মমতার পদক্ষেপ থেকে সরকারি কর্মচারীরা শিক্ষা নিন, পরামর্শ শুভেন্দুর, মুখ্যমন্ত্রীর হার দেখছেন সুকান্ত
RG Kar Incident: আরজি কর কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের চারটির মধ্যে তিনটি দাবি মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরানো হচ্ছে কলকাতার নগরপাল, ডিসি নর্থ, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা।
এই অধ্যায় থেকে সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কথায়, বাংলার মানুষের আন্দোলনের চাপে হেরে গেলেন মমতা।

শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, বৈঠকের কার্যবিবরণীতে স্পষ্ট, অচলাবস্থা কাটাতে দুই পক্ষই কম্প্রোমাইজের পথে হেঁটেছে। যদিও কয়েকজন আধিকারিককে সরালেই ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তথ্যপ্রমাণ লোপাটে ভূমিকা পালনকারীদের জেলে পাঠানো উচিত।
শুভেন্দুর মতে, পৈশাচিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া শুধুমাত্র কয়েকজন আধিকারিকের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের রাজ্য়ে সকলেই জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছা়ড়া পিন থেকে হাতি, কিছুই নড়ানো যায় না।
ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অন্যতম দায়ী বলে তোপ দেগেছেন শুভেন্দু। তিনি লিখেছেন, মমতার পদত্যাগও যথেষ্ট নয়। গোটা বিষয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়েও উপযুক্ত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, সরকারি কর্মচারীদের প্রতিও উল্লেখযোগ্য বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
The Minutes of the Meeting suggest that a compromise has been reached between both the parties to end the stalemate.
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) September 16, 2024
However, for the ends of Justice, mere transfer of few Officers won't be sufficient. Those who played an important role in tampering evidence must be put behind… pic.twitter.com/i86PICXBK3
শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের বলব এই অধ্যায় থেকে অনুগ্রহ করে শিক্ষা নিতে। কেন না সময় এলে, নিজেকে বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কর্মচারীদের বলিদানের ভেড়া মনে করে ফিরেই তাকাবেন না। সে কারণে সংবিধানের বর্ণিত নির্দেশিকা, আইন মেনে ন্যায়পরায়ণ থেকেই দায়িত্ব পালন করুন।
একইসঙ্গে শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, সজাগ থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে একইভাবে পরবর্তীকালে সরকারি কর্মচারীদের কাঁধেই দোষের বোঝা চাপানো হবে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে সরকারি আধিকারিকদেরই বলির পাঁঠা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে বাংলা তথা ভারত তথা বিশ্বে উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস ফর আরজি কর স্লোগান তুলছেন, তাঁদের কাছে শেষ ভরসার জায়গা সুপ্রিম কোর্ট বলেই মনে করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত না হওয়া অবধি রাজ্য বিজেপি লড়াই চালাবে বলেও আশ্বস্ত করেন শুভেন্দু।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, শুধু জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন নয়, শহর-গ্রাম-মফস্বলে যে ন্যায়বিচার চেয়ে আন্দোলন চলছে তার চাপে পড়ে কিছু ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০ কোটি মানুষের আন্দোলনে তিবি ভয় পেয়ে পদক্ষেপ করেছেন। তবে না আঁচালে বিশ্বাস নেই।
সুকান্ত বলেন, যতক্ষণ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন না হচ্ছে ততক্ষণ বিশ্বাস নেই। টালা থানার প্রাক্তন ওসি তথ্যপ্রমাণ লোপাটে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার। বিনীত গোয়েল আগে সিবিআইয়ে ভরসা রেখেছিলেন। বলেছিলেন, সিবিআই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের প্রমাণ পেলে পদক্ষেপ করুক। ফলে তথ্যপ্রমাণ লোপাটকারীদের কাউকে সরালে হবে না। শাস্তি দিতে হবে। বিনীতকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে হবে না। তাঁকে জেলে যেতে হবে বলে মনে করি। যদি তাঁর যোগ মেলে এবং মিলবে বলেই বিশ্বাস।
সুকান্ত আরও বলেন, কয়েকজন স্বাস্থ্য অধিকর্তাকেও সরানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসলে তিনি বাংলার মানুষের কাছে হেরে গেলেন। ঘুণ ধরা ব্যবস্থা তিনিই তৈরি করেছেন। সরকারি কর্মচারীরা আনন্দে বলির পাঁঠা হচ্ছেন। বাংলার মানুষ বলির পাঁঠা হতে চান না।












Click it and Unblock the Notifications