Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

শান্তনুকে বহিষ্কারের ঘোষণায় ঘেঁটে ঘ শশী-ব্রাত্য! দুর্নীতি প্রশ্নে দ্বিচারিতায় তৃণমূলের অন্দরে কাঁপুনি?

শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি-র হাতে গ্রেফতার হওয়ার ৫ দিনের মধ্যে থেকে তাঁকে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পদ থেকে সরানোর কথা ঘোষণা করলেন শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু। যদিও দলের দুই সিনিয়র মন্ত্রী এরপর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই ঘেঁটে ঘ। দিতেই পারলেন না সদুত্তর।

শোভনদেব চিনতেন না, নামও শোনেননি!

শোভনদেব চিনতেন না, নামও শোনেননি!

শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষস্তরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা স্তরে জল্পনা চলছে। যদিও শান্তনুর গ্রেফতারির পর থেকে দল নানাভাবে দূরত্ব বাড়ানোর কৌশল নিতে থাকে। যদিও একেকজন নেতার একেকরকম বক্তব্যে দলের মধ্যে অস্বস্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, শান্তনুকে চেনেন না। নাম শোনেননি। এমনকী শান্তনুকে কোনও পদে নিয়োগের চিঠিও দেওয়া হয়নি বলে দাবি ছিল কৃষিমন্ত্রীর।

দ্রুত বার্তায় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, মত স্নেহাশিসের

দ্রুত বার্তায় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, মত স্নেহাশিসের

রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী তথা তৃণমূলের মুখপাত্র স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেছিলেন, আদালতের রায়ই দল গ্রহণ করবে। শান্তনুর মতো হাজার হাজার জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। তাঁকে সরিয়ে দ্রুত বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। কেউ যদি কোনও অন্যায় করে থাকেন তা দলের নির্দেশে নয়। সে কারণে কেউ যদি কোনও নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল কংগ্রেস দলের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে তা বেমানান নয়।

শশী-ব্রাত্য করলেন বহিষ্কারের ঘোষণা

শশী-ব্রাত্য করলেন বহিষ্কারের ঘোষণা

আজ সাংবাদিক সম্মেলনে শশী পাঁজা জানিয়ে দেন, দুর্নীতি কাণ্ডে জড়িত যুব নেতা কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল যুব কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হলো। শান্তনু যে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সেটা শশী বা ব্রাত্য জানেন। পার্টি অফিস থেকে টাকা উদ্ধার হয়নি। তাই দুর্নীতির দায় যে ধৃতদের নিতে হবে, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে স্পষ্ট করে দেন রাজ্যের দুই সিনিয়র মন্ত্রী।

পদে না থেকেও কীভাবে অপসারণ?

পদে না থেকেও কীভাবে অপসারণ?

কুন্তল ঘোষ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। সেই পদ থেকে তাঁকে সরানোটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় তো তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পদে ছিলেন না অপসারিত হওয়ার মুহূর্তে! সায়নী ঘোষ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হওয়ার পর যে নতুন কমিটি গড়েন তাতে কোনও পদেই ছিলেন না শান্তনু।

হুগলি জেলা পরিষদের পদে বহাল

হুগলি জেলা পরিষদের পদে বহাল

তৃণমূল কংগ্রেস এক পদ এক নীতি যখন নেয় তখন শান্তনুকে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি রাখা হয়নি। তিনি হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ। ফলে প্রশ্ন ওঠে, শান্তনুকে কি জেলা পরিষদের পদ থেকে সরানো হলো? জবাবে শশী পাঁজা বলেন, ওটা নির্বাচনে জিতে আসা পদ। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তখন দেখা যাবে। অর্থাৎ গ্রেফতারির পরও শান্তনু জেলা পরিষদের পদে থাকছেন। তাহলে বহিষ্কারটা হলেন কোত্থেকে?

সাসপেনশন নিয়ে হাসাহাসি!

সাসপেনশন নিয়ে হাসাহাসি!

এই বহিষ্কার নিয়ে শুরু হয়েছে হাসাহাসি। শান্তনু-ঘনিষঠদের দাবি, এবার খেলা জমবে! কুণাল ঘোষ যখন গ্রেফতার হয়েছিলেন তখন তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করার কথা জানানো হয়েছিল। যদিও কুণালের দাবি ছিল, তিনি কোনও চিঠি পাননি। জেলে থাকার সময় দলকে চাঁদাও দিয়েছেন। সেবার সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থ যখন শিক্ষা দুর্নীতিতে গ্রেফতার হন তখন কুণালও নানা কথা বলেছিলেন। পার্থকে তড়িঘড়ি দল সাসপেন্ড করে।

দ্বিচারিতার প্রশ্নে ঘেঁটে ঘ

দ্বিচারিতার প্রশ্নে ঘেঁটে ঘ

পার্থকে সাসপেন্ড কিংবা কুন্তল ও শান্তনুকে বহিষ্কার তো না হয় হলো। তৃণমূল যে ঘেঁটে ঘ তা আরও একবার স্পষ্ট দলের কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ার মধ্যে। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে দল বহিষ্কার করেনি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য আজ বলেন, তিনি পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তা থেকে আগেই সরানো হয়েছে। তিনি দলের পদে নেই। বিধায়ক! বিধায়ককে সরানো যায় না।

অনুব্রত-বাউন্সার

অনুব্রত-বাউন্সার

এটা ঠিক, মানিকের মতো পার্থও তো বিধায়ক পদে রয়েছেন। আবার গরু পাচারকাণ্ডে গ্রেফতারির পর অনুব্রত মণ্ডল এখনও বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি। স্নেহের কেষ্টর হয়ে বারবার ব্যাট ধরেছেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শশী ও ব্রাত্য অনুব্রত-প্রশ্নে বলেন, তাঁর ব্যাপারেও দল যথাসময়ে পদক্ষেপ করবে। এখানেই প্রশ্ন, দুর্নীতি প্রসঙ্গে কখনও দ্রুত, কখনও ধীরে চলো নীতি কেন?

ধোঁয়াশায় কি দলের অন্দরে কাঁপুনি?

ধোঁয়াশায় কি দলের অন্দরে কাঁপুনি?

স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা বলছেন, এতেই প্রমাণ হচ্ছে তৃণমূলের দ্বিচারিতা। পার্থ দলের পদ থেকে সরলেও বিধায়ক। মানিকও বিধায়ক। আবার শান্তনু যে পদে নেই তা থেকে তাঁকে বহিষ্কার করার বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছে না অনেকেরই। তৃণমূল মুখপাত্রদের কথায়, হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে শান্তনুকে সরানো হয়নি। আবার শান্তনুর পরিবারের কাছে সাসপেনশনের চিঠিও আসেনি। ফলে ধোঁয়াশা থাকছেই। তার কারণ এই দুর্নীতি কাণ্ডে দলের অন্দরে কাঁপুনি কিনা তা বলবে সময়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+