ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে চিন্তিত শাহের মন্ত্রক! বাংলায় ৭৭ বিধায়ককেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস অব্যাহত বাংলায়। ভোট ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গাতে অশান্তির খবর সামনে আসছে। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিজেপি নেতাদের। এই অবস্থায় ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে একাধিকবার সন্ত্রাস ই
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস অব্যাহত বাংলায়। ভোট ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গাতে অশান্তির খবর সামনে আসছে। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিজেপি নেতাদের। এই অবস্থায় ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে একাধিকবার সন্ত্রাস ইস্যুতে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে অমিত শাহের মন্ত্রক। কিন্তু সেই উত্তর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এই অবস্থায় বাংলায় এসেছে কেন্দ্রীয় টিম। সরজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। সন্ত্রাসের ছবি চাক্ষুষ করছেন। এই পরিস্থিতিতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

বিধায়কদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে
ভোটের পরেও উত্তপ্ত বাংলা। আক্রান্ত হচ্ছেন বিজেপি নেতারা। এমনকি বিধায়কদেরও আক্রান্ত হতে হচ্ছে। এই অবস্থায় বড়সড় সিদ্ধান্ত শাহের দফতরের। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি বিধায়কদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এমিনটাই জানিয়ে দেওয়া হল মন্ত্রকের তরফে। সাধারণত রাজ্যের তরফে নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন বিধায়করা। গুরুত্ব বিচার করে নিরাপত্তা দেওয়া হয় । কিন্তু সবদিক বিচার করেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত। ভোটের আগেই বেশ কয়েকজন বিজেপি প্রার্থীকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া হয় কাউকে কাউকে। কিন্তু ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি বিচার করে ৭৭ জন বিধায়ককেরই সুরক্ষার কথা ভাবা হচ্ছে। তাই রাজ্য বিজেপি ও কেন্দ্রের আলোচনার মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কোনও বিধায়ক যদি নিরাপত্তা নিতে না চান, সেক্ষেত্রে তিনি নাও নিতে পারেন। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, কেউই নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে আপত্তি করেননি।

বিজেপি প্রার্থীদেরও নিরাপত্তার মেয়াদ
শুধু বিধায়কদেরই নয়, বিজেপি প্রার্থীদেরও নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এমনটাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর। তবে এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, মোট ২৯৩টি আসনের প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তা ১০ মে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আরজি জানানো হয়, চলতি মাসে যেন তাঁদের নিরাপত্তা তুলে না নেওয়া হয়। অমিত শাহের মন্ত্রক সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে বলেই খবর। আপাতত সমস্ত প্রার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্বেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। প্রার্থীদের নিরাপত্তার মেয়াদও ৩১ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জানা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে বাহিনীর খরচ বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকেই।

শান্ত রয়েছে বাংলা
অন্যদিকে এদিন ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা শান্ত রয়েছে। কিন্তু একদল বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, একটা সরকার গঠন হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে চিঠি পাঠাচ্ছে, অফিসার পাঠাচ্ছে। এটা কি ধরনের অসভ্যতা? একই সঙ্গে মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় টিম বিজেপির বাড়িতে যাচ্ছে? কিন্তু কেন তৃণমূলের বাড়ি যাচ্ছেন না? তৃণমূলের লোকেররাও তো আক্রান্ত হচ্ছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে একটা সরকারকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মমতার।

ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস উদ্বেগজনক
আজ সমবার রাজভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি বলেন, "গতকালই আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী পালন করেছি। তিনি বলেছিলেন, "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির", তাঁর দুই মূল বক্তব্যই আমাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "মানুষের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে হবে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। ডিজিপি ও সিপির কাছে রিপোর্ট চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। কেন?" একই সঙ্গে রাজ্যপাল সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাস কবলিত এলাকাগুলিতে তিনি যাবেন বলে জানিয়েছেন জগদীপ ধনখড়।












Click it and Unblock the Notifications