নন্দীগ্রামের ধাঁচে জমি আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ ভাঙড়, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যাচ্ছেন রেজ্জাক!

পুলিশ অবরোধ তুলতে যেতেই অগ্নিগর্ভ এলাকা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ চলছে। নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের ধাচে এই আন্দোলন চালানো হচ্ছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা , ১৭ জানুয়ারি : প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করে জোর করে কেড়ে নেওয়া জমি তুলে দিতে হবে জমিদাতাদের হাতে। এই দাবিতেই গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ চলছিল। সকাল থেকেই রাস্তা কেটে গাছের গুঁড়ি ফেলে দফায় দফায় অবরোধ চলে এলাকায়। পুলিশ অবরোধ তুলতে যেতেই অগ্নিগর্ভ এলাকা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ চলছে। তিন দিক দিয়ে পুলিশকে ঘিরে রাখা হয়েছে। নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের ধাচে এই আন্দোলন চালানো হচ্ছে।[পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর, তবু চলছে লাগাতার অবরোধ]

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভ প্রশমনে মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লাকে ঘটনাস্থলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নেত্রীর নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভে প্রশমনের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমি বাহিনীতে নয়, আলোচনায় বিশ্বাসী। কিন্তু এলাকার বিধায়ক হয়েও তিনি কেন আগে আসেননি এলাকায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে।[মুখ্যমন্ত্রী বা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে এসে পাওয়ার গ্রিড বন্ধের আশ্বাস দিতে হবে, নতুবা আন্দোলন চলবে]

নন্দীগ্রামের ধাঁচে জমি আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ ভাঙড়, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যাচ্ছেন রেজ্জাক!

এদিন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়। পুলিশও পাল্টা লাঠাচার্জ করে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে খামুরাই, পদ্মপুকুর-সহ বিভিন্ন গ্রামে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছে। মারধর করছে মহিলা-শিশুদেরও। এদিন জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও জখম হয়েছেন। পুলিশের হাতে সাংবাদিককে আক্রান্ত হতে হয় বলে অভিযোগ।[অশান্ত ভাঙড়, নিজের এলাকায় ঢুকতেই পারলেন না রেজ্জাক]

সোমবার জমি আন্দোলনের নেতা শামসুল হক ওরফে শেখ কালু-সহ দুই নেতাকে গ্রেফতার করায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দিলে অবরোধ উঠে যায়। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের দফায় দফায় পথ অবরোধ চলে। জমি ফেরতের দাবিতে এই আন্দোলন চলতে থাকে। সকাল থেকে শুরু করে হাড়োয়া রোড অবরুদ্ধ হয়ে আছে।[জোর করে জমি অধিগ্রহণ নয়, প্রয়োজনে পাওয়ার গ্রিড সরানো হবে : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়]

ভাঙড়ের এই ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতিও। সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে, সিপিএম-কংগ্রেস উভয়পক্ষই। সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড় উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে এই পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী একটিবারও এই সঙ্কট মেটাতে গুরুত্ব দেননি।

এখন অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমিরক্ষায় আন্দোলনে নেমে লাইম লাইটে এসেছিলেন। এখন সরকারে থেকে তিনি নীরব কেন? কেন মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন না? তিনি একটিবারও না এসে পুলিশ ও র‍্যাফ পাঠালেন, তাতেই জ্বলছে গ্রাম। মমতার সরকার গ্রামে উত্তেজনার বীজ বপণ করেছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এদিন ঘটনাস্থলে যান। গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত কররা চেষ্টা করেন। তিনি বলেন প্রশাসনের অতি সক্রিয়তাতেই এই কাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। 'উন্নয়নের কাণ্ডারি' মমতার সরকারের অধীনে রাজ্যে এইসব কী চলছে!

পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের জমি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ-অবস্থান চালাচ্ছেন। দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করে জমি ফেরত দিতে হবে এই দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ভাঙড়ের মাছিডাঙা, খামারআইট-সহ একাধিক গ্রাম। বিক্ষোভ তুলতে গিয়ে মার খেতে হয় পুলিশকেও।

এরপরই বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের নির্মাণকার্য আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও উত্তেজনার পারদ কমছে না। সোমবার থেকেই নতুন করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+