সব ফাইট শেষ!‌ প্রয়াত ঐন্দ্রিলা শর্মা, টলিউডে শোকের ছায়া

‌দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান। প্রয়াত হলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। শনিবার রাতেই অভিনেত্রীর দশবার মাইল্ড কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তারপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। রবিবার দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে ঐন্দ্রিলা শর্মা মারা গিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী। তাঁকে হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না। চিকিৎসকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো গেল না অভিনেত্রীকে। অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, 'বিশিষ্ট অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার অকাল-প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ হাওড়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিশ্রুতিময়ী তরুণী এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিয়াল ঝুমুর, মহাপীঠ তারাপীঠ, জীবন জ্যোতি, জীবন কথা, জিয়নকাঠি ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছেন।পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে এবছর 'অসাধারণ প্রত্যাবর্তন' বিভাগে টেলি সম্মান অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। মারণরোগের বিরুদ্ধে অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি যেভাবে লড়াই করেছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর ট্রাজিক প্রয়াণ অভিনয় জগতের এক বড় ক্ষতি। আমি ঐন্দ্রিলা শর্মার পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।'

হল না মিরাকেল

হল না মিরাকেল

শেষপর্যন্ত কোনও মিরাকেল হল না। ঐন্দ্রিলার প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরির আর্জি সত্ত্বেও তাঁর কাছে ফিরে এলেন না অভিনেত্রী। দীর্ঘ ১৯ দিনের লড়াই শেষ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই সব লড়াইকে শেষ করে চলে গেলেন অভিনেত্রী। এর আগেও দু'‌বার ক্যানসারকে জয় করে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। সেই সময় থেকেই পাশে বটগাছের মতো ছিলেন বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরি। কিন্তু এ বার আর ফিনিক্স পাখি হয়ে ফিরতে পারলেন না। হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল অভিনেত্রীর। বুধবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার ফের দশবার মাইল্ড কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন যে অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

ফিরলেন না ফিনিক্স পাখি হয়ে

ফিরলেন না ফিনিক্স পাখি হয়ে

এরই মাঝে শনিবার সব্যসাচী তাঁর সব ফেসবুক পোস্ট উড়িয়ে দেন। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই তিনি মিরাকেল হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর পোস্ট পাওয়ার পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন টলিউড সহ গোটা বাংলা। পর পর ২ বার ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা। আবার কাজে ফেরা। লড়াইয়ের অন্যতম নাম ঐন্দ্রিলা। দীপাবলির সন্ধ্যাতেও সেজেগুজে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোকময় ছবি পোস্ট করেছিলেন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু তারপরই ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।

প্রথম ক্যানসার ধরা পড়ে ২০১৫ সালে

একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জন্মদিনের দিনই তাঁর শরীরে বেড়ে ওঠা মারণরোগের কথা প্রথম জানতে পারেন ঐন্দ্রিলা। তাঁর অস্থি মজ্জায় মারণ রোগ বাসা বেঁধেছিল। তারপরই লড়াই শুরু হয় ঐন্দ্রিলার। তখন ঐন্দ্রিলা থাকতেন বহরমপুরে। মেয়েকে নিয়ে দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান বাবা-মা। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন ঐন্দ্রিলার হাতে বেশি সময় নেই। এরপর একের পর এক কেমো, ইঞ্জেকশন শুরু হয়। শরীর যেন ক্রমশ কুঁকড়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তবে ২০১৬ সালে সুস্থ হয়ে ওঠেন ঐন্দ্রিলা শর্মা।

ছন্দপতন ঘটে ২০২১ সালে

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভালোই কেটেছে অভিনেত্রীর। অভিনয় জীবনেও তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। কিন্তু সেই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফের ছন্দপতন ঘটে। আচমকা ডান কাঁধে যন্ত্রণা শুরু হয় ঐন্দ্রিলার। অভিনেত্রী ভেবেছিলেন শোওয়ার দোষে হয়তো ব্যথা। তারপর জানা যায়, ডান ফুসফুসে ১৯ সেন্টিমিটারের একটি টিউমার রয়েছে। আবারও শুরু হয় কেমো, সেই যন্ত্রণা। সেই সময় পাশে পেয়েছিলেন বন্ধু সব্যসাচী। ২০২১-এর প্রায় গোটা বছরটাই ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন যুদ্ধ চালিয়ে ফের জয়ী হন ঐন্দ্রিলা। ধীরে ধীরে কাজেও ফেরেন। বন্ধু সব্যসাচীর সদ্য খোলা ক্যাফেতে প্রায়ই দেখা যেত ঐন্দ্রিলাকে। ১ নভেম্বরের ব্রেন স্ট্রোক অভিনেত্রীর জীবন এক নিমিষে বদলে দেয়। ১৯ দিন কোমায় থাকার পর তিনি চিরনিদ্রায় চলে গেলেন। পিছনে ছেড়ে গেলেন শোকার্ত পরিবার, ভালোবাসার মানুষ ও গোটা টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+