শুটিং চলছে বাড়ি থেকে, আপত্তি টেকনিশিয়ানদের, সরকারকে চিঠি দিল ফেডারেশন
শুটিং চলছে বাড়ি থেকে, আপত্তি টেকনিশিয়ানদের
করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউন এবং তার জন্য গত বছর থেকেই চালু হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কনসেপ্ট। তবে সেটা যে টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য তা কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু ধারাবাহিক দেখেই বোঝা যাচ্ছে। করোনা দমন করতে রাজ্যে লকডাউন জারি হওয়ায় অনেকদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে টেলিভিশনের বিভিন্ন ধারাবাহিকের শুটিং। তবে কাজ কিন্তু থেমে নেই। যে যাঁর বাড়িতে বসেই করছেন শুটিং, তা সম্প্রচারও হচ্ছে টিভিতে।

শুটিংয়ের জন্য অনেকের বাড়িতেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। তা দিয়েই কাজ চলছে এবং ছোটপর্দায় নতুন পর্ব সম্প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু স্টুডিওর কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন টেকনিশিয়ানরা। কারণ ওয়ার্ক ফ্রম হোমে তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। এবার তাই বিকল্প বন্দোবস্তের জন্য আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া। গত বছরের মতোই এ বছরও বন্ধ রয়েছে টলিপাড়ার সব শুটিং। গত বছর ধারাবাহিকগুলির পুরনো পর্ব, পুরনো ধারাবাহিক চালিয়ে কিচুমাসের জন্য কাজ চালানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে বিপুল পরিমাণ লোকসান হয়।
এরপর চলতি বছর প্রায় একই রকমের বিধিনিষেধ জারি হয়েছে এই মাসের গোড়া থেকে। এতদিন পর্যন্ত আগাম শুট করা পর্বগুলি সম্প্রচারিত হচ্ছিল। তবে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় সস্যায় পড়েছেন টেকনিশিয়ানরা। ১৫ জুন পর্যন্ত স্টুডিওয় শুটিং করা যাবে না। এই অবস্থায় নতুন পর্ব সম্প্রচার করে ধারাবাহিক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। তাই কাজের জন্য নতুন পন্থা অবলম্বন করেছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। বাড়ি থেকেই অভিনেতা, অভিনেত্রীরা নিজেদের অংশটুকু শুট করছেন। তারপর তা এডিট করে নতুন পর্ব তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দু–একটি ধারাবাহিকে তা দেখানো হলেও তাতে প্রবল আপত্তি ছিল ফেডারেশনের।
তাই আপত্তি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখল ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া। তাতে ফেডারেশনের সদস্যদের দাবি, এইভাবে শুটিং করার জেরে ধারাবাহিকের কাজ এগিয়ে চলেছে কিন্তু টেকনিশিয়ানদের কাজ বন্ধ, তাই তাঁরা টাকাও পাচ্ছেন না। এটা সম্পূর্ণভাবে এই কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত একপক্ষের প্রতি চরম অবহেলা।
এ নিয়ে ফেডারেশন কর্তাদের মত, এই উপায়ে শুটিংয়ের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। কাজের মানে অবনমন ঘটছে, এতে দর্শকরাও খুব একটা সন্তুষ্ট হবেন না। যদিও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের মত, বাড়ি থেকে শুটিং করা যাবে না, চুক্তিতে এমন কোথাও বলা নেই। তাই এই কাজ চলতেই পারে। তাতে ধারাবাহিকের নতুন পর্ব সম্প্রচারিত হওয়ায় দর্শকরা তা উপভোগই করছেন বলে আশাবাদী তাঁরা। এখন এ নিয়ে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করে কি না, সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications