কংগ্রেসের কাউন্সিলর থেকে বিজেপির সাংসদ, কখনই 'দ্বিতীয় সারি'তে থাকতে চাননি অর্জুন
কংগ্রেসের কাউন্সিলর থেকে বিজেপির সাংসদ, কখনই 'দ্বিতীয় সারি'তে থাকতে চাননি অর্জুন
ফের একবার ফুল বদল অর্জুন। সবুজ থেকে গেরুয়া হয়েছিলেন মাত্র তিন বছর আগে। তৃণমূলের একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক হিসেবে পরিচিত অর্জুন সিং, লোকসভা নির্বাচনের আগে ফুল বদল করেন। আর সেটা ছিল পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ভালো সময়। লোকসভার আগে অনেক নেতাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শক্ত করেছিলেন দিলীপ ঘোষদের হাত। আর নির্বাচনে তার ফলও দেখা গিয়েছিল হাতে-নাতে। ১৮ টি আসনে জয়ী হয়ে শাসক শিবিরকে চমকে দিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের আসন সংখ্যা বেশি হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশাপ্রদ হয়নি সেই ফলাফল।

এই ঘর ওয়াপসি তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ
আর ওই আপাত ব্যর্থতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল শিবিরকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইন্ধন জুগিয়েছিল। এরপরই দলের কাটাছেঁড়া থেকে শুরু করে ভোটকৌশলী পর্যন্ত নিয়ে আসেন দলের সুপ্রিমো। আর ২১-এর নির্বাচন থেকে ফের শুরু হয় তৃণমূলের সাফল্যের দিন। বিধানসভা নির্বাচন, উপ নির্বাচন, পুরভোট সবকিছুতেই যথেষ্ট সাফল্য পায় তৃণমূল। বিজেপি যখন অন্তর্দন্দ্বে মশগুল, তখন অনেক নেতারই ঘর ওয়াপসি হয়। মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নেতারা তৃণমূলে ফিরলেও অর্জুন সেই দলে ছিলেন না। তাঁর এই ঘর ওয়াপসি তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ

ফিরে দেখা যাক অর্জুনের রাজনৈতিক সফর
১. ১৯৯৫ সালে ভাটপাড়া পুরসভায় কংগ্রেসের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন অর্জুন সিং।
২. ২০০১ সালে ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হন অর্জুন।
৩. ২০০১ সাল থেকে পরপর চারবার ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন অর্জুন।
৪. ২০০৪ সালে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হন এই দাপুটে নেতা। ওই বছর বাম নেতা তড়িৎবরণ তোপদারের কাছে পরাজিত হন তিনি।
৫. ২০১০ সাল থেকে ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান হন অর্জুন সিং।
৬. তৃণমূলের হিন্দিভাষী সংগঠনের প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি। উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতে ঘাসফুল শিবিরে দায়িত্ব সামলেছেন অর্জুন।
৭. ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন অর্জুন। এরপরই বিজেপির টিকিটে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েন তিনি। জয়ী হয়ে সাংসদ হন।
৮. বিজেপির একাধিক পদে ছিলেন অর্জুন। এমনকি আসানসোল সহ একাধিক উপনির্বাচনের দায়িত্বও তাঁর কাঁধেই ছিল।

হাওয়া ঘুরতে শুরু করে মাস কয়েক আগে
রাজনৈতিক মহলের মতে, আজও ভাটপাড়া বা ব্যারাকপুর অঞ্চলে অর্জুনের দাপট যথেষ্ট। কিন্তু তাঁকে তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা চোখে পড়েনি তেমন। কিন্তু হাওয়া ঘুরতে শুরু করে মাস কয়েক আগে। চটশিল্প নিয়ে আচমকাই কেন্দ্রের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ পায় তাঁর কথায়। জল্পনা এতটাই চরমে পৌঁছয় যে দফায় দফায় তাঁর ডাক আসে দিল্লি থেকে। মন্ত্রী থেকে সচিব প্রত্যেকে মুখোমুখি হন অর্জুনের। কিন্তু রবিবাসরীয় দুপুরে যে ছবি দেখা গেল তাতে স্পষ্ট যে কেন্দ্র তথা পদ্ম শিবিরের সব চেষ্টাতেই জল ঢেলে দিয়েছেন তিনি।
|
সবরকম ভাবে চেষ্টা করা হয়
হিন্দিভাষী এলাকা বলেই পরিচিত আসানসোল। সেখানে ভোট করানোর দায়িত্ব ছিল অর্জুনের উপর। কিন্তু সেখানে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। এমনকি সার্বিক ভাবেই বিজেপি ভোট কমেছে। কার্যত সেই ছবিই কি আতঙ্কিত করে তোলে অর্জুনকে? সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিকমহল। কার্যত এরপর থেকেই একের পর এক ইস্যুতে মুখ খুলতে শুরু করেন। কিন্তু দল ছাড়তে যে পারেন অর্জুন তা বুঝতে পারেন দিল্লি'র নেতারা। আর তাই তাঁকে ঠেকাতে জে পি নাড্ডা তো বটেই, খোদ অমিত শাহ পর্যন্ত চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না?












Click it and Unblock the Notifications