মোদীকে পাল্টা দিলেন মমতা! মনে করালেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব, মানুষের সেবায় এক হওয়ার আহ্বান
নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে তুলোধনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এক্স হ্যান্ডলে টুইটের পাল্টা টুইট করে নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মণিপুরের ঘটনা নিয়ে দিলেন খোঁচাও।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, "এটা খুবই দুর্ভাগ্যের এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনও উপযুক্ত অনুসন্ধানের জন্য অপেক্ষা না করেই। তাও আবার যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সঙ্গে যুঝছেন।
যখন সমগ্র স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত, তখন বিজেপি নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক গাড়ির কনভয় নিয়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে কোনও খবর না দিয়ে। তা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ বা তৃণমূল কংগ্রেসকে কীভাবে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা যায়?
প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর দোষারোপ করেছেন কোনও প্রমাণ ছাড়াই। আইনানুগ কোনও তদন্ত ছাড়া এবং কোনও প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়া। এটা শুধু রাজনৈতিক নিম্নতা স্পর্শ করল না, যে সাংবিধানিক নৈতিকতা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, সেই নৈতিকতারও লঙ্ঘন হলো। যে কোনও গণতন্ত্রে আইন তার নিজস্ব পথ নেয় এবং কোনও ঘটনার দায় নির্ধারিত হয় যথাযথ প্রক্রিয়ায়। কোনও রাজনৈতিক বেদীর উচ্চতা থেকে করা একটি টুইটের মাধ্যমে নয়।
সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল একটি কেন্দ্রে, যেখানে মানুষ নিজেরাই বিজেপির একজন বিধায়ককে নির্বাচন করেছেন। তথাপি এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত 'শক্তিমত্তা' দেখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী দ্বিচারিতা অনুভব করলেন না। এই ধরনের অসার এবং অতি-সরলীকৃত সাধারণীকরণ শুধু অপরিণতই নয়, তা দেশের সর্বোচ্চ পদের সঙ্গে মানানসইও নয়।
যে প্রধানমন্ত্রী মণিপুরে জাতি-হিংসা শুরু হওয়ার ৯৬৪ দিন পরে সেখানে যাওয়ার অবকাশ পেয়েছিলেন, তাঁর কাছ থেকে বাংলার জন্য এই সহসা উদ্বেগ কোনো সমবেদনার পরিচয় নয়। বরং এটাকে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নাট্যের মতো মনে হচ্ছে।
হ্যাঁ, আমরা সবাই দ্বিধাহীনভাবে হিংসার নিন্দা করি। কিন্তু এটা রাজনৈতিক বুক চাপড়ানোর সময় নয়। এটা সহায়তা ও নিরাময়ের সময়। এটাও স্পষ্ট যে, বিজেপি সেই ক্লান্তিকর উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গের উপাখ্যানে ফিরতে চায়, ভোটের আগে মেরুকরণের আশায়। স্পষ্ট হয়ে যাক: বাংলা এক - আবেগে, সংস্কৃতিতে, রাজনীতিতে।
প্রধানমন্ত্রীকে বলি, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কথা শুনুন। শুধু নিজের দলের লোকের কথা শুনবেন না। আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, কেবল বিজেপির নন। আপনার দায়িত্ব দেশ-নির্মাণ, কাহিনি নির্মাণ নয়। সঙ্কটের এই মুহূর্তে,আমরা যেন বিভাজন না বাড়াই। মানুষের সেবায় দলীয় লাইনের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের একত্রিত হতে হবে। যে মানুষ এখন আমাদের সেবা সবচেয়ে বেশি চাইছেন। রাজনীতি আরেকদিন হোক।"
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, "যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরা-যাঁদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়ক রয়েছেন-পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন। আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি কার্যকর্তাদের আহ্বান জানাই, তাঁরা যেন জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যান।"












Click it and Unblock the Notifications