শ্রেয়স আইয়ারই ভারতের নতুন টি২০ অধিনায়ক, আয়ারল্যান্ড সফর থেকে শুরু নয়া যুগ
ভারতীয় টি২০ ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটছে। বিসিসিআই-এর অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সাম্প্রতিক বৈঠকে নেওয়া এক বড় সিদ্ধান্তে সূর্যকুমার যাদবের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন শ্রেয়স আইয়ার। মার্চ ২০২৬-এ ভারতকে সফলভাবে টি২০ বিশ্বকাপ ট্রফি জেতানোর পরেও, ব্যক্তিগত ফর্মের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অধিনায়কত্ব থেকে সূর্যকুমারকে সরিয়ে দেওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
বিসিসিআই-এর এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত বছরের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রোহিত শর্মার পরিবর্তে শুভমান গিলকে ওডিআই অধিনায়ক করা হয়েছিল। সেই একই কঠোর ধারা অব্যাহত রেখে এবার টি২০ দলেও নেতৃত্বের বড় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা।

নতুন ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আইয়ারের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আয়ারল্যান্ড সফরের মাধ্যমে। আগামী ২৬ ও ২৮ জুন বেলফাস্টে দুটি টি২০ ম্যাচ খেলবে ভারত। এরপরই ১ থেকে ১১ জুলাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের কঠিন সিরিজ রয়েছে। আগামী শনিবার ঘোষিত হতে যাওয়া এই দলটির মধ্য দিয়ে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যার মূল লক্ষ্য ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং পরবর্তী টি২০ বিশ্বকাপ।
ভারতীয় নির্বাচকদের এই কৌশলের পিছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। ২০২২ সালের স্বর্ণপদক রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ভারত যে তাদের প্রথম সারির শক্তিশালী দলই পাঠাবে, তা বিসিসিআই স্পষ্ট করে দিয়েছে। মূলত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত পরবর্তী টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ধাপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারকে বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে তাঁর আইপিএলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং কৌশলী নেতৃত্বের দক্ষতা। ২০২৪ সালে কেকেআর-কে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ২০২০ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস এবং ২০২৫ সালে পাঞ্জাব কিংসকে ফাইনালে তুলে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আইপিএল ২০২৫-এ ১৭৫.০৭ স্ট্রাইক রেটে ৬০৪ রান এবং ২০২৬-এ ১৬৮.৮১ স্ট্রাইক রেটে ৪৯৮ রান তাঁর ব্যাটিংয়ের ক্ষুরধার রূপ তুলে ধরেছে।
যদিও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি জাতীয় দলের একাদশের বাইরে ছিলেন, তবুও তাঁর বর্তমান ফর্ম উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না নির্বাচকদের। দৌড়ে তিলক বর্মা বা ইশান কিষাণ থাকলেও, শ্রেয়সের অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই দায়িত্বে এগিয়ে রেখেছে। নতুন অধিনায়কের অধীনে একটি স্থিতিশীল দল তৈরি করতে নির্বাচকরা তাঁর ডেপুটি হিসেবে তিলক বা ইশানকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন।
সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়াটা অপ্রত্যাশিত মনে হলেও, এটি টিম ম্যানেজমেন্টের কঠোর মনোভাবেরই প্রতিফলন। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার বিশ্বকাপ জিতিয়ে দলকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিলেও, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাটিংয়ের পড়তি ছন্দই এই পরিবর্তনের মূল কারণ। সব মিলিয়ে নির্বাচকরা ২০২৮ সালের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ফোকাস করছেন, যেখানে বর্তমান দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ভারসাম্যের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications