আঁতুড়ঘরেই বিদ্রোহের আগুন তৃণমূলে! একুশের আগে অশনি সংকেত দেখেও চুপ মমতা
শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাটার্য তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ-মুখ হয়ে উঠেছেন। ২০২১-এর আগে দলের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ।
শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাটার্য তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ-মুখ হয়ে উঠেছেন। ২০২১-এর আগে দলের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ। তৃণমূলের উত্থানের পীঠভূমি বলা হয় যে নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরকে, সেখানেই গভীর সংকেট পড়ছে শাসক দল। সিঙ্গুরের পর বিদ্রোহের আঁচ এসে পড়েছে নন্দীগ্রামের বুকে।

বিদ্রোহী নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রধান মুখরা
নন্দীগ্রামের মুক্তিসূর্য শুভেন্দু অধিকারী আদতে তৃণমূলে জনপ্রিয়তার নিরীথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই অবস্থান করেন। সেই তিনি বিদ্রোহী। আর বিদ্রোহী সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রধান মুখ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ফলে নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর- যে দুই আন্দোলনের উপর ভর করে রাজ্যে পালাবদল হয়েছিল, সেখানেই ধাক্কা খেতে শুরু করেছে তৃণমূল।

যেখানেই উত্থান, সেখানেই কি শেষ হবে তৃণমূল
নন্দীগ্রাম দিবসে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে সেই ঝড়ে না খড়কুটোর মতো উড়ে যায় তৃণমূল। বিজেপি স্লোগান দেয়, যেখানেই উত্থান, সেখানেই শেষ হবে তৃণমূল। শুভেন্দু ও রবীন্দ্রনাথের বিদ্রোহে সেটাইউ না সত্যি হয়ে যায়। শুভেন্দ যে ভাষণ শুক্রবার দিয়েছেন, তাতে তিনি মনে-প্রাণে তৃণমূলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের নাম না করেই কটাক্ষ ছুড়ে দেন শুভেন্দু
শুভেন্দু বলেছেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলন কারও একার নয়। ১৩ বছর পর মনে পড়ল নন্দীগ্রাম। ভোটের আগে এলে ভোটের পরেও আসতে হবে। তৃণমূলের নাম না করেই কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। আর তারপর চিরাচরিত বক্তৃতার ঢঙ বদলে তিনি স্লোগান তলেছেন ভারতমাতা জিন্দাবাদ। তাতেই জল্পনা পারদ চড়েছে হু-হু করে।

রবীন্দ্রনাথবাবুর দলবদলের বার্তা, চাপে তৃণমূল
তারপর রবীন্দ্রনাথবাবু তো দলবদলের বার্তাও দিয়েছেন সরাসরি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দলবদলের কথাও ভাবতে হবে তাঁকে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের উপর ভরসা করছেন ২০২১-এর প্রাক্কালে, তাঁরা কেউই গুরুত্ব দিচ্ছেন না আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা নেতাদের। তৃণমূলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যেোপাধ্যায় তা রোধ করার চেষ্টা করছেন না, বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

২০২১-এর আগে না ধস নেমে যায় তৃণমূলে
সেই কারণেই ২০২১-এর আগে বিদ্রোহের আগুন দেখা দিয়েছে তৃণমূলে। সেখানে শুভেন্দু ছাড়াও রয়েছেন সিঙ্গুরের তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, কোচবিহারের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী, বারাকপুরের শীলভদ্র দত্ত, আরামবাগের কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা প্রমুখ। এছাড়াও অনেক নেতার মুখে শোনা যাচ্ছে বিদ্রোহ। মুকুল রায় চলে যাবার পর ধীরে ধীরে ভাঙন ধরেছিল তৃণমূলে, এবার না ধস নেমে যায় ২০২১-এর আগে।












Click it and Unblock the Notifications