সন্ধিপুজোয় নীলপদ্ম চাই-ই চাই, হরিশপুরে ‘অকাল বোধন’! সেই ধারা আজও চলমান
সন্ধিপুজোয় ১০৮টি নীলপদ্মে দেবীর চরণ বন্দনা করে প্রসন্নতা লাভ করতে চেয়েছিলেন ভগবান রামচন্দ্র। কিন্তু নিবেদনের সময় দেখা যায় একটি পদ্ম কম।
সন্ধিপুজোয় ১০৮টি নীলপদ্মে দেবীর চরণ বন্দনা করে প্রসন্নতা লাভ করতে চেয়েছিলেন ভগবান রামচন্দ্র। কিন্তু নিবেদনের সময় দেখা যায় একটি পদ্ম কম। তখন কমললোচন রামচন্দ্র ধনুর্বান দিয়ে নিজের চোখ উৎপাটন করে দেবীর চরণে উৎসর্গ করতে উদ্যত হন। রামচন্দ্রের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে তখন বরদান করেছিলেন দেবী দুর্গা। সেই ধারা আজও অব্যাহত।

অকাল বোধনের রীতি মেনেই দেবীর সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্ম নিবেদেনের রেওয়াজ। মনোবাঞ্ছা পূরণে ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করা হয়। তবে দুষ্প্রাপ্য নীলপদ্ম নয়, দেবীর আরাধনায় বর্তমানে লালপদ্ম নিবেদনের বিধিই রয়েছে। কিন্তু হাওড়ার আমতার হরিশপুরের এই পুজোয় এখনও নীলপদ্ম চাই-ই চাই। নীলপদ্ম না হলে হবে না দেবীর সন্ধিপুজোই।
চিরাচরিত এই প্রথা চলে আসছে আমতার হরিশপুরে। গ্রামের পুজো হিসেবেই আয়োজন হল পুজোর। নয় নয় করে ৭৫ বছর পেরিয়ে গেল এই পুজো। কিন্তু নিয়মে বদল হয়নি। কোনও বনেদিবাড়ির পুজো নয় ঠিকই, তবে এই ধারায় কোনও অন্যথা হয়নি। আজও সমানে চলছে নীলপদ্ম সহযোগে দুর্গাপুজো।

সন্ধিপুজোয় যে ১০৮টি পদ্মের ব্যবহার হয়, তার মধ্যে অন্তত একটি নীলপদ্ম থাকতেই হবে। বাকি ১০৭টি লালপদ্ম হোক, অসুবিধা নেই। তাই পুজো উদ্যোক্তারা দুষ্প্রাপ্য এই ফুলের খোঁজ চালান বহু আগে থেকে। না পেলে যে পুজোই বন্ধ হয়ে যাবে। পুজো উদ্যোক্তারা বলেন, রামচন্দ্রের আদেশে যেমন হনুমান ১০৮টি নীলপদ্ম খুঁজে এনেছিলেন, তেমনই আমরা রীতি মেনে একটি অন্তত নীলপদ্ম জোগাড় করি।
বারোয়ারি পুজো হলেও এখানে রীতি-নীতি একেবারে বাড়ির মতো। নিষ্ঠাভরে আচার মেনে এই মণ্ডপে পুজো হয়। আড়ম্বরের থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ঐতিহ্যে। আটচালা তৈরি করে পুজো শুরু হয়েছিল, এখন গ্রামের মধ্যেই পাকা মণ্ডপ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেই নিয়ম মেনে পুজোর আয়োজন হয়।












Click it and Unblock the Notifications