দ্র রাজ্যকে চিন্তাভাবনা করার দাবি উঠল।
এদিকে কুম্ভে এত ভিড় হওয়ার পেছনে যে ব্যাপক প্রচার প্রসার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এ রাজ্যেরও রয়েছে গঙ্গাসাগর থেকে শুরু করে অসমের কামাক্ষ্যা মন্দির সহ প্রচুর ধর্মীয় স্থান। কিন্তু প্রচার প্রসার সেভাবে না থাকায় জাতীয় স্তরে এর বিস্তার ঘটেনি বলেই অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

যদি এই স্থানগুলি নিয়ে কুম্ভের মতো প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা যেতো তাহলে এখানেও ভিড় বাড়ত বলে মনে করেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। মহাকুম্ভের টানে শীতের পর্যটন মরশুম ক্রিসমাস থেকে নিউ ইয়ার এই পাঁচদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়ে গেলো বলে আক্ষেপ পর্যটন ব্যবসায়ীদের। উত্তরবঙ্গে তিনটি সময়ে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গ্রীষ্মের ছুটি, পুজোর মরশুম ও শীতের মরশুম। মুলত ২৫ শে ডিসেম্বর থেকে গোটা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কার্শিয়াং কালিম্পং থেকে শুরু করে ডুয়ার্সের অঞ্চলগুলি থাকে পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা।
কিন্তু এই বছর ২৫ শে ডিসেম্বর থেকে ভিড় শুরু হলেও। নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত মাত্র পাঁচদিনের জন্য পর্যটকদের ভিড় ছিল। এরপর ধীরে ধীরে সেই ভিড় কমতে থাকে। দক্ষিণবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মানুষও দলে দলে প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। ফলে সেখানকার পর্যটন ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠলেও উত্তরবঙ্গ তথা পশ্চিমবঙ্গ এমনকি সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীদে প্রমাদ গুনতে হয়েছে।
এক ধাক্কায় পর্যটকদের কুম্ভমুখী হওয়ায় এখানকার পর্যটন ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বাসুর কথায়, কুম্ভ বা মহা কুম্ভ স্নান আজকের নয়। এটা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে। তবে এবার কুম্ভ নিয়ে যেভাবে প্রচার প্রসার হয়েছে তার ফলেই এবার প্রয়াগরাজে উপচে পড়েছে ভিড়। তার কথায়, এ রাজ্যে গঙ্গাসাগর রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে অসমের কামাক্ষ্যা মন্দির সহ প্রচুর ধর্মীয় স্থান। সেই সব জায়গাগুলিকে যদি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আরও উন্নত করে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা যায় তাহলে ধর্মপ্রাণ মানুষরা এই সব ধর্মীয় স্থানগুলিতেও ভিড় করবে।
তিনি বলেন, শুধু মহাকুম্ভের কথা না ভেবে এ রাজ্য তথা উত্তরবঙ্গে ও উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত ধর্মীয় স্থানগুলি রয়েছে সেগুলিকেও প্রচার প্রসারের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে নিয়ে আসার চিন্তা ভাবনার ওপর জোর দেওয়া দরকার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়কেই। পাশাপাশি গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ভাস্কর বাগচীর গলাতেও রয়েছে হতাশার সুর। তিনি বলেন, কুম্ভ মেলার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়। এই শীতের মরশুমে আশানুরূপ পর্যটক আসে নি। ফলে পয়টন ব্যবসা একপ্রকার ক্ষতির মুখে।












Click it and Unblock the Notifications