শুভেন্দু অধিকারী কোনও ব্যতিক্রমী চরিত্র নন, বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের ইতিহাস সাত দশক পুরনো
শুভেন্দু ব্যতিক্রম নন, বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের ইতিহাস সাত দশক পুরনো
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। আর সেই রাজনীতির আঁচে কার্যত গা সেঁকছে গোটা দেশ। পশ্চিমবঙ্গে কী ফলাফল হয় সেদিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। বাংলা একমাত্র রাজ্য যেখানে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী দশ বছর শাসন চালাচ্ছেন। তিনি কি পারবেন দুর্গ ধরে রাখতে? নাকি দুর্গে ফাটল ধরিয়ে ক্ষমতা হাতে নেবে বিজেপি? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখনও কয়েকমাসের অপেক্ষা।

বাংলায় দলবদলের জোরদার খেলা
তার আগে বাংলা রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে দলবদলের খেলায়। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপি, বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস থেকে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসের ছোট-বড় একাধিক নেতা দলবদল করেছেন বা করছেন। আগামিদিনে ভোট এগিয়ে আসবে, এই দলবদলের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আপাতভাবে মনে হচ্ছে।

ঝড় তুললেন শুভেন্দু অধিকারী
এই দলবদল নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা-সমালোচনা সবই চলছে। চায়ের কাপে তুফান উঠেছে। রাজ্য রাজনীতির আঙিনা ছাড়িয়ে এরাজ্যের দলবদলের খবর জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে সবচেয়ে বড় দলবদলের ঝড় তুললেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম হোতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু এবার বিজেপিতে
একসময় যে শুভেন্দুর দাপটে পূর্ব মেদিনীপুরে বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, সেই শুভেন্দু এবার বিজেপির পতাকা হাতে তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা করেছেন। তিনি দলবদলের অন্যতম কারণ হিসেবে শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্বের দুর্নীতিকে হাতিয়ার করেছেন। তিনি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। তাঁর সমালোচনার হাত থেকে বাদ যাননি প্রাক্তন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এখন ঘটনা হল, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে দলবদলের যে খেলা শুরু হয়েছে, এই ঘটনা বর্তমান প্রেক্ষিতে অভিনব মনে হলেও এমন ঘটনার একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

বাংলায় প্রথম দলবদল কবে?
অতীতে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বাংলার বুকে প্রথমবার স্বাধীনতার পর ১৯৫২ সালে দলবদলের ঘটনা ঘটেছিল। সেইসময় চারজন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। তারপর সেই চারটি আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। সেই দিয়ে শুরু বাংলার দলবদলের ইতিহাস।

যুক্তফ্রন্টে ফাটল
ঠিক তার ১৫ বছর পরে, ১৯৬৭ সালে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআইএম দ্বারা পরিচালিত যুক্তফ্রন্ট সরকার থেকে বেরিয়ে আসেন। একাধিক বিধায়ক সহ তিনি যোগদান করেন প্রোগ্রেসিভ যুক্তফ্রন্টে। যার ফলে বাম পরিচালিত যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে যায়।

দুই দশক যেতে না যেতেই ফের শুরু দলবদল
এই ঘটনার পরে বামেরা ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসে। এবং তারপরে দলবদলের ঘটনা খুব একটা বাংলার বুকে ঘটেনি। তবে দু'দশক কাটতে না কাটতেই ফের একবার শুরু হয় নতুন করে দলবদলের দৌড়। কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং সেই সময়ে কয়েক বছরের মধ্যে কংগ্রেসের নানা স্তরের অসংখ্য নেতাকর্মী ভিড় জমান তৃণমূল কংগ্রেসে। ফলে ক্রমেই রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল হয়ে ওঠে তৃণমূল।

পরিবর্তনের পর দলবদলের ঢেউ
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় সরকার গঠনের পরই জেলায় জেলায় একাধিক নির্বাচিত প্রশাসন, পঞ্চায়েত, পুরসভা ভেঙে যায়। জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে সব জায়গায় অন্য দলের নেতারা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলে সেগুলি রাতারাতি তৃণমূলের হাতে চলে আসে। পরে ফের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে নতুন করে।

ফের ঘুরছে ভাগ্যের চাকা
এবার নতুন করে ফের একবার দলবদল এর খেলা জমে উঠেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর থেকেই নিচু তলায় দলবদল শুরু হয়েছিল। তৃণমূল থেকে বহু মানুষ বিজেপিতে এসেছেন। এবার পালা হেভিওয়েটদের। এখন দেখার এই রাজনৈতিক সংষ্কৃতি কোথায় গিয়ে ঠেকে।












Click it and Unblock the Notifications