Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Lok Sabha Election 2024: মহিলা ভোটই টার্গেট, লোকসভার আগে তৎপরতা তাই তৃণমূল-বিজেপি সব শিবিরেই

বসন্তের শুরুতে এখনই তাপমাত্রার গ্রাফ খুব একটা উপরে না০ হলেও বাংলা জুড়ে ভোটের গনগনে আঁচ বেড়েই চলেছে। মার্চের শুরু থেকেই বাংলায় সভা করা আরম্ভ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৪০০ আসনে লক্ষ্যে ভোটের লড়াইয়ে নামা বিজেপির কাছে পাখির চোখ বাংলা থেকে বেশি আসন জেতা। বাংলায় বেশি আসন জিতে হলে নারী মন আগে জিততে হবে বিজেপিকে। নারী দিবসের আগে সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করে দি‌ল গেরুয়া শিবির।

পরিবর্তনের সময় থেকেই মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক রাজ্যে তৃণমূলের কাছে বড় হাতিয়ার। বিগত দেড় দশকের দিদির মুখকে সামনে রেখে বঙ্গ মহিলাদের ভোটের একটা বড় অংশই তৃণমূল নিজের দিকে টেনেছে। সেইসঙ্গে শাসক দলের বড় হাতিয়ার মহিলাদের জন্য সরকারি কর্মসূচি। আগামী লোকসভার লড়াইয়ে সংখ্যালঘু ভোটের সঙ্গে মহিলাদের ভোটও বড় অস্ত্র তৃণমূলের কাছে।

Lok Sabha Election 2024

লোকসভা ভোটে বাংলায় বেশি সংখ্যায় পদ্ম ফোটাতে হলে তৃণমূলের মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক ভাঙাতে হবে বিজেপিকে। যতই লোকসভা ভোট হোক বাংলার ক্যাচ লাইন একটাই মোদী বনাম মমতা। দিদির দলে শক্তিশালী মহিলা ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে তৎপর হল গেরুয়া শিবির।

বুধবার বারাসতের মহি‌লাদের সভা থেকে সেই কাজই সুচারুভাবে শুরু করে দিল বিজেপি। শুধু সন্দেশখালিতে মহি‌লাদের উপর অত্যাচারের প্রচার করে যে বড় সাফল্য আসবে তা বিলঙ্খণ জানে বিজেপি শিবির। তাই মমতার সরকারি প্রকল্পের পাল্টা বিজেপিও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প গুলিকে হাতিয়ার করল।

কেন গুরুত্বপূর্ণ মহিলা ভোটব্যাঙ্ক? একবার নজর রাখুন পরিসংখ্যানে, বাংলায় মোট ভোটার ৭.৫৮ কোটি। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩.৮৫ কোটি, মহিলা ভোটার ৩.৩৭ কোটি, ফলে এই রাজ্যে মহি‌লাদের ভোট লোকসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে চলেছে। মহি‌লা ভোটব্যাঙ্ককে অটুট রাখতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি তাস খেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মী ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি। ৫০০-র পরিবর্তে ১০০০ টাকা করে এবার থেকে ভাতা পাবেন সাধারণ মহিলারা।

বুধবার সকালে মহিলাদের মন পেতে আরও একটি 'দান' দি‌লেন মমতা, আশাকর্মী ও অঙ্গ‌নওয়ারী কর্মীদের ৭৫০ টাকা এবং অঙ্গ‌নওয়ারী সহকারীদের ৫০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি করলেন। বারাসতের সভা থেকেই পাল্টা আসরে নামল বিজেপিও। কেন্দ্রীয় বাজেটে নারী ক্ষমতায়নকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি সরকার। বুধবারের সভায় শুরু থেকে শেষ মোদীর মুখেই বঙ্গ নারীদের বন্দনা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের পাল্টা কেন্দ্রীয় লাখপতি দিদির প্রচার করলেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, ইতিমধ্যেই বাংলার ১৬ লক্ষ মহিলা লাখপতি দিদি হয়েছেন। একইসঙ্গে দাবি করলেন, মহিলাদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হতে দেয় না তৃণমূল সরকার।একই সঙ্গে বললেন, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প চালু করতে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে দেয়নি মমতার সরকার।

নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোদী বলেন, 'মুদ্রা যোজনায় নিজের ব্যবসা শুরু করার নিরিখে মহিলারই এগিয়ে। ১.৫ লক্ষ কেবল বাংলার মহিলাই উপকৃত হয়েছেন এই প্রকল্পে। পিএম কিষাণ সম্মানেও ৩ কোটি মহিলা কৃষকও প্রথমবার টাকা পেয়েছেন। গ্রামের মহিলাদের জন্য নমো ড্রোন দিদি যোজনা শুরু করা হয়েছে। তাতে ড্রোন, পাইলটের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চাষের কাজে মহিলাদের অনেক সুবিধা হবে। কৃষি ‌ব্যবস্থাকেও আধুনিক করতে হবে।'

এখানেই শেষ নয় মহিলা মন জিততে মোদী আরও বলেন, আমরা কম টাকায় গ্যাস সংযোগ দিচ্ছি। কিন্তু উজ্বালা যোজনার জন্য ১৪ লাখেরও বেশি আবেদন পড়ে রয়েছে বাংলাতেই। যেখানেই ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গীদের সরকার আছে সেখানেই , এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বাংলায় পিএম আবাস যোজনায় ২৪ লক্ষ মহিলার নামে রয়েছে।'

মহিলাদের মানোন্নয়ন এবং ক্ষমতায়ন এখন কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পিছনে যেমন সমাজনীতি রয়েছে তেমন রয়েছে রাজনীতিও। সারাদেশেই প্রায় সবকটি রাজ্যে পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা একেবারে কাছাকাছি। অর্থাৎ পুরুষরা যেভাবে ভোট দিয়ে কোন দলকে সমর্থন করবেন সেই একই কাজ মহিলারাও সমানভাবে করতে সক্ষম।

আর সেই দিকটি বিবেচনা করেই গত কয়েক বছরে বিশেষ করে ভোটের সময় মহিলা ক্ষমতায়নের কথা বারবার উল্লেখ করে রাজনীতিতে সব পক্ষ মহিলাদের ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট বৈতরণী পার, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

মহিলাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিন বছর আগে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এবারের ভোটেও নারী ক্ষমতায়ন এবং মহিলাদের জীবনের মান উন্নয়নের কথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে শোনা গিয়েছে। সেই একই কাজ করতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও। সম্প্রতি সন্দেশখালিতে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের অভিযোগ কে হাতিয়ার করে বিজেপি ও বাংলার মহিলা ভোটারদের টার্গেট করেছে।

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক সবসময়ই বাড়তি গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। বঙ্গ রাজনীতির ময়দানও তার বিকল্প নয়। বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল স্লোগান তুলেছিল, 'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়'। সম্প্রতি মধ্য প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। মধ্য প্রদেশে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া নিয়ে বিভিন্ন চর্চা হলেও, শেষ হাসি হেসেছে বিজেপিই। মধ্য প্রদেশের ভোট ময়দানে সুপার হিট শিবরাজের 'লাডলি বহেনা'।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভার ময়দানে বাংলা থেকে আরও বেশি আসনে জয় নিশ্চিত করতে তৎপর তৃণমূল শিবির। সেখানে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে চলেছে।
ফলে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলই এবারের ভোটে মহিলা ভোটকে টার্গেট করে এগোতে চাইছে। এবং ভোটের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, মহিলাদের ভোট আশীর্বাদ হয়ে যে দলের মাথায় বর্ষিত হবে তাদের ক্ষেত্রে জয় লাভের পথ অনেকটা সুনিশ্চিত হবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+