নিউইর্য়ক সিটি নিজের ভারে তলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রে! আশঙ্কার বার্তা দিলেন ভূবিজ্ঞানীরা
নিউইয়র্ক সিটি ক্রমশ সমুদ্র তলিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কার বার্তা দিয়েছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটি তার নিজের ভারে তলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। প্রতিনিয়ত তা একটু একটু করে ডুবছে সমুদ্রে। গবেষকরা সম্প্রতি তাদের গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি নিয়ে এই গবেষণা পত্রে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, মূলত দুটি কারণে নিউইয়র্ক সিটি ডুবতে বসেছে। এক হল এই শহরের নির্মাণের ঘনত্ব। আর দুই হল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে প্রতিদিন সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, তাতেই মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানী ও গবেষকরা নিউইয়র্ক সিটির ডুবে যাওয়ার কারণ হিসেবে আদতে এই জোড়া কারণ দর্শিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমবর্ধমান হওয়ার পাশাপাশি শহরে আকাশচুম্বী ভবনের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। তার ফলে দুই বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়ায় ত্বরাণ্বিত হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির পতন।
নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব ক্রমবর্ধমান ওজনের কারণে তা ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে। বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ছে। তার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার ফলে বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় শহরগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু নিউইয়র্ক সিটি নয়, অন্যান্য উপকূলীয় শহরও এই বিপদসীমার মধ্যে রয়েছে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, নির্মাণের ঘনত্ব নিউইয়র্ক শহরে অত্যন্ত কম। নির্মাণের আধিক্যও বেশি এই শহরে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার সংমিশ্রণ। তার ফলে শহরের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জোড়া ফলায় সাবসিডেন্স নামে একটি অনন্য পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ডের জোশিমঠ শহরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। সেযেখানে ঘরবাড়িতে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। এর জন্য দায়ী কিন্তু নির্মাণের আধিক্য ও জলবায়ু পরিবর্তন। জোশিমঠের মতো ঘটনা যে একছার আরো ঘটতে পারে, তার প্রমাণ এই গবেষণা।
অ্যাডভান্সিং আর্থ অ্যান্ড স্পেস সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় গবেষকরা বিষয়টি হাইলাইট করেছেন। কীভাবে নিউইয়র্ক সিটি প্রাকৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে তলিয়ে যাচ্ছে, তা দেখিয়েছে। এর ফলে ঝড়ের তীব্রতা বাড়বে, ক্রমেই জলে তলিয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকির সম্মুখীন হবে শহর।
নিউইয়র্ক সিটিকে উদাহরণ হিসাবে নিয়ে গবেষকদের দল দেখিয়েছে, সারা বিশ্বের উপকূলীয় শহরগুলি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। একইসঙ্গে কীভাবে সমস্যাটি মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়েও ভাবনা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটা একটা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে মোকাবিলা করাই এখন দস্তুর হয়ে উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications