Panchayat Election 2023: দলের স্বার্থে আত্মত্যাগ! তবে পঞ্চায়েতে তৃণমূলের পাশে নেই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক
পঞ্চায়েত যত এগিয়ে আসছে, ততই বিড়ম্বনা বাড়ছে তৃণমূলের। দলের রফে চিকিট না পেয়ে তৃণমূল বিধায়কের কন্যা নি্র্দল প্রার্থী হয়েছিলেন। মনোয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলের স্বার্থে সেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিলেও পঞ্চায়েতে বিধায়ক দিদির পাশে থাকবেন না বলে ঘোষণা করে দিলেন।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে তৃণমূলকে এই অস্বস্তিকর বার্তা দিলেন দলেরই বিধায়ক। মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের স্বার্থে আত্মত্যাগ করেছি। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে ময়দানে থাকছি না। এবার নির্বাচনে তিনি বসে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিধায়িকা শাহিনা মমতাজ বলেন, কার হয়ে নির্বাচনে লড়ব। একজন প্রার্থীও পেলাম না। দলের বিরোধিতা করব না বলেই আমার মেয়ে নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তার নাম প্রত্যাহার করে নিলাম। দলের স্বার্থেই এই কাজ করেছি। কিন্তু এবার নির্বাচনী প্রচারে থাকছি না, নির্বাচনের অন্য কাজেও থাকছি না।
মঙ্গলবার বিডিও অফিস মায়ের সঙ্গে এসে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন নাজমিন। তারপরই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, এত অসম্মানিত কখনো হইনি। এরপর বিধায়িকা মা মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, দলের স্বার্থে এই আত্মত্যাগ। এখানে উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিলি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাসা বাঁধে।

টিকিট না পেয়ে শুধু দলের নেতা-কর্মীরাই নন বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন বিধায়করাও। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ বেগম, রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী ও জলঙ্গীর বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক।
ভরতরপুররে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর প্রতিনিয়ত দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে চলেছেন। গতকালই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দলের জেলা সভানেত্রী ও চেয়াম্যানকে অপসারিত না করলে তাঁরা তৃণমূল অফিস ঘেরাও করবেন। এদিন আবার তিনি জানিয়েছেন, নির্দলদের হয়ে প্রচারে নামবেন।

শাহিনা মমতার তো জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে বলে যাবেন, তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী কাজে অংশ নেবেন না। অন্যদিকে বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী পঞ্চায়েতে টিকিট বিতর্কে দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আবার আগে থেকেই নিজেকে বিদ্রোহী ঘোষণা করা ইসলামপুরের বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি নির্দলের সমর্থনে প্রচার চালাবেন।
ফলে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যাও বাড়ছে। পঞ্চায়েত পর্বে ইতিমধ্যেই ৬ জন বিধায়ক বেসুরো বাজছেন। তাদের মধ্যে আবার চার জন মুর্শিদাবাদের। অধীর-গড়ে তৃণমূল কি তবে ফের নড়বড়ে অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে? সেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে চাপ বাড়বে তৃণমূলের।












Click it and Unblock the Notifications