Bonedi Barir Durga Puja: মহাষষ্ঠীর দিন হয় দেবীর চক্ষুদান, দেখে আসুন বাঁকুড়ার অম্বিকানগর রাজবাড়ির পুজো
রাজবাড়ির পুজো। শুনলেই কেমন একটা ঠাকুর দালান তাতে বড়ো বড়ো ঝাড়বাতির ছবি চোখে ভেসে ওঠে। ঠাকুরদালান আজও রয়ে গিয়েছে ঠিকই। কিন্তু রাজা নেই, নেই রাজ্যপাট। রাজবাড়ির দশাও কঙ্কালসার। তবে নিয়ম করে পুজো আজও হয়। বাঁকুড়ার অম্বিকানগরের রাজবাড়ির পুজো কিন্তু চলে আসছে ঐতিহ্য মেনেই।
রাজবাড়ির প্রতিটি দেওয়ালের প্রতিটি ইঁটে গাঁধা আছে স্বাধীনত্তোর সময়ের বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস। তবে এতো সবের পরেও পূজোর জৌলুস কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু আজও ঐতিহ্যে অমলিন বাঁকুড়ার অম্বিকানগর রাজবাড়ির পূজো।

পুজোর ইতিহাস খোঁজার আগে বরং সাড়ে চারশো বছর পিছনে ফিরে যাওয়া যাক্। সেই সময় রাজস্থানের ঢৌলপুর থেকে জনৈক জগন্নাথ ঢৌল বর্তমান বাঁকুড়ার সুপুর পরগণায় এসে পৌঁছান। সেখানকার তৎকালীন রাজা চিন্তামনি পাইকে মল্ল যুদ্ধে পরাজিত করে তিনি সুপুর পরগনার রাজ সিংহাসনের অধিকারী হন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিবারিক বিবাদের কারণে পুরো জমিদারী তিন 'ভাগে ভাগ হয়। ন' আনা অংশ নিয়ে খাতড়া পরগণার রাজা হন জগন্নাথ ঢৌল পুত্র গোপী দাস ও ছ'আনার আনার অধিকার নিয়ে জগন্নাথ ঢৌলের ভ্রাতুস্পুত্র রাজা খড়্গেশ্বর ধবল দেব আনুমানিক বাংলা ১০৫১ সন নাগাদ কুমারী-কংসাবতী নদীর তীরে অম্বিকানগরে নিজ গড় প্রতিষ্ঠা করেন।
আর বাকি এক আনা অংশ রাজা জগন্নাথ ঢৌল বর্তমান ইন্দপুরের ব্রজরাজপুর গ্রামের শ্রী শ্রী শ্যাম সুন্দর জিউ-র নিত্যসেবা পরিচিলনার জন্য তাঁর গুরুদেব মথুরানন্দ গোস্বামীকে অর্পণ করেন। অন্যদিকে, খড়্গেশ্বর ধবল দেব তৎকালীন আমাই নগরে নিজ গড় তৈরীর পাশাপাশি তৈরী করেন দুই জাগ্রত দেব দেবী কালাচাঁদ ও অম্বিকার মন্দির। অনেকেই মনে করেন কূল দেবী অম্বিকার নামেই রাজধানীর নাম অম্বিকানগর রেখেছিলেন রাজা খড়্গেশ্বর ধবল দেব।

আর তাঁর হাত দিয়েই প্রায় সেই সময়ই শুরু হয় অম্বিকানগর রাজবাড়িতে দেবী দুর্গার আরাধণা। এই পরিবারেরই সদস্য, ষষ্ঠতম রাজা রাইচরণ ধবল দেব বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৮৭৭ সালে জন্ম নেওয়া রাজা রাইচরণ রাজপ্রাসাদের প্রভূত ঐশ্বর্য ছেড়ে বেছে নিয়েছিলেন দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোছনে বিপ্লবের দূর্গম পথ। সেই সূত্রেই অম্বিকানগর রাজবাড়িতে নিত্য যাতায়াত ছিল বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকি, বারিন ঘোষ, সত্যেন্দ্রনাথ বসুরা ছাড়াও যুগান্তর দলের অন্যান্য সদস্যদের।
ছেঁদাপাথরের গভীর জঙ্গলে বৈপূলবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি তাঁরা একাধিকবার এখানকার পূজোতেই অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরাধীন ভারতে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের অগ্নি যুগের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রাজা রাই চরণ ধবল দেবের হাত ধরে রচিত হয়েছিল এই অম্বিকানগর রাজবাড়ি থেকেই।
অম্বিকানগর রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য গৌরীশঙ্কর নারায়ণ দেও বলেন, এখন রাজবাড়ির সেই প্রাচুর্য নেই, স্থানীয়দের অনেকের সাহায্য, সরকারী অর্থের পাশাপাশি রাজপরিবারের সদস্যরা পূজোর খরচ বহন করেন। তবে এখানকার পূজো সম্পূর্ণ শাক্ত মতে হয়। মহাষষ্ঠীর দিন হোমের অঙ্গার থেকে কাজল তৈরী করে প্রতিমার চক্ষুদান করা হয়, তোপধ্বনীর মাধ্যমে পূজার নির্ঘন্ট ঘোষণার পাশাপাশি সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত ছাগ বলির প্রথা আজও প্রচলিত আছে বলে তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications