মমতার আড়ালে রিমোট আসলে পিকের হাতে, কীভাবে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি করছে আই-প্যাক?
সম্প্রতি যত বিধায়ক, নেতা, মন্ত্রী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের প্রায় সকলেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা, আই-প্যাক-কে দোষারোপ করেছে। তবুও এই আই-প্যাকই কিন্তু তলে তলে দলের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। আগামী নির্বাচনে, নেতা-মন্ত্রী নয়, তৃণমূলের ভরসা নিচু স্তরের কর্মীরা। তৃণমূলের ভরসা স্বচ্ছ রাজনীতি। আর এই অঙ্ক কষেই দলকে এগিয়ে নিতে যেতে চাইছেন প্রশান্ত কিশোর।

নেতাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে আই-প্যাক
তৃণমূলের জেলা স্তরের নেতাদের রীতিমতো পড়াশোনা করাচ্ছে টিম পিকে। লক্ষ্য একটাই মানুষের মনে দাগ কাঁটতে হলে চাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। তাছাড়া এই 'শিক্ষা'-র মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া চালানোর বিষয়টিও দেখা হয়। তাতে কোনও বড়সড় ভুল যাতে না হয়, তা দেখে টিম পিকে। তাছাড়া যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে অতটাও সড়গড় নয়, তাদেরকে শেখাচ্ছে টিম পিকে।

মানুষের সেবা করতে হবে
যেমন, লোকসভা ভোটের নিরিখে কল্যাণীর একটি ব্লকে পিছিয়ে তৃণমূল। সেখানে দলের লক্ষ্য বিজেপির সঙ্গে গ্যাপ কমিয়ে এগিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে সেখানকার মানুষের রোজকার সমস্যা থেকে শুরু করে জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা মেটাতেও ময়দানে দলীয় নেতাদের নামতে বলা হয়েছে আই-প্যাক-এর তরফে। মানুষের মন জয় করার সব থেকে শ্রেষ্ঠ উপায় যে মানুষের সেবা, সেই বিষয়টি নিচু স্তরের নেতাদের মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করছে আই-প্যাক।

স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী খঁজছেন পিকে
এছাড়া প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে টিম পিকের। যেমন, বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী খুঁজতে গিয়ে ঘাম ছুটছে পিকে টিমের। বালুরঘাট থেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্য নতুন মুখকে শাসকদলের প্রার্থী বানাতে চাইছে টিম পিকে। সেই কেন্দ্রে সমীক্ষা চালিয়ে ওই ছক ধরে চলছে প্রশান্তের দল। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এমন কাউকেই দাঁড় করিয়ে মমতার আসন বাঁচাতে চাইছে টিম পিকে।

মাটির মানুষ চাইছেন প্রশান্ত কিশোর
এই আসন থেকে ২০১১ সালে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী। তিনি জিতে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী হন। পরের বার ২০১৬ সালে অবশ্য আরএসপি প্রার্থী বিশ্বনাথ চৌধুরীর কাছে হেরে যান তিনি। শঙ্করের ওই হারের পিছনে মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মেলামেশা এবং জনসংযোগে ঘাটতিকে কারণ হিসেবে দলের পর্যালোচনা উঠে আসে। তাই মাটির মানুষ চাইছেন প্রশান্ত কিশোর। এবং শুধু বালুরঘাট নয়, টিম পিকের লক্ষ্য, বাংলার প্রতিটি আসনেই তৃণমূলের প্রার্থী হবেন কোনও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তি।

তৃণমূের শক্তি বাড়াতে ছক কষছে আই-প্যাক
আই-প্যাক-এ কর্মরত এক কর্মী তাঁর সংস্থার কার্য পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, 'আমরা আসলে তৃণমূলের শক্তিকে বাড়াতে এসেছি। আমরা দলের উচ্চ স্তরের নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল স্তরের নেতাদের সেতু বন্ধনের কাজ করার চেষ্টা করছি। আসলে নিচু তলার নেতা-কর্মীরাই মানুষের সঙ্গে মিলে-মিশে কথা বলে দলকে জেতাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নিচু তলার কর্মীরাই সাধারণ ভোটারের মনে মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতি আস্থা বজায়য় রাখতে সাহায্য করবে।'












Click it and Unblock the Notifications