SSC Scam Exclusive: নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তকারীদের নজরে থাকা পার্থ-ঘনিষ্ঠ নেতা আচমকা বিধানসভায়, কারণ কী?
SSC Scam Exclusive: ইডি-র সমন পেয়ে বহুবার ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে কয়লাকাণ্ডে হাজিরা এড়িয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। কিন্তু বিধানসভায় তাঁকে দেখা যাচ্ছে বহাল তবিয়তেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে মাথা উঁচু করে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেখানে মলয়কে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মলয়কে নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করবে তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলেই জানিয়েছেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের। এরই মধ্যে পূর্ব বর্ধমানের এক দাপুটে নেতাকে দেখা গেল রাজ্য বিধানসভায়। তিনি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে আছেন।

সম্প্রতি নিউজ ১৮ বাংলার পূর্ব বর্ধমান জেলার সাংবাদিক শরদিন্দু ঘোষের স্ত্রী সংগীতার চাকরি গিয়েছে। মহামান্য আদালতের নির্দেশে অবৈধভাবে চাকরি পাওয়া ৯০৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচারের তালিকা এসসসির তরফে প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতেই নাম ছিল সংগীতার। তিনি গলসির স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষিকা। রাজনৈতিক দলের নেতারা তো বটেই, সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকরাও বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শরদিন্দুর অপকর্মের নিন্দায় সরব হয়েছেন।
আগামী রবিবার বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের সিটি অফিসের উদ্বোধনের আগে সভাপতির কীর্তির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন অনেকেই। রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য, কোনও কিছু ঘটলে সাংবাদিকরাই তো আগেভাগে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দেন। আর এখানে আদালতের নির্দেশে কমিশন এক সাংবাদিকের স্ত্রীকে অবৈধ উপায়ে চাকরি থেকে সরাতে বাধ্য হলো, অথচ সিংহভাগ সাংবাদিক চুপচাপ রয়েছেন। সব কিছু জেনেও তথ্য আড়ালের চেষ্টা!
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই অপকর্ম আটকানো যায় কি? কোথায় নেমেছে সাংবাদিকদের বিশ্বাসযোগ্যতা! তৃণমূল, বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়ায় সারমর্ম এটাই, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের চোর তকমা লাগানো সাংবাদিকদের অপকর্ম এবার সামনে আনতে হবে। অনেক তথ্যও পাঠানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলিং, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগও আসছে শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, একাধিক জেলা থেকে।

দুর্নীতিতে যুক্ত সাংবাদিককে চাকরি থেকে হঠিয়ে দিয়েছে একটি প্রথম শ্রেণির সংবাদমাধ্যম। তবে শরদিন্দু ঘোষের বিষয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ করেনি নিউজ ১৮ বাংলা। শরদিন্দুর স্ত্রী-কে অবৈধভাবে চাকরি করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জেলার দাপুটে তৃণমূল নেতার। যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলবন্দি হতেই তাঁর দাপট কমতে শুরু করেছে। এমনকী এবার পঞ্চায়েত ভোটে তিনি টিকিট পাননি।
ওই নেতা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। শুধু এই বিষয়টিই নয়। বর্ধমানের একটি নামকরা স্কুলে একজনকে গ্রুপ ডি-তে চাকরি করিয়ে দিয়েছিলেন ওই নেতা। আদালতের নির্দেশে ওই ব্যক্তির চাকরি যায়। তারপর আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাকালীনই ওই ব্যক্তি ফের স্কুলের কাজে যোগ দিয়েছেন। ফলে একাধিক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে ওই নেতার।

তৃণমূল সূত্রে খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে নিয়োগ দুর্নীতির পথ-ঘাট মজবুত করতে থাকেন এই নেতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিম খোঁজখবর নেয়। দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর কারণে ওই নেতাকে এবার টিকিট দেয়নি টিএমসি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী-র শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ওই নেতা অতিথি আপ্যায়ণের মিষ্টি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মিষ্টিই এখন টকে গিয়েছে।

পায়ের তলার মাটি আলগা হচ্ছে। সে কারণেই ওই নেতা বিধানসভায় হাজির হন। রাজ্যের মন্ত্রী তথা একটি জেলার দলীয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে হাঁকুপাকু করছিলেন। তিনি যেদিন যান সেদিন আবার বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বিধানসভায় যাননি। কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন। তবে খোকনের অনুপস্থিতিতে তাঁর বিধানসভা সফর নিয়ে জল্পনা চলছে।
ওই তৃণমূল নেতাকে যে কলকাতার সাংবাদিকরা চিহ্নিত করে ফেলবেন সেটাও তিনি ভাবেননি বলেই মনে করা হচ্ছে। নিজে দাঁড়াতে পারেননি। তাই ঘনিষ্ঠদের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে ভালো পদে বসাতেই তাঁর এই বিধানসভা অভিযান বলে শাসক দলেই জল্পনা। যদিও তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যে যেখানেই দরবার করুন লাভ হবে না। প্রার্থী বাছাইয়ের মতো সবদিক দেখে ভালো ভাবমূর্তির লোকদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বোর্ড গঠনে।












Click it and Unblock the Notifications