তৃণমূল-বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ! জঙ্গলমহলের 'বহুমুখী' লড়াইয়ে এগিয়ে কোন দল?

তৃণমূল ও বিজেপি, উভয় দলেরই মাথার ব্যথার কারণ এখন জঙ্গলমহল। ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের নিরিখে দেখা যায়, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া আর পুরুলিয়া মিলিয়ে জঙ্গলমহলের মোট ১৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১২টিতেই এগিয়ে বিজেপি। কোনও রকমে দু'টি আসনে লিড ধরে রেখেছিল নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে তৃণমূল। সেই ব্যবধান মিটিয়ে বিজেপিকে ধরতে লড়াইয়ে নেমেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মমতার সেই লড়াইকে আরও কঠিন করে দিলেন প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।

আদিবাসী ভোটকে পাখির চোখ

আদিবাসী ভোটকে পাখির চোখ

আদিবাসী ভোটকে পাখির চোখ করেই জঙ্গলমহলের সবকটি আসনে নির্বাচনে লড়াইর করার ঘোষণা করে দিয়েছে ঝআড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির যেমন কিছুটা লোকসান হতে পারে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসেরও মাথায় হাত পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাগ-দুঃখ প্রকাশ করতে বিলম্ব করেননি। তবে অনড় জেএমএম। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূলের দ্বারা বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয় জঙ্গলমহলে।

আদিবাসীদের সমর্থনে জঙ্গলমহলে ঘাসফুল ফুটেছিল গত নির্বাচনগুলিতে

আদিবাসীদের সমর্থনে জঙ্গলমহলে ঘাসফুল ফুটেছিল গত নির্বাচনগুলিতে

২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমর্থনে জঙ্গলমহলে জোড়া ফুলের ঝড় তুলেছিলেন মমতা। তবে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটেই চিত্রটা পাল্টে যায়। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে শুরু করে তৃণমূলের। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এই তিন জেলায় মাথা তোলে বিজেপি। এবং লোকসভায় তো পদ্মের ছায়ায় প্রায় নিশঅচিহ্ন হতে বসে জোড়া ফুল। এই পরিস্থিতিতে আরও কঠিন হল পরীক্ষা। সৌজন্যে হেমন্ত সোরেন।

কপালে চিন্তার ভাঁজ সব পক্ষের

কপালে চিন্তার ভাঁজ সব পক্ষের

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিজেদের প্রার্থী দিয়ে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেয় আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চ। কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচনে এই অসংগঠিত আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ককে কাছে টেনেই তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে জোট বাঁধছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। যদিও অনেকের মনে হচ্ছে যে বিজেপির ভোট কাটতেই এই সমীকরণ তৈরি করে দিয়েছে তৃণমূল। তবে বিজেপির লড়াই কঠিন করতে গিয়ে তৃণমূল নিজেদেরই না নিশ্চিহ্ন করে ফেলে, এখন ভয় সেটাই।

২০১৯-এর নিরিখে কতটা পিছিয়ে তৃণমূল?

২০১৯-এর নিরিখে কতটা পিছিয়ে তৃণমূল?

ফলে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের সব আসনেই জয়লাভ করেছিল তৃণমূল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে জঙ্গলমহলের নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম, গড়বেতা, মেদিনীপুর, বান্দোয়ান, বলরামপুর, বাঘমুন্ডি, জয়পুর, পুরুলিয়া, রানিবাঁধ, রাইপুরে এগিয়ে বিজেপি। অন্য দিকে তৃণমূল এগিয়ে শুধু মানবাজার আর বিনপুরে।

জেএমএম প্রার্থী দিলে কতটা সুবিধা পাবে তৃণমূল?

জেএমএম প্রার্থী দিলে কতটা সুবিধা পাবে তৃণমূল?

এদিকে বঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা নতুন করে রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দেওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে শাসক-বিরোধী দুই দলের। জঙ্গলমহল এবং ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ৫৩-৫৬টি বিধানসভা আসনে আমরা প্রার্থী দেবে জেএমএম। জঙ্গলমহলে বিজেপি কাঁটা এখন তৃণমূলের মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। জেএমএম প্রার্থী দিলে কি তাতে কিছুটা অন্তত সুবিধা পাবে তৃণমূল?

উন্নয়নের উপরই ভরসা রাখতে হবে তৃণমূলকে

উন্নয়নের উপরই ভরসা রাখতে হবে তৃণমূলকে

এদিকে বিজেপি জেএমএম-এর বিরুদ্ধে বাবুলাল মারান্ডি, অজুর্ন মুন্ডাদের ময়দানে নামাবে। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতার একা ক্যারিশ্মা কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে সংশয় তৃণমূলের অন্দরেই। যদিও এখনই হাল ছাড়তে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়া ফুল শিবিরের আশা, মমতার 'উন্নয়ন'-এর উপর ভরসা রেখেই বিধানসভা নির্বাচনে ফের পায়ের তলায় জমি শক্ত করতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+