বাংলায় হবে না সিএএ, ফের একবার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা
করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হলেই কার্যকর হবে নাগরিকত্ব আইন। মতুয়া গড়ে দাঁড়িয়ে এমনটাই দাবি করেছেন অমিত শাহ। তাঁর মন্তব্যের কয়েক ঘন্টার পরেই কলকাতায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যে কোনওভাবেই নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হবে না। এমনকি কার্যকর হবে না এনআরসিও। ফলে বাংলায় এনআরসি কিংবা নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল। যদিও রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, কেন্দ্র কোনও আইন কার্যকর করলে তা রাজ্যগুলি কার্যকর করতে বাধ্য। ফলে এই অবস্থায় বাংলায় নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হতে বাধ্য বলেই মনে করা হচ্ছে।

মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সওয়াল
মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা নিয়ে মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন তিনি বলেন, দেশব্যাপী করোনা ভ্যাকসিনেশনের কাজ শেষ হলেই নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করছে বলে অভিযোগ শাহের।

ভ্যাকসিনেশনের কাজ শেষ হলেই সিএএ লাগু
অমিত শাহ এদিন আরও বলেন, তিনি শান্তনু ঠাকুরকে বলেছিলেন ঠাকুরনগরে গিয়ে সিএএ নিয়ে বলবেন। সেইমতো এদিন তিনি সভায় জানান, দেশে করোনা ভ্যাকসিনেশনের কাজ শেষ হলেই সিএএ লাগু করা হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নাগরিকত্ব লাগু করতে গিয়ে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। তিনি এব্যাপারে সংখ্যালঘুদের নাম নিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

শাহকে পালটা চ্যালেঞ্জ মমতার
একদিকে বাংলার একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন নাগরিকত্ব আইন লাগু করা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অমিত শাহ ঠিক অন্যদিকে কলকাতায় দাঁড়িয়ে রীতিমত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্যে কোনও ভাবেই সিএএ, এনআরসি কার্যকর করতে দেওয়া হবে না৷ অন্যদিকে, এদিন অমিত শাহের শরীরী ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি যদি না বলি তাহলে ভাববে আমি দুর্বল৷ শরীরী ভাষা দেখে মনে হচ্ছে যেন শারীরিক ভাবে ধমকি দিতে এসেছে৷ একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এই হুমকি মানায় না৷

এনআরসি এবং মতুয়া ভোট
গত লোকসভা নির্বাচনে মতুয়াদের কাছে নাগরিকত্ব আইন চালু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই মতো গত লোকসভায় মতুয়া ভোট যায় বিজেপির পকেটে। সাংসদ পায় বিজেপি। কিন্তু ভোটের একটা বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এনআরসি নিয়ে কোনও হেলদোল নেই সরকারের। কার্যত দেশজুড়ে আগুন জ্বলতে পারে, সেই আশঙ্কাতেই কার্যত ফাইল বন্দি নাগরিকত্ব আইন। সেখানে ক্ষোভ বাড়ছে মতুয়াদের। এমনকি, খোদ বিজেপি সাংসদও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিধানসভা ভোটের আগে যা বড় মাথা ব্যাথার কারণ বঙ্গ বিজেপির। এই অবস্থায় ঠাকুরনগরে শাহের পা রাখাটা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।












Click it and Unblock the Notifications