Mars Colony: মঙ্গল গ্রহে ঘর বাঁধতে চান? কতজন মহাকাশচারী দরকার, সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সৌরমণ্ডলে পৃথিবী এমনই এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে মানবসভ্যতা গড়ে ওঠার মতো পরিবেশ রয়েছে। এছাড়া আর কোনও গ্রহে তেমন কোন পরিবেশ বা জলবায়ু নেই বলেই ধারণা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। কিন্তু পৃথিবীর কাছের গ্রহ মঙ্গল নিয়ে তাঁদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
পৃথিবীতেও এমন স্থান রয়েছে, যা মঙ্গলের মতো। মঙ্গলের মতো আবহাওয়া। তাহলে কি মঙ্গলেও উপনিবেশ গড়ে তোলার মতো কোনও জায়গা বা পরিবেশ রয়েছে? সেই ভাবনা বারবারই ভাবাচ্ছে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। মঙ্গলে বাসস্থান গড়ার অভিপ্রায় তাই জেগেছে পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে।

মঙ্গলে বাসস্থান করতে গেলে কতজন মহাকাশচারীদের দরকার, এই সংক্রান্ত একটি গবেষণা রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। আগে যেখানে উপনিবেশ গড়তে গেলে শতাধিক মহাকাশচারীর দরকরা বলে মনে করা হয়েছিল, এখন নতুন গবেষণায় সেই সংখ্যা কমে এসেছে।
মাত্র ২২ জন মহাকাশচারী মঙ্গলে পাঠাতে পারলেই উপনিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এক বিশেষ সমীক্ষা। গবেষকরা দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। মহাকাশে উপনিবেশ গড়ে তুলতে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে গেলে কমপক্ষে ২২ জনের দরকার বলে মনে করছে গবেষণা।
জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সম্প্রতি একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন। সেই রিপোর্টে আগের গবেষণাগুলি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে মঙ্গলে বসিত স্থাপন নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এই গবেষণা রিপোর্টে তাঁরা বলেন, মহাকাশ উপনিবেশ তৈরি করতে গেলে, কী কী দরকার আর কত জন মহাকাশচারীর দরকার।
চাঁদের পাশাপাশি মঙ্গলে উপনিবেশ গড়ে তোলর টার্গেট মহাকাশচারীদের। তা নিয়ে নানা দশে নানা গবেষণা চালাচ্ছে। নাসা এই গবেষণাকে বহুদূর নিয়ে গিয়েছে। সমানতালে চেষ্টা করে যাচ্ছে চিন, রাশিয়া, ভারত, জাপানের মতো দেশগুলি। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে বসতিস্থাপন করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রযুক্তি নিয়ে চর্চা চলেছে।
সেইসঙ্গে মঙ্গলে মানিয়ে নিয়ে বসবাসকারী মহাকাশচারীদের কী কী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে, তা নিয়েই গবেষণা চলছে মনস্তাত্ত্বিক এবং আচরণগত কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, তা কীভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন মহাকাশচারীরা তাও জানতে চাইছে গবেষকরা।
অদূর ভবিষ্যতে যদি এমন পরিস্থিতি আসে তাহলে মহাকাশচারীরা কি মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে থাকবেন লালগ্রহে উপনিবেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে। তা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সে জন্য এজেন্ট বেসড মডেল নামে একটি কম্পিউটার সিমুলেশমন ব্যবহার করে মঙ্গলে মানুষরে জীবন কাটানোর অনুকরণে গবেষণা চালানো হয়েছে।
মঙ্গলের মাটিতে বেঁচে থাকতে গেলে মানব প্রজাতির কী কী থাকা প্রয়োজন, তার উপর জোর দিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। বিপাক, স্থিতিস্থাপকতা, দক্ষতা ও চাপ নেওয়ার ক্ষমতা-এই চার প্রকারের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্যের র উপর জোর দেওয়া হয়েছে গবেষণায়। মঙ্গলে বেঁচে থাকতে গেলে স্নায়বিক উত্তেজনার সঙ্গে লড়াই করতে হবে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications