চাঁদের বুকে ছুটবে রোভার! স্পেস এক্সের নয়া পরিকল্পনায় নয়া প্রযুক্তি প্রয়োগ অ্যাস্ট্রোল্যাবের
চাঁদের বুকে এবার রোভার ছোটানোর পরিকল্পনা করছেন এলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেস এক্স। আগামী সপ্তাহে স্টারশিপ লঞ্চ করার পরই তারা ২০২৬-এ চাঁদের বুকে রোভার পাঠানোর পরিকল্পনা শুরু করে দেবে। এই রোভারে করে চাঁদে ভ্রমণ করতে পারবেন মহাকাশচারীরা। সেইমতোই নয়া প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটতে চলেছে।
এলন মাস্কের স্পেস-এক্স ২০২৬ সালে চাঁদে একটি এসইউভি-আকারের রোভার বহন করার পরিকল্পনা করছে। অ্যাস্ট্রোল্যাব একটি স্টার্ট-আপে স্পেস এক্সের সঙ্গে কার্গো মিশনের লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সেই চুক্তিমতোই নয়া মিশন ২০২৬ সালের মাঝামাঝি শুরু হতে পারে। এটি স্পেসএক্সের চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রথম বাণিজ্যিক কার্গো চুক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যাস্ট্রোল্যাবের সিইও জ্যারেট ম্যাথিউস এই মর্মে জানান, এই মিশনের লক্ষ্যে অ্যাস্ট্রোল্যাব এমন একটি যান তৈরি করছে যা চন্দ্রপৃষ্ঠে ছুটবে। যন্ত্রপাতি সরবরাহ হোক বা মহাকাশচারীদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য এই রোভার তৈরি হয়েছে। ফ্লেক্সিবল লজিস্টিকস অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন বা ফ্লেক্স রোভারটি একটি জিপ র্যাং লারের আকারের।
তিনি জানান, এই ফ্লেক্স রোভারটি মঙ্গল গ্রহে নাসার অধ্যবসায় রোভারের থেকে কিছুটা বড়ো। কার্গো মিশনে সহায়তা করার জন্য এই রোভারে একটি রোবোটিক আর্মও রয়েছে। এটি প্রতি ঘন্টায় ১৫ মাইল পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে এবং দু'জন পর্যন্ত মহাকাশচারীকে বহন করার ক্ষমতা রাখে। এটি চাঁদে অবতরণ করাতে সক্ষম হলে নয়া ইতিহাস গড়বে স্পেস এক্স।

স্পেস এক্স ও অ্যাস্ট্রোল্যাবের সমন্বয়ে কার্গো মিশনে ফ্লেক্স রোভারটি চন্দ্র পৃষ্ঠ ভ্রমণের জন্য সবথেকে বড় রোভার হয়ে উঠবে। নাসার যে রোভারটি মঙ্গলে পাঠানো হয়েছে, সেটি মানুষ পরিবহণ করতে পারে না। রোভারটি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলে পাঠাতে সক্ষম। কিন্তু স্পেস এক্স ও অ্যাস্ট্রোল্যাবের রোভারটি চাঁদের মহাকাশাচরীদের বহন করে নিয়ে যেতে পারবে।
ম্যাথিউস আরও জানান, ইতিমধ্যেই ২০২৬ স্টারশিপ মিশনে কার্গো বহন করার জন্য রোভার ব্যবহার করতে চাইছেন তাঁরা। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এই পরিকল্পনা। তাঁরা দেখাতে চান, ফ্লেক্স চাঁদ, মঙ্গল বা ভিন গ্রহেও মানুষের যাতায়াতে সহায়তা করতে পারে। তাঁর কথায়, আমাদের লক্ষ্য হল চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে রোভার ব্যবহার করা।

এখন স্পেস-এক্সও আগামী সপ্তাহে একটি স্টারশিপ লঞ্চ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি স্টারশিপের প্রথম অরবিটাল ফ্লাইট পরীক্ষা। এই মিশনে স্পস এক্স একটি সুপার হেভি লিফট রকেট আগামী সপ্তাহে লঞ্চ করবে। দু-বছর ধরে চেষ্টার পর এই সপ্তাহে মাস্ক আশাবাদী হয়ে ঘোষণা করেছেন, স্টারশিপের জন্য ১৭ এপ্রিল একটি অস্থায়ী লঞ্চ উইন্ডো সেট করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications